শনিবার ২৩ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

কুষ্টিয়ায় বোরো সংগ্রহ অভিযান অনিশ্চিত

কুষ্টিয়া সংবাদদাতা : বোরো ধানের বড় একটি অংশ যায় কুষ্টিয়া থেকে। ২ মে থেকে সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযানের কথা থাকলেও কুষ্টিয়ায় শুরু হয়নি। কবে নাগাদ শুরু হবে তাও অনিশ্চিত।
চালকল মালিক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকার যে দর দিয়েছে তাতে এ মৌসুমে ধান ও চাল দেয়া সম্ভব হবে না। বাজারে বর্তমানে মোটা চালের দামই ৩৮ থেকে ৪০ টাকা। আর সরকার দর নির্ধারণ করেছে ৩৪ টাকা। ৪ টাকা লোকসানে চাল দেয়ার কোন লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না।
এদিকে, হাওড় অঞ্চল ডুবে যাওয়ায় সরকারি সাহায্য বাবদ জেলার গোডাউনগুলো থেকে চাল নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। জেলার কয়েকটি গোডাউানে মজুদ ২ হাজার টন চালও এ সপ্তাহে চলে গেলে চালশূন্য হয়ে পড়বে জেলা।
জেলা খাদ্য অফিসের একটি সূত্র জানিয়েছে, সরকারি ঘোষনা অনুযায়ী ২ মে থেকে সংগ্রহ অভিযান শুরুর কথা।
কিন্তু জেলায় এখনো মিল মালিকরা চাল দেয়ার জন্য সরকারের সাথে কোন চুক্তি করেননি। চুক্তি করার জন্য এখনো বেশ কয়েকদিন সময় আছে। চুক্তি করার আগে চাল ও ধান সংগ্রহ অভিযান সম্ভব নয়।
জানা যায়, এ বছর জেলায় চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭ হাজার ৪৬৪ মেট্রিক টন। এর মধ্যে সদর উপজেলা থেকে কেনা হবে ১৩ হাজার ৩০১ মেট্রিক টন। খাদ্য অফিসের তালিকাভুক্ত মিলারের সংখ্যা ৩৭০ জন।
উপজেলা খাদ্য অফিসের কর্মকর্তা শাহ নেওয়াজ জানান, ‘আগামী রবিবার বিকালে জেলা খাদ্য সংগ্রহ অভিযান কমিটির মিটিং হবে। মিটিংয়ে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে। আর মিল মালিকরা ২০ মে’র মধ্যে চুক্তি করতে পারবে।
দেশের অন্যতম বৃহত্তম চালের মোকাম কুষ্টিয়া খাজানগরে। এই মোকামেই মিল আছে প্রায় ৩ শতাধিক। অটো মিলের সংখ্যা প্রায় ৩১টি। তবে সরকারের চাল সংগ্রহ অভিযানের খবরে স্বস্তি নেই মিল মালিকদের মাঝে। গত বছরও কষ্ট করে লাভ ছাড়াই বোরো মৌসুমে চাল সরবরাহ করেন মিলাররা। এ বছর বাজার থেকে সরকারের দামে ফারাক অনেক বেশি। এ অবস্থায় চাল দেয়া নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন মিল মালিকরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ