মঙ্গলবার ১৯ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্বশুর বাড়ি দক্ষিণডিহি ও পৈতৃক নিবাস পিঠাভোগ দৃষ্টি নন্দন হচ্ছে

খুলনা অফিস: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্বশুর বাড়ি ফুলতলার দক্ষিণডিহি ও পৈতৃক নিবাস রূপসার পিঠাভোগ দৃষ্টি নন্দন হচ্ছে। দেশী-বিদেশী পর্যটক ও দর্শনার্থীরা যেমন এখানে আসছেন, তেমনি ২৫ বৈশাখ ও ২২ শ্রাবণকে ঘিরে জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এখানে আয়োজিত হয় নানা অনুষ্ঠানমালা। এবারের ২৫ বৈশাখেও রয়েছে তিনদিনব্যাপী অনুষ্ঠান।
খুলনার জেলার ফুলতলা উপজেলা সদর থেকে তিন কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে দক্ষিণডিহি গ্রামটির অবস্থান। এই গ্রামের ঠিক মধ্যখানে রবীন্দ্রনাথ পত্নী মৃণালিনীর জন্মভিটে। প্রতœতত্ত্ব বিভাগের তত্ত্বাবধানে প্রাচীন ভবনটি সংস্কার হয়েছে। এখন এটি রবীন্দ্র স্মৃতি জাদুঘর। বাড়ির অপর অংশে মৃণালিনী মঞ্চ। মঞ্চের পেছনে পিকনিক কর্ণার।
কলকাতার জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুর পরিবার যে পরিবারের পূর্ব পুরুষের বাস দিহির অদূরে রূপসার পিঠাভোগে। আর এই দক্ষিণডিহিতে জন্ম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মা সারদা সুন্দরী দেবীর। রবীন্দ্রনাথের কাকিমা ত্রিপুরা সুন্দরী দেবীও এই গ্রামের মেয়ে। তবে রবীন্দ্রনাথ এই গ্রামে-মামার বাড়ি বা শ্বশুরবাড়ি এসেছেন কি-না, তা নিয়ে রবীন্দ্র জীবনীকারদের মধ্যে মতভিন্নতা রয়েছে। মৃণালিনী দেবীর স্মৃতিধন্য বাড়িটি দীর্ঘ প্রায় চার যুগ ধরে অবৈধ দখলে ছিল। খুলনার তৎকালীন জেলা প্রশাসক কাজী রিয়াজুল হকের চেষ্টা ও উৎসাহে ১৯৯৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর বাড়ীটি দখল মুক্ত হয়। এরপর প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, বুদ্ধিজীবী, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণের উপস্থিতিতে একাধিক মতবিনিময় সভার মাধ্যমে এই বাড়ীটিকে ঘিরে রবীন্দ্র কমপ্লেক্স গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পদাধিকার বলে জেলা প্রশাসককে সভাপতি করে রবীন্দ্র কমপ্লেক্স পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়। ১৯৯৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে রবীন্দ্র কমপ্লেক্স উদ্বোধন করা হয়। এরপর থেকে প্রতি বছর সেখানে কবিগুরুর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নানা কর্মসূচী পালিত হয়ে আসছে।
অবৈধ দখলদার মুক্ত হওয়ার পর ১৯৯৬ সালে ইতিহাস ও ঐতিহ্য সমৃদ্ধ এই বাড়ীটি প্রত্নতাত্ত্বিক আইনে সংরক্ষণের জন্য প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর থেকে প্রস্তাব দেয়া হয়। দীর্ঘ এক দশক পর ২০০৬ সালে বিশ্বকবির শ্বশুর বাড়ী সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে ওই বাড়ির মোট ৩ দশমিক ২৪ একর জমি পুরাকীর্তি আইন অনুযায়ী গেজেটভূক্ত হয়। তবে ভবনসহ শূণ্য দশমিক ৪০ একর জমি প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের দখলে রয়েছে, যা প্রশাসন কর্তৃক হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি দুই দশমিক ৮৪ একর জমি প্রশাসনের অনুকূলে আছে।
প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ অনুন্নয়ন খাতে উন্নয়ন শীর্ষক কর্মসূচীর প্রস্তাবনার (পিপিএনবি) আওতায় ২০১০-১১ ও ২০১১-১২ অর্থবছরে প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বিশ্বকবির শ্বশুর বাড়ির প্রাচীন দ্বিতল ভবন এবং সীমানা প্রাচীরের সংস্কার কাজ সম্পন্ন করে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ