মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

ডিবি পরিচয়ে প্রতারণার নেটওয়ার্ক

ডিবি পরিচয় দিয়ে ভয়ঙ্কর প্রতারণায় নেমেছে ওরা। পুলিশের মতো সোর্স রয়েছে। রয়েছে নিজস্ব বাহিনী। সেখানে ডিসি, এডিসি, এসি থেকে শুরু করে কনস্টেবল পর্যন্ত সবাই আছে। আছে অস্ত্রশস্ত্র, ওয়াকিটকি, ডিবির জ্যাকেট, হ্যা-কাফ। এমনকি গাড়িও। এ এক ভয়ঙ্কর প্রতারকচক্র। দেখে বোঝার উপায় নেই এরা আসল ডিবি নয়। মহানগরীর বিভিন্ন অঞ্চলে সাধারণ মানুষকে তল্লাশির নামে জিম্মি করে এরা। পরে মামলায় ফাঁসিয়ে দেবার ভয় দেখিয়ে লুটে নেয় লাখ লাখ টাকা। প্রতারণার শিকার কয়েকজন পুলিশের কাছে গেলে তদন্তের পর বেরিয়ে আসে এই ভয়ঙ্কর প্রতারকচক্ররের নেটওয়ার্ক। চক্রটি পুলিশের সব সরঞ্জাম ব্যবহার করে ডিবি পরিচয়ে প্রতারণা করে আসছিল। গত ১৯ মে রাতে বনশ্রী ও রমনা এলাকা থেকে এমনই একটি চক্রের ১৬ জনকে আটক করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ডিবি পুলিশ বলেছে, চক্রটি মহানগরীতে ডিবি পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণাসহ নানা অপরাধমূলক কাজ করেছে। এদের কাছে উল্লিখিত সরঞ্জামাদি ছাড়াও গুলী, আর্মির পোশাক, নকল আইডি কার্ড ইত্যাদি পাওয়া গেছে।

ডিবি পুলিশ, র‌্যাব এবং অন্যান্য নিরাপত্তাবাহিনীর পরিচয়ে মানুষকে জিম্মি করা, টাকাকড়ি লুটে নেয়া, এমনকি লোকজনকে রাতের আঁধারে তুলে নেয়াসহ গুম-হত্যার অভিযোগও রয়েছে। প্রকাশ্য দিবালোকে বাসা থেকে তুলে নেবার পর বন্দুকযুদ্ধে নিহত হবার দুঃখজনক খবরও প্রচার করা হচ্ছে। কেউ অপরাধী হলে বিচারে তার সাজা হতে পারে। এমনকি দেশের প্রচলিত আইনে মৃত্যুদণ্ড হওয়াও অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু কাউকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে যাবার পর তার কোনও খোঁজ না পাওয়া বা বন্দুকযুদ্ধে মারা যাওয়া শুধু অপ্রত্যাশিত নয়, দুর্ভাগ্যজনকও। স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশে এমন ঘটনা যেমন অমানবিক তেমনই তা ভীষণভাবে অনাকাক্সিক্ষও। তবে কি ধরে নিতে হবে যে, অস্ত্রের মুখে বাসা থেকে ধরে নেবার পর নিখোঁজ ও বন্দুকযুদ্ধে নিহত হবার যেসব ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে সেগুলোর সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছাড়াও অন্য কোনও পক্ষের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে? বনশ্রী ও রমনা এলাকা থেকে ভুয়া ডিবি হিসেবে এই নেটওয়ার্কের যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে এদেরই কোনও গ্রুপ এমন দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা কি ঘটাতে পারে না?

আরও প্রশ্ন তোলা যেতে পারে যে, পুলিশ, ডিবি, র‌্যাব, সেনাবাহিনী বা অন্যকোনও নিরাপত্তা সংস্থার পোশাক, টুপি, মনোগ্রাম বা ব্যাচ, হ্যা-কাফ ইত্যাদি ওরা কীভাবে পায়? এসব নিশ্চয়ই মুড়ি-মোয়ার মতো পথেঘাটে পাওয়া যাবার কথা নয়। যেকোনও দোকান বা বাজারেও ডিবি পুলিশ, র‌্যাব বা আর্মির ব্যবহƒত সরঞ্জাম, পোশাক বা ব্যাচ বেচাকেনাও হয় না। তাহলে দুষ্কৃতিকারীরা এগুলো কীভাবে পায়? তবে কি কোনও নিরাপত্তাসংস্থার কোনও সদস্যের সঙ্গে এদের বেআইনী যোগসাজশ রয়েছে? বিষয়টি তদন্ত করে দেখা যেতে পারে। শুধু পোশাক, হ্যা-কাফ, ব্যাচই পাওয়া যায়নি। ভুয়া ডিবি টিমের হেফাজতে তিনটি গাড়িও পাওয়া গেছে। হয়তো সেগুলোতে পুলিশ বা অন্যকোনও সংস্থার স্টিকারও লাগানো ছিল। তাহলে পরিস্থিতি কতটা ভয়ঙ্কর অনুমান করুন

এদের দ্বারা সাধারণ জনগণের কতটা ক্ষতিসাধন হতে পারে ভাবা যায়?

ডিবি পুলিশ, র‌্যাব বা কোনও নিরাপত্তাবাহিনীর পরিচয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে কারুর জড়িত থাকা মানে শুধু ওই সংস্থারই বদনাম নয়। দেশের গোটা নিরাপত্তাব্যবস্থাকেই একরকম চ্যালেঞ্জ করে বসা। কাজেই ডিবি পুলিশের মতো সংস্থার পরিচয়ে মহানগরীতে দাপিয়ে বেড়ানো এবং মানুষকে জিম্মি করে বা মামলার ভয় দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়া সাধারণ কোনও প্রতারণা বা অপরাধ নয়। এ অপরাধ ভয়ঙ্কর এবং রাষ্ট্রব্যবস্থাকেও একরকমের চ্যালেঞ্জ। কাজেই আটককৃতদের মামুলি প্রতারক ভাববার অবকাশ নেই। এদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক কঠোরতর শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ