শুক্রবার ২২ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

জয় পেয়েছে আবাহনী লিমিটেড ও প্রাইম দোলেশ্বর

স্পোর্টস রিপোর্টার : প্রিমিয়ার বিভাগ ক্রিকেট লিগে জয় পেয়েছে আবাহনী লিমিটেড ও প্রাইম দোলেশ্বর। বিকেএসপিতে জয় পেয়েছে আবাহনী লিমিটেড। লিজেন্ডস অব রুপগঞ্জকে ৪৯ রানে হারিয়েছে আবাহনী। এক ম্যাচের ব্যবধানে আরও একটি ঝড়ো সেঞ্চুরি করেছেন লিটন। সাদমান ইসলামকে নিয়ে উদ্বোধনী জুটিতেই তুলেছেন দুশর বেশি রান। আবাহনী তুলেছে ৩৩৩। টপ অর্ডারের ব্যর্থতায় রান তাড়ায় শুরু থেকেই ছিটকে পড়ে রূপগঞ্জ। নাঈমের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে শেষ পর্যন্ত তুলতে পারে তারা ২৮৪। টস জিতে ব্যাটিংয়ে আবাহনী উদ্বোধনী জুটিতেই অনেকটা গড়ে দেয় ম্যাচের ভাগ্য। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা লিটন রূপগঞ্জের বোলারদের তুলোধুনো করেন সাদমানকে নিয়ে। ৩৮ বলে অর্ধশতক করেন লিটন, ৭৮ বলে সেঞ্চুরি। এক ম্যাচ আগেই সেঞ্চুরি করেছিলেন ৭৯ বলে। মাঝের ম্যাচটিতে ৫০ করেছেন ৩৮ বলে। আরেক পাশে সাদমানই খেলছিলেন সমান তালে। ৭ চার ও ৫ ছক্কায় ৮৩ বলে ৮৫ রানে সাদমানের বিদায়ে ভাঙে জুটি। দুজনে তুলে ফেলেছেন ততক্ষণে ১৭১ বলে ২০৭! এবরের লিগে উদ্বোধনী জুটিতেই এটিই প্রথম দুশ রান। খানিক পর বিদায় নেন লিটনও। নামের পাশে তখন ১০১ বলে ১৩৬! ২০ চারের সঙ্গে মেরেছেন ৩টি ছক্কা। দুই ওপেনারের পর সেভাবে বড় ইনিংস খেলতে পারেননি কেউ। তুলতে পারেননি ঝড়। শেষ ওভারে চার উইকেট হারিয়ে অলআউটও হয়ে যায় আবাহনী। তবে ওপেনারদের গড়ে দেয়া ভিত্তির পর দলের বড় রান অবধারিতই ছিল। শেষ দিকে ১৭ বলে ২৩ করেছেন শুভাগত। শেষ ১০ ওভারে ৮ উইকেট হাতে নিয়ে শুরু করেও আবাহনী রান তুলতে পারে মাত্র ৬৪। তার পরও সংগ্রহ ৩৩৩! রান তাড়ায় ৮ ওভারের আগেই রূপগঞ্জ হারায় ৩ উইকেট। বিশাল রান তাড়া অসম্ভব হয়ে যায় তখনই। নাঈম চেষ্টা করেছেন নিজেকেও ছাড়িয়ে। টানা দুটি জুটিতে তুলেছেন শতরান।  মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে পঞ্চম জুটিতে ১০০। তবে ইনিংস মেরামত করতেই সেই জুটি আসে ১২৯ বলে। হামিদুল ইসলামের সঙ্গে পরের জুটিতে ১০০ করেছেন ৭৫ বলে। ৯৯ বলে সেঞ্চুরি ছুঁয়েছেন নাঈম। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ষষ্ঠ সেঞ্চুরিটি তার ক্যারিয়ার সর্বোচ্চও। ১১৯ বলে ১১ চার ও ৩ ছক্কায় ১২৩। কিন্তু আবাহনী রান ছিল একটু বেশিই বেশি! নাঈমের ইনিংসের পরও তাই সেভাবে জয়ের সম্ভাবনা জাগাতে পারেনি রূপগঞ্জ। এই ম্যাচের দুই সেঞ্চুরিয়ান এখন লিগের সফলতম দুই ব্যাটসম্যান। ৯ ইনিংসে ৬৪.২২ গড়ে ৫৭৮ রান লিটনের। সমান ইনিংসে ৬১.৩৩ গড়ে নাঈমের রান ৪৯১। দুটি করে সেঞ্চুরি দুজনেরই। তবে এই ম্যাচের মতোই অবস্থা দুজনের দলের। ১০ ম্যাচের ৮টি জিতল আবাহনী। রূপগঞ্জের জয়-হার সমান ৫টি করে। ফতুল¬ায় জয় পেয়েছে প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাব। খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতিকে ১০ উইকেটে হারিয়েছে প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাব। দারুণ বোলিংয়ে খেলাঘরকে বেধে ফেলে তারা ১৭৮ রানেই। সেই রান তাড়া করে ফেলে তারা তুড়ি বাজিয়েই। ১০৭ রানে অপরাজিত থাকেন ইমতিয়াজ। এমনিতে ধীরে-সুস্থে খেলার জন্য পরিচিত হলেও অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান এদিন খেলেছেন বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। সেঞ্চুরি করেছেন ৯১ বলে! অধিনায়ক নাফিস ইকবালকে ফিরে পেলেও এদিন শুরু থেকে ধুঁকেছে খেলাঘরের ব্যাটিং। নতুন বলে আরাফাত সানি নিজের প্রথম ওভারেই নেন উইকেট। সঙ্গে ফরহাদ রেজা ও দেলোয়ার হোসেনের বোলিংয়ে ৬৯ রানে হারায় ৪ উইকেটে। যা একটু পাল্টা জবাব দিয়েছেন অমিত মজুমদার। মৌসুমে খেলাঘরের সেরা ব্যাটসম্যন এদিনও দারুণ খেলে ৮৬ বলে করেছেন ৭৩। লংকান সুরজ রনদিভের সঙ্গে ৫ম উইকেটে তুলেছেন ৭০ রান। এই দুজনের বিদায়ের পর আবার ভেঙে পড়ে ইনিংস।  শেষ ৫ উইকেট পড়েছে ১১ রানে। নতুন বলে শুরু করা সানি ৮ ওভারে মাত্র ১৪ রান দিয়ে নিয়েছেন ৩ উইকেট। লিগের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির উইকেট এখন ২৬টি। শেষ দিকে ছোবল দিয়েছেন চতুরঙ্গা ডি সিলভা। ৩ উইকেট নিয়েছেন এই শ্রীলঙ্কানও। সহজ লক্ষ্যটা আরও সহজ হয়েছে দোলেশ্বরের দুই ওপেনারের ব্যাটে। স্ট্রোকের ফোয়ারা ছুটিয়েছেন ইমতিয়াজ, আব্দুল মজিদ দিয়ে গেছেন সঙ্গ। তাতেই শেষ খেলা। ১০ চার ও ৩ ছক্কায় ৯৯ বলে ১০৭ রানে অপরাজিত ইমতিয়াজ। তার চতুর্থ লিস্ট ‘এ’ সেঞ্চুরি। ১০১ বলে ৬৪ রানে অপরাজিত মজিদ। এবারের লিগে ১০ উইকেটের জয় এটিই প্রথম জয়। ১০ ম্যাচে দোলেশ্বরের জয় ৭টি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ