মঙ্গলবার ২৬ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

জয় পেয়েছে গাজী গ্রুপ প্রাইম ব্যাংক ও কলাবাগান

স্পোর্টস রিপোর্টার : প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে জয় পেয়েছে গাজী গ্রুপ, প্রাইম ব্যাংক ও কলাবাগান।  টানা নবম ম্যাচ জিতেছে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। গাজী গ্রুপ হারিয়েছে খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতিকে। ব্রাদার্স ইউনিয়নের বিপক্ষে শ্বাসরুদ্ধকর জয় পেয়েছে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। মোহাম্মদ আশরাফুলের হাফসেঞ্চুরিতে কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মৌসুমের দ্বিতীয় জয় পেয়েছে শেখ জামালের বিপক্ষে। লিগের নবম রাউন্ডের দ্বিতীয় দিনের সকাল ছিল বৃষ্টিস্নাত। সবগুলো ম্যাচ নির্ধারিত ৫০ ওভারের কম খেলা হয়েছে। ফতুল্লায় জয় পেয়েছে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। শীর্ষে থাকা গাজী গ্রুপ ৭ উইকেটে হারিয়েছে খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতিকে। গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের অপরাজেয় যাত্রা চলছেই। এবারের লিগে এখনও পর্যন্ত একমাত্র অপরাজিত দল গাজী গ্রুপ। নয় ম্যাচের জিতেছে সবকটিই। পয়েন্ট তালিকায় তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনী পিছিয়ে চার পয়েন্টে। ফতুল্লায় মাঠ বৃষ্টিভেজা থাকায় দেরিতে শুরু খেলা নেমে আসে ৪৩ ওভারে। টস জিতে ব্যাট নেওয়া খেলাঘর বড় স্কোর গড়তে পারেনি আবু হায়দার ও পারভেজ রসুলের  বোলিংয়ে। খেলাঘর ওপেনার সালাউদ্দিন পাপ্পুকে ফিরিয়ে প্রথম আঘাত হানেন অফ স্পিনার রসুল। দ্বিতীয় উইকেটে রবিউল ইসলাম রবি ও রাফসান আল মাহমুদ ৫২ রানের জুটি গড়েন। তবে তাতে লেগে যায় ১০২ বল! এবারের লিগের চমক রবি ফেরেন ৪১ রানে। ২৮ রান করতে রাফসান খেলেন ৬৩ বল। দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে দুজনকেই ফেরান আবু হায়দার। মাঝে রানের গতি একটু বাড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন অমিত মুজমদার। কিন্তু ৫৫ বলে ৪৯ করে তিনি রান আউট হয়ে যান। খেলাঘর তুলতে পারে ১৭৫ রান। ৯ ওভারে ৩৫ রানে ৪ উইকেট নেন আবু হায়দার। এবারের লিগে চার উইকেট নিলেন এই নিয়ে তিনবার। ২২ উইকেট নিয়ে আছেন লিগের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি আরাফাত সানির (২৩) ঠিক  পেছনেই। রান তাড়ায় শুরুতেই ২ উইকেট হারিয়েছিল গাজী। তবে এনামুলের ব্যাটে দূর হয় শঙ্কা। মিডল অর্ডারে নিয়মিত সুযোগ পাওয়া সোহরাওয়ার্দীও প্রতিদান দেন আস্থার। তৃতীয় উইকেটে ৮৬ রানের জুটি গড়েন দুজন। চারটি চার ও তিন ছক্কায় ৭৭ বলে ৬৭ করে ফেরেন এনামুল। লিগে এবার চারবার পঞ্চাশ ছুঁয়ে একটিও নিতে পারলেন না তিন অঙ্কে। পারভেজ রসুলকে নিয়ে বাকি পথটা অনায়াসেই পাড়ি দেন সোহরাওয়ার্দী। অপরাজিত থাকেন ৫৮ রানে। ২ উইকেট নেওয়ার পর ভারতীয় অলরাউন্ডার রসুল ব্যাট হাতে অপরাজিত ৪২ বলে ৪২ রানে। তবে দারুণ বোলিংয়ে জয়ের ভিত গড়ে দিয়ে ম্যাচ সেরা আবু হায়দারই।
সাভারে বিকেএসপির ৩ নম্বর মাঠে জয় পেয়েছে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। ব্রাদার্স ইউনিয়নের বিপক্ষে ১ রানের শ্বাসরুদ্ধকর জয় পেয়েছে প্রাইম ব্যাংক। আগে ব্যাট করতে নেমে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব ৬ উইকেটে করে ২৪৯ রান।  ম্যাচটি নির্ধারিত ছিল ৪৩ ওভারে। দলের পক্ষে মেহেদী মারুফ ৫৮, অভিমন্যু ইয়াসবারান ৭০ ও জাকির হাসানের ৫২ রান করেন। ব্রাদার্সের নিহাদুজ্জামন সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন। ২টি পান অধিনায়ক অলক কাপালি। জবাব দিতে নেমে জুনায়েদ সিদ্দিকী ও মনবিন্দর বিসলার হাফসেঞ্চুরিতে জয়ের সুবাস পাচ্ছিল ব্রাদার্স। কিন্তু শেষ ৩ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে পথ থেকে ছিটকে পড়ে তারা। শেষ বলে ২ রান প্রয়োজন ছিল ব্রাদার্সের। কিন্তু নিহাদুজ্জামান আউট হলে ১ রানের জয় ধরা  দেয় প্রাইম ব্যাংকের হাতে। ৪৩ ওভার শেষে ৮ উইকেটে ব্রাদার্স করে ২৪৮ রান। ব্রাদার্সের ইনিংস সর্বোচ্চ ৫৭ রান করেন মানবিন্দর বিসলা। এছাড়া জুনায়েদের ৫১ ও কাপালির ৪৬ রান উল্লেখযোগ্য ছিল।
বিকেএসপির চার নম্বর মাঠে জয় পেয়েছে কলাবাগান ক্রীড়াচক্র। বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে কলাবাগান ৭ উইকেটে হারিয়েছে শেথ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবকে। নয় ম্যাচে এটি কলাবাগানের দ্বিতীয় জয়। সমান সংখ্যাক ম্যাচে শেখ জামালের চতুর্থ পরাজয়। গতকাল বৃষ্টির জন্য ম্যাচের দৈর্ঘ্য নেমে আসে ৪৫ ওভারে। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৯ উইকেটে ২১৩ রান করে শেখ জামাল। জবাবে ৯ বল বাকি থাকতে ৩ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্য পৌঁছে যায় কলাবাগান। জয়ের টার্গেটে জসিমউদ্দিনের সঙ্গে ৬২ রানের উদ্বোধনী জুটিতে দলকে ভালো শুরু এনে দেন তাসামুল হক। ৭০ বলে খেলা তার ৪৮ রানের ইনিংসটি গড়া ৭টি চারে। অধিনায়ক তুষার ইমরান ফিরেন দুই অঙ্কে গিয়েই। এরপর আর কোনো সাফল্য মেলেনি শেখ জামালের। অবিচ্ছিন্ন চতুর্থ উইকেটে মেহরাব হোসেন জুনিয়রের সঙ্গে ১১১ রানের জুটিতে দলের দারুণ জয় নিশ্চিত করেন আশরাফুল। চলতি লিগে নিজের প্রথম অর্ধশতক পাওয়া আশরাফুল অপরাজিত থাকেন ৮১ রানে। তার ৮৭ বলের ইনিংসটি গড়া ৬টি চার ও দুটি ছক্কায়। চমৎকার এই ইনিংসে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন তিনি। বাঁহাতি ব্যাটসম্যান মেহরাব জুনিয়র ৫৪ বলে দুটি ছক্কা ও একটি চারে অপরাজিত থাকেন ৪৩ রানে। এর আগে ব্যাটিং ব্যর্থতায় ৮২ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ভীষণ বিপদে পড়ে শেখ জামাল। সোহাগ গাজীর সঙ্গে ৫১ রানের জুটিতে প্রাথমিক প্রতিরোধ গড়েন রাজিন সালেহ। ইলিয়াস সানির সঙ্গে অধিনায়কের ৬৭ রানের আরেকটি ভালো জুটিতে দুইশ ছাড়ায় দলটির সংগ্রহ। ৭১ বলে একটি করে ছক্কা-চারে সর্বোচ্চ ৪৫ রান করেন রাজিন। সোহাগ ফিরেন ৩৯ রানে। তিনটি চারে ৩৬ রানে অপরাজিত থাকেন সানি। তাদের এই প্রচেষ্টার পরও লড়াইয়ের পুঁজি পায়নি শেখ জামাল। ৫০ রানে ৩ উইকেট নিয়ে কলাবাগানের সেরা বোলার আবুল হাসান। সাদ নাসিম ও মুক্তার আলী নেন দুটি করে উইকেট।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ