মঙ্গলবার ২৬ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

হারিয়ে গেল সে...

-শায়লা আক্তার তাইয়্যেবা
কে গো তুমি, কে কথা বলে ? আমার সালামের উত্তরে এভাবেই প্রথম পরিচয় হয়েছিল সেই চঞ্চলা-চঞ্চলা, হাস্যকুল মেয়েটির সাথে। তার পর নিমিষেই মনে হয়েছিল কত যে আপন হয়ে গেছি আমি ওর কাছে। প্রথম দেখাতেই খুব বেশি ভালো লেগেছিল ওকে। কি জানি। তাই হয়ত এত কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হলো আমাকে। যাই হোক যা বলছিলাম- ওর কথা শুনে মনে হলো অনেক অনেক আদরের ধনীর দুলালী আর বড় লোকের বউ ও। ওর প্রতি মায়া বাড়ার আর একটা কারণ হলো ও ছিলো সন্তান সম্ভবা। ও বলাই তো হয়নি ওর সাথে আমার প্রথম পরিচয় হয়েছিল আমাদের হলের গণরুমে। First Year এ ভর্তি হয়ে সেদিনই ও প্রথম হলে উঠেছিল। এ সময় গর্ভাবস্থায় এমনিতেই মানুষ অসুস্থ থাকে, দরকার হয় Extra Care এর, আর সেই অবস্থায় ও এসেছে হলের মত একটা কষ্ট সহিষ্ণু জায়গায়।
যেখানে আমাদের মত ঝামেলাহীন মানুষদেরই থাকতে হয় অনেক কষ্ট করে আরও ছাড়বে ? আমি অবাক হচ্ছিলাম, এত কষ্ট হচ্ছে ওর, তবুও কোন বিরক্তি নেই মুখে- মায়াময় হাসি নিয়েই কথাগুলো বলে যাচ্ছে-অবলিলায়। এই দেখ, যার গল্প বলছি তার নামই তো বলা হয়নি এখনও। ওর নাম কুয়াশা। কি আশ্চর্য। আমার কি মনে হয়েছিল- ওর নাম হওয়া উচিৎ ছিলো রোদেলা, অথবা এ ধরনেরই একটা কিছু। প্রথম দিনের আলাপ শেষ করে ফিরে এলাম নিজের রুমে।
বৃষ্টি ভেজা বিকাল বেলা বিষন্ন মন নিয়ে একা একা জানালার বসে আছি। হঠাৎ করেই দরজার করাঘাত। আর বাইরে থেকে ভেসে আসলো- আসস্ালামু-আলাইকুম, আব্বু কেমন আছো তুমি? কয়দিন  তোমাকে দেখিনা, তুমি তো আর গেলেনা আমাকে দেখতে, তাই তোমাকে দেখার জন্য অন্য এক জনের কাছ থেকে তোমার রুম নাম্বার শুনে নিজেই চলে এলাম তোমাকে দেখতে..। এক নিঃশ্বাশে কথাগুলো বলে ফেললো কুয়াশা। আমি শুধু অবাক হয়ে দেখছিলাম। আমার বেশি ভালোবাসে বলে প্রথম দিন থেকেই ওর দাবি। আমাকে তুমি বলে ডাকবে, তাই আর না করিনি। অনেক দিন পরে এত আন্তরিকতা পূর্ণ আবেগ ময় ভালোবাসার কথা শুনে আমার কষ্টগুলো সব হাওয়ায় উড়ে গেলো। শুরু হলো ওর গল্প বলা। আমি শুধু মুগ্ধ হয়ে শুনছিলাম। হঠাৎ করে চিৎকার দিয়ে ভয়ে জড়িয়ে ধরলো আমাকে। অনেক বুঝানোর পর শান্ত হলো। ও বলছিলো ওর নাকি খুব ভয় লাগে। সাধ থাকলেও সাধ্য থাকে না অনেক কিছুরই। তাই আমার কাছে ওকে আর রাখতে পারলাম না। আবার গণরুমেই থাকার জন্যই চলে গেলো। কথা বলতে বলতেই বল্লো ওর খুব পায়েশ পছন্দ। যাই হোক ওর কথাগুলো যেন শেষই হচ্ছিলো না। ওর সাথে নিঝুম নামে একজনকে নিয়ে এসেছিলো। কিন্তু ওর সাথে কথা বলার Chance  ই কুয়াশা দেয়নি। তাও মোটামুটি Formality Maintain করলাম। অনেক অনিচ্ছা সত্বেও নিঝুমের পীড়াপীড়িতে ওর অনেক প্রিয় রুমটা ছেড়ে বিদায় নিল সেদিন। তারপর দিন অবশ্য অনেক ব্যস্ততা আর বাস্তবতার মধ্যেই ওই অসুস্থ মানুষটাকে আমি পায়েশ রান্না করে খাইয়েছিলাম।
কারণ অন্যের জন্য কিছু করার ভিতরই আমার শান্তি লাগে। সেই পায়েশ খেয়ে কি যে খুশি ও, ওর নাকি ওর শাশুড়ির পায়েশ ছাড়া আর কারো পায়েশ ভালো লাগে না, আমি তো খুবই ভয়ে ছিলাম, না জানি কি হয়। কারণ আমার আবার একটা চিন্তা আছে- যে আমারটাই হবে সবার সেরা। যাই হোক সফল হলাম। এর পর এই পাগল মেয়ের কান্ড দেখে তো আমি অবাক। আমি রুমে ছিলাম না। বিশেষ একটা কাজে বাইরে থেকে এস দেখি আমার Table এ খাবারের ছড়াছড়ি। ওর আম্মু আর শাশুড়ি এসেছিল সেদিন ওকে দেখতে। ওর জন্য যে খাবার এনেছিল তারই অর্ধেকটা দিয়ে গিয়েছে আমাকে। কি আর করা বকা দিলাম ওকে। ভালোও লাগলো। এরপর যখনই যা খাবে নিজে না পারলেও অন্যকে দিয়ে তা পাঠিয়ে দিবে। অনেকে অবশ্য ঠাট্টা করে বলতো ভালোই হয়েছে তোমার...। এভাবেই গেল কিছু দিন। সেদিন রাতে সারাদিন অনেক ব্যস্ততার মধ্যে দিয়ে পার করার পর মধ্যরাতে কেবলই ক্লান্ত শরিরটা এলিয়ে দিয়েছি বিছানায়, হঠাৎ এম্বুলেন্সের হরেন এর শব্দ। এই শব্দটা শুনলেই আমার বুকের ভেতরটা যেন কেমন করে ওঠে। জানালা দিয়ে দেখার চেষ্টা করছিলাম কে অসুস্থ ? কাকে নিতে এসেছে অ্যাম্বুলেন্স..? অনেক চেষ্টার পর জানতে পারলাম কুয়াশা অসুস্থ। যাইহোক আমাদের হলের মেয়েদের এটা মনের বিশ্বাস হয়ে গেছে যে, যে যতই অসুস্থ হোক মেডিকেলে গেলেই ইনশাআল্লাহ্ সুস্থ হয়ে যাবে। এ আশাতেই ঘুমাতে গেলাম। সকালে ঘুম থেকে উঠে শুনি- অনেক বেশি অসুস্থ হওয়ায় ওকে কুষ্টিয়া শহরে নিয়ে যাওয়া হয় Then ওদের Private Car এসে ওকে বাসায় নিয়ে যায়। বসে বসে তাই ভাবছিলাম, সেদিন ওর বিয়ের গল্প শুনছিলাম, আর এত হাসছিলাম। ও নিজেও খুব মজা পাচ্ছিলো। এই অনৈতিকতার যুগেও যে কিছু ভালো মানুষ আছে ওকে না দেখলে, ওর গল্প না শুনলে হয়তো অজানাই থেকে যেত। ওর বিয়ের কাহিনীটা তাহলে শুনাই। S.S.C পরীক্ষার পর ওর বিয়ে হয়েছে। ও যখন পরীক্ষা দিচ্ছিল মাঝে একটা লোক ওদের বাড়ীতে বেড়াতে আসে। তো ওর সব কিছুতেই খুব Curiocity। ওর ইচ্ছা হলো দেখতে এই মোটা লোকটা কত খাবার খায়। যাই হোক দেখল আর হাসিতে হাসিতে গড়াগড়ি খেলো। তারপর থেকে ও খেয়াল করলো মাঝে মাঝেই ওই লোক আর ওই লোকের বউ এসে বসে থাকে ওর রুমে। ওর তখন পরীক্ষা শেষ। তো ওর খুবই বিরক্ত লাগে। একটু যে ঘুমাবে তারও কোন উপায় নেই। একদিন সেই লোক আর একজন লোক এসে ওর রুমে বসে। তারপর ওর মা ওকে পাঠালো সেই রুমে। এর ভিতর থেকে একজন ওকে তোমার হাতটা দাও তো মা। বলে হাতে আংটি পরিয়ে দিলো। তখন পর্যন্ত ওর এতটা বুদ্ধি হয়নি যে, ও এটা উপলব্ধি করতে পারবে। যাইহোক বাইরে এসে ও মাকে জিজ্ঞাসা করলো, মা ওই লোক আমাকে আংটি পরালো কেন? ওর মার উত্তর শুনে তো ও মাটিতে গড়াগড়ি বল্লো তোর Engagement হলো, আর কুয়াশাও বোকার মতো ভাবলো ওই লোকের সাথেই হয়তোবা...যাইহোক অনেক কান্নাকাটির পর বোঝানো হলো ওই লোকের সাথে না, ওই লোকের ছেলের সাথে তোর বিয়ে। তার পর রক্ষা। এরপর একদিন ওর মা বল্লো কুয়াশা হলুদ শাড়ি পরে নে। পার্লারে তোকে সাজাতে নিয়ে যাবো। ও তো মহাআনন্দে রেডী হচ্ছে যে, মা তো ওকে কখোনো পার্লারে নিয়ে যায় না- আজ নিয়ে যাবে নিশ্চয়ই কারো বিয়েতে বেড়াতে যাবো তাহলে। আহারে বেচারী- তারপর শুনলো ওর নিজেরই গায়ে হলুদ। সেদিন ও আর ধাপ কান্নাকাটি করলো। এরপর এলো ছেলে দেখার পালা- বায়না ধরলো প্রথমে তো ওর ছেলে দেখে পছন্দই না। তারপরও কি আর করা- ভাবলো আগে তো বিয়ে করি পরে দেখা যাবে কি করা যায়। এভাবেই শেষ হলো বিয়ের পর্ব। এখন অবশ্য ও অনেক খুশি ওর Husband এর দিক থেকে, মানুষটা দেখতে ভালো না হলেও- মন্টা অনেক অনেক ভালো। ওর Hasband ও এই সুময় ওর মতো ভালো মেয়ে পেয়ে খুশি। কুয়াশার পরিবারে আবার সবাই Relation করে বিয়ে করা। তাই ওর ইচ্ছা ছিলো S.S.C এর পরে ও প্রেম করবে। যাইহোক আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে এভাবেই সাহায্য করেন, হেফাজত করেন। সেই পাঁপ পঙ্কিলতার মতো ঢোকার আগেই বিয়ে হয়ে গেল কুয়াশা মনির, আজ প্রায় ৩ বছর ওর বিয়ে হয়েছে। ওর বড় ঢাকাতে থাকে Lawyer। কিছুদিন পর নাকি বাইরে যাবে P.H.D করতে। তাই বলছিল সেদিন, যাইহোক, ওর কথা ভাবতে ভাবতে তো আমার  Class Timeশেষ। সেদিন আর আমার Class  এ যাওয়া হলো না। কল দিলাম ওকে। ২-৩ বার Call  ঢোকার পর জবপবরাব হলো। ভেসে আসলো সেই পরিচিত কন্ঠস্বর আপু তুমি কেমন আছো ? আমি এখন ভালো আছি। তমি Tension করো না- আমার জন্য দোয়া কর........। অনেক দিন পর ও আসলো হলে। পড়ালেখা নিয়ে ব্যস্থার কারনে দেখা হলো না কিছুদিন। হঠাৎ সেদিন নিঝুম আসছে- মজার একটা খাবার রান্না করেছে- অসুস্থ বলে নিজে না এসে নিঝমিকে দিয়ে পাঠিয়েছে। আর থাকা হলো না। তাই দেখা করতে গেলাম ওর সাথে। বুকের ভিতরে কেমন যেন করে উঠলো ওকে দেখে, কেমন যেন নিশ্চুপ নিথর হয়ে গেছে মেয়েটা। প্রথমে চেষ্টা করছিলো স্বাভাবিক ভাবে কথা বলতে But  আর পারলো না। অঝোর ধারায় ঝরছিলো ওর চোখের পানি। আর আমার বুকের ভিতর হচ্ছিলো রক্তক্ষরণ। আস্তে আস্তে ওর হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকা বেদনা গুলো আমার সামনে প্রকাশ করতে লাগলো। বলছিল জানো আপু আমার আর বেঁচে থাকতে ভালো লাগে না। আমার সব কিছু অসহ্য লাগে। আমি কি করিনি, তবুও কেন আমার প্রতি এত রাগ, এত ক্ষোভ। বিয়ের পর থেকে প্রতিটা দিন তাই এভাবেই সবার অন্তরালে চোখের পানি ঝরায় ও। সেই বাংলার চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী ওর শাশুড়ীও পারেনি ওকে মেয়ের মতো দেখতে, আর ননদ বোনের মতো ভাবতে। তাই কোন না কোন ভাবে মানসিক শারীরিক নির্যাতন চলেছে ওর উপর। ওর বিয়ের পর থেকে ওর মায়ের বাড়ী যেতে দেয়না ওকে। কাজের মেয়ে গুলোকে সব বিদায় করে দিয়েছে। সব কাজ নিজে করে  অনেক Struggle করে এতটুকু আসা।
H.S.C পরীক্ষার সময় গুলোতেও সবার খাবার রেডী করে দিয়ে ওকে পরীক্ষা দিতে যেতে হতো। আমি শুনছিলাম আর ভাবছিলাম, একি সত্যি নাকি সিনেমার কাহিনী। নোনদটার স্বামী বিদেশ থাকে, আর এই সুযোগে সহজ সরল স্বামীটাকে ফাঁকি দিয়ে মায়ের বাড়ী এসে বসে বসে খায়, আর পরকীয়া করে। ওদের একটা Private Car আছে- সেটা নিয়েও কত কথা। এবার ও রাগ করে অসুস্থ শরীর নিয়ে বাসে এসেছে। আমি নির্বাক হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে ভাবছিলাম। এত কষ্ট নিয়ে কিভাবে মানুষ হাঁসি মুখে থাকতে পারে। আমি ওকে সন্তনা দেবার ভাষা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। তারপর ও নিজেকে গুছিয়ে নেয়, যত টুকু পারা যায় সান্তনা দিলাম। চলে আসলাম এক বুক কষ্ট নিয়ে। কিন্তু যার কাছে থেকে সব সময় ফিরি আনন্দ নিয়ে, কি অদ্ভুত দুনিয়া আর দুনিয়ার মানুষ গুলো। সত্যিই রঙ্গের দুনিয়ায় রঙ্গিন মানুষ। সেদিন সারারাত আর ঘুম হয়নি আমার। এর কিছুদিন পর আমাদের কিসের যেন বড় একটা ছুটি এল। অনেক দিনের Gap -মাঝে অনেক বার Call দিয়েছি Receive করিনি। তাই নিরুপায় হয়ে নিঝুমকেই Call  দিলাম। কুয়াশার কথা বলতেই ডুকরে কেঁদে উঠলো মেয়েটা, কিছুক্ষন পর স্বাভাবিক হয়ে বল্লো আপু কুয়াশা আর মা হতে পারবে না। ওর এত দিনের স্বপ্ন ধুলোয় মিশে গেছে আপু। ওর শাশুড়ী আর ননদ মিলে যড়যন্ত্র করে- ননদের ছেলেটাকে দিয়ে পেটে লাথি দিয়েছে। এর পর থেকেই Bleeding শুরু হয়ে তারপর হাসপাতালে। সেই অসুস্থতার সময় ও চেয়েছিল ওর Husband একটু আসুক ওর পাশে বসুক, সেটাও করতে দেয়নি ডাইনিরা। টাকা থাকলে সব কেনা যায় এই দুনিয়ায়। তাই ডাক্তারটাকেও কিনে ফেল্লো। বাচ্চাটা তো নষ্ট করে ফেললোই, আবার এমন ব্যবস্থা করলো যাতে আর কোন দিন ও মা হতে না পারে। এরপর ও Hasband কে Phone দিয়ে বল্লো তোর বউ এত খারাপ হয়ে গেছে জানিস তা। Varsity তে গিয়ে পর পুরুষের প্রেমে পাগল হয়ে গেছে তাই আর তোর Phone Receive করে না। তোর সাথে কথা বলে না। Phone Off করে রাখে। তোকে আর ভালো লাগে না। আর এত সর্বনাশীর সর্বনাশী বাচ্চাটা পর্যন্ত নষ্ট করে এসেছে .....আরো কত কি.......আড়ালে পাশে দাঁড়িয়ে অসুস্থ কুয়াশা শুধু নির্বাক হয়ে কাঁদছে ওদের মিথ্যা কথাগুলো শুনে। কিন্তু প্রতিবাদের ভাষা সাহস কিছুই নাই।
কথাগুলো যেন আমার হৃদয়ে গিয়ে আঘাত করছিল। আজো সেই জাহেলিয়াত কাটেনি হয়ে সূর্যোদয়। কেন...? কেন...? জানি উত্তর একটা মানুষের ঈমান বলতে আর কিছু নাই। কথা গুলো শেষ করে নিঝুম ও নিশ্চুপ আমিও নিশ্চুপ। কিছুক্ষণ পর তাই নিশ্চুপ ভাবেই কেটে দিলাম Phone নারীর জীবনের শেষ অর্জন তার সন্তান। মা হইনি তবুও কিছুটা Feel করি বাবা মায়ের কষ্ট। কিভাবে পারছে ও সহ্য করতে ভাবতে ভাবতেই যখন জ্ঞান ফিরে পেলাম, দেখলাম আমি বেডে শুয়ে আছি। আর সবাই আমার পাশে বসে আছে বুঝলাম কথার বোঝা বহন করতে না পেরে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলাম। সবাই প্রশ্ন করেছিল কি হয়েছে আমার ? কিন্তু আমি কিছুই বলতে পারিনি। পারিনি আমার কষ্টগুলো করো সাথে Share করতে। মাঝে মাঝেই বুকটা হাহাকার করে ওঠে ওর জন্য। খুব দেখতে ইচ্ছা করে ওকে, কথা বলতে ইচ্ছা করে But কিভাবে কথা বলবো ওর সাথে। সবার সথে ওর যোগাযোগ ছিন্ন আর ওকে সান্তনা দেবার ভাষাও যে আমার জানা নেই। সেদিন দুপুর বেলা Class শেষ করে একা একা রাস্তা দিয়ে হেঁটে আসতে আসতে Unknown একটা No থেকে Call আসলো। আমি তখন কুয়াশার কথাই ভাবছিলাম। মনটা খারাপ তাই আর Receive করলাম না প্রথমে। আমার মন খারাপ হলে যে জায়গাটাতে গিয়ে বসি, হাঁটতে হাঁটতে সেখানে গিয়ে বসলাম। আবার Phone বেজে উঠলো। Receive করার সাথে সাথে আমি আঁতকে উঠলাম। আপু আমি কুয়াশা আমার শাশুড়ী আর ননদ বাইরে গেছে আমাকে তালা দিয়ে- এই ফাঁকে আমি তোমাকে ফোন করেছি। আপুরে ওরা আমাকে শেষ করে ফেলবে- তুমি আমার জন্য দোয়া করো। তারপর Line কেটে গেলো। কতবার Try করলাম কিন্তু আর Receive হলো না। এর আগে শুনেছিলাম ওর ঐঁংনধহফ ও ওকে ভুল বুঝে বিদেশ চলে গিয়েছে চযউ করতে। তারপর অনেক দিন কেটে গেলো কিছুই জানতে পারলাম না। তারপর আবার ঋরৎংঃ ুবধৎ এলো ওদের সাথে কথা বলতে গেলাম। এভাবেই পরিচয় হলো রাত্রির সাথে। কথা বলতে বলতে জানতে পারলাম ওদের বাসা কুয়াশাদের শশুর বাড়ীর পাশে। এত আনন্দ হচ্ছিল যে, এতদিন পর আবার কুয়াশার খবর পাবো। ইঁঃ যে খবর ও শুনালো তাতে আমি শুধু একটা চিৎকার দিয়েছিলাম। তারপর নির্বাক ছিলাম একটা সপ্তাহ। আজ এক বছর পার হলো কুয়াশা আর নেই কুয়াশাচ্ছন্ন জীবন থেকে বিদায় নিয়েছে। এই পৃথিবীর সকল কষ্ট যন্ত্রনা- হাসি কান্নাকে পেছনে ফেলে চলে গেছে সবচেয়ে আপনজন  প্রভুর সান্নিধ্যে। আর তার শাশুড়ীও প্রস্তুতি নিচ্ছে অন্য আর একটা কুয়াশা/রাত্রিকে নিজের ছেলের....!!

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ