শনিবার ২৩ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

মংলায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট

খুলনা অফিস : মংলা বন্দর পৌরসভায় ৬৪ হাজার মানুষের জন্য ৫৪ লাখ লিটার সুপেয় পানির চাহিদা থাকলেও পৌরসভা সরবরাহ করতে পারছে মাত্র ৫ লাখ লিটার পানি। এদিকে বৃষ্টিও নেই তেমন। আবার পানি শোধন ও সরবরাহ কেন্দ্রের পুকুরের পানি তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। তাই সুপেয় পানির চরম সংকট দেখা দিয়েছে। পানির অভাবে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন চারদিকে লবণমিশ্রিত থৈ থৈ পানির মধ্যে বসবাসকারী পৌরবাসীরা।
পৌরবাসীদের অভিযোগ, পৌরসভার পক্ষ থেকে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ৫৪ লাখ লিটার পানির চাহিদা থাকলেও পৌরসভা সরবরাহ করে মাত্র ৫ লাখ লিটার পানি। এক কলস পানির জন্য ২-৩ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। সকাল ও বিকালে সামান্য সময়ের জন্য পানি সরবরাহ শুরু হলেও এর কয়েক ঘন্টা আগে সিরিয়াল দিতে হয়। এক কলস পানির জন্য রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিশুদ্ধ পানির প্রয়োজন মেটাতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কলস, জেরিক্যান, ড্রাম নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ছোটাছুটি করছেন এলাকার বাসিন্দারা। অনেকেই সুপেয় পানি না পেয়ে বাধ্য হয়ে দূষিত লবণ পানি পান করছেন।
জানা গেছে, বন্দরের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার পর থেকে বন্দর কর্তৃপক্ষই খুলনা থেকে বার্জের (নৌযান) মাধ্যমে ও পরবর্তী সময়ে ফয়লা এলাকা থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে শহরে খাবার পানি সরবরাহ করে আসছে।
এ পাইপলাইনের পানি নতুন ও পুরাতন বন্দরে বসবাসকারীদের মধ্যে টাকার বিনিময়ে সরবরাহ করা হতো। এরপর পুরাতন মংলায় বসবাসকারী জনসাধারণের পানির প্রয়োজন মেটাতে শহরতলীর কুমারখালী এলাকায় জনস্বাস্থ্য অধিদফতরের অর্থায়নে একটি পানি শোধনাগার ও সরবরাহ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্প থেকে প্রথম দফায় পৌরসভার ২৫ কিলোমিটার এলাকায় সরবরাহ লাইন স্থাপন করে দুই হাজার পরিবারের মধ্যে পানি সরবরাহ করার কথা। শর্তানুসারে ওই দুই হাজার সংযোগ গ্রহীতা নিরবচ্ছিন্ন পানি পাওয়ার কথা। কিন্তু এ পর্যন্ত এক হাজার ২০০ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যেও পৌরসভার ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডসহ শহরতলীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা চাহিদামতো পানি পাচ্ছেন না। পানি সরবরাহের পাইপলাইনে পানির গতি এতই কম যে, মাটির লেভেলে ট্যাপ থেকে ৪০ মিনিটে ২০ লিটারের দুই বালতি পানিও পাওয়া যাচ্ছে না।
মংলা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের উপ-প্রকৌশলী মো. কায়েচ বলেন, ‘৬৪ হাজার পৌরবাসীর মধ্যে ৫৪ লাখ লিটার পানির চাহিদা থাকলেও পৌরসভা সরবরাহ করতে পারছে মাত্র ৫ লাখ লিটার পানি। তাই তাদের তত্ত্বাবধানে নির্মাণ করা ওয়াটার ট্রিটমেন্টের দ্বিতীয় প্রকল্পের কাজ শেষ করা হয়েছে। আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই এটি চালু করা হবে।’ কায়েচ আরও বলেন, ‘পৌরসভার কুমারখালীতে ৮৪ একর জায়গার ওপরে সাড়ে ১৯ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সুপেয় পানির এ দ্বিতীয় প্রকল্প তৈরি করা হচ্ছে।’
এ ব্যাপারে মংলা বন্দর পৌরসভার মেয়র মো. জুলফিকার আলী বলেন, ‘শিগগিরই এই সংকটের সমাধান হবে। পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের কুমারখালী এলাকায় আরেকটি বিশুদ্ধ পানির প্রকল্প নির্মাণ করা হয়েছে। এটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ