বুধবার ২০ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

মংলা-ঘষিয়াখালী নৌ চ্যানেল বাঁচাতে ৮৩ খাল দ্রুত খননের তাগিদ

খুলনা অফিস : একনেকে অনুমোদন হওয়া মংলা-ঘষিয়াখালী নৌ চ্যানেলের সংযুক্ত ৮৩টি সরকারি রেকর্ডীয় খাল দ্রুত খননের তাগিদ দিয়েছেন বিআইডব্লিউটিএ। বিআইডব্লিটিএ’র একটি প্রতিনিধি দল নৌ চ্যানেলটি পরিদর্শন শেষে এ তাগিদ দেন। তাদের মতে, মংলা-ঘষিয়াখালী নৌ চ্যানেলের নাব্যতা রক্ষায় ঘুরে ফিরে সামনে উঠে আসছে বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জ। এর মধ্যে অন্যতম মংলা-রামপালে ৮৩টি রেকর্ডীয় নদী খাল সম্পূর্ণ উন্মুক্ত না হলে মুখ থুবড়ে পড়তে পারে সদ্য খননকৃত গুরুত্বপূর্ণ এ নৌ চ্যানেলটি। প্রায় সাড়ে তিনশ’ কোটি টাকা ব্যয়ে খননকৃত প্রকল্পের পুরোটাই ভেস্তে যাবে এমন আশঙ্কা সচেতন মহলের।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, আন্তর্জাতিক এ নৌ চ্যানেলটি স্থায়ী সচলের পথে চ্যালেঞ্জ সমূহের মধ্যে রয়েছে, ৮৩টি নদী খাল সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও দখলমুক্ত করণ, সার্বক্ষণিক সংরক্ষণ ড্রেজিং, জনবল ঘাটতি পূরণ, প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান, পরিকল্পিত ও টেকসই পরিবেশ বান্ধব ডাইকিং এর মাধ্যমে অব্যাহত খনন কার্যক্রম ও পলি অপসারণ, সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর ক্ষতি প্রশমন ও স্বার্থ সংরক্ষণে গুরুত্বারোপ, বর্ষা মওসুমে জল¯্রােত থেকে জনগোষ্ঠীকে রক্ষার জন্য পর্যাপ্ত এলাকা রক্ষা বাঁধ নির্মাণ, দুর্নীতি ও অপচয় রোধ। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে চ্যানেলটি স্থায়ীভাবে সচল করণের গ্যারান্টি নিশ্চিত না করতে পারলে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ অপচয় হবে।
বিআইডব্লিউটিএ’র সূত্র মতে, টানা তিন বছর ধরে চলছে মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেলের খনন কাজ। এতে বিআইডব্লিউটিএ’র একটি ড্রেজার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাতটি ড্রেজার খনন কাজে নিয়োজিত রয়েছে। বর্তমানে খালের প্রশস্থকরণ ও সংরক্ষণ খনন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। গত বছর ৬ মে থেকে চ্যানেলটি নৌ চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে। নদী ও খালগুলি অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে দখলমুক্ত এবং পলি অপসারণ সম্পন্ন না হওয়ায় চ্যানেলটি আবারও হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা খনন কাজে নিয়োজিত সংশ্লিষ্টদের। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সাইদুর রহমান বলেন, মংলা-ঘাষিয়াখালী আন্তর্জাতিক নৌ চ্যানেলটি বাঁচাতে তার আশপাশে সংযুক্ত ৮৩ টি সরকারি খাল দ্রুত খনন করতে হবে। তা না হলে মুশকিল হবে। নৌ চ্যানেলটিতে আবার পলি পড়ে ভরাট হবে। তিনি বলেন, ২০১৪ সালে সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে নৌযান চলাচল বন্ধ হওয়ার পর মংলা-ঘাষিয়াখালী নৌ চ্যানেলে নৌযান চলাচলের উপযোগী করতে বিআইডব্লিউটিএ’র তত্ত্বাবধায়নে খনন কাজ শুরু হয়। এরপর ২০১৫ সালের ৬ মে এ চ্যানেল থেকে জাহাজ চলাচল শুরু হয়। তিনি আরো জানান, এ চ্যানেল থেকে এ পর্যন্ত ৫৩ হাজার ৭শ’ ৭০টি জাহাজ চলাচল করেছে। এর ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে নিয়মিত এর ড্রেজিং কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য তাগিদ দেন তিনি।
এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএ’র উপ-প্রধান প্রকৌশলী মো. ফরহাদ উজ্জামান জানান, স্থানীয় মানুষের সার্বিক সহযোগিতায় মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেলটি সচল সম্ভব হয়েছে। চ্যানেলটি যাতে ফের নাব্যতা সংকটে না পড়ে এজন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পরিবশেবাদী সংগঠন সেভ দ্যা সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান, ফলপ্রসুভাবে চ্যানেলটি স্থায়ী সচল করণ হলে তা শ্যালাসহ সুন্দরবন সংলগ্ন নদীর উপর চাপ কমবে এবং সুন্দরবনের জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ