সোমবার ২৪ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে জাতীয় গণমুক্তি সংগ্রামে সাংবাদিকদেরও অংশ নিতে হবে

বগুড়া অফিস : বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা শওকত মাহমুদ বলেছেন, দেশে আজ গণতন্ত্র নেই। সধারণ মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা নেই। দেশে চরম দুর্বিষহ অবস্থা বিরাজ করছে। এই সংকটময় অবস্থা থেকে দেশ ও জাতিকে মুক্ত করতে বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় গণমুক্তি সংগ্রাম শুরু করেছেন। তাঁর এই সংগ্রামে দেশের সাংবাদিক সমাজও অংশগ্রহণ করবে। সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে তীব্র গণআন্দোলনে এই সরকারকে বিদায় করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তিনি গতকাল রোববার বগুড়ার টিএমএসএস মিলনায়তনে সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়া’র ত্রি-বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়া’র সভাপতি সৈয়দ ফজলে রাব্বী ডলারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব এম আব্দুল্লাহ।
শওকত মাহমুদ বলেন, সাংবাদিক নির্যাতনে বিশ্বে অনন্য নজির স্থাপন করেছে বাংলাদেশ। সরাসরি সরকারি হস্তক্ষেপে চ্যানেল ওয়ান, দিগন্ত টেলিভিশন, ইসলামিক টিভি, দৈনিক আমারদেশসহ বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল, সংবাদপত্র ও অনলাইন মিডিয়া বন্ধ করা হয়েছে। হাজার হাজার সাংবাদিককে বেকার করা হয়েছে। সরকারের বিরোধী মতের অনুসারী হওয়ায় শত শত সাংবাদিককে চাকরিচ্যূত করা হয়েছে। তথ্য প্রযুক্তি আইনের অপব্যবহার করে ভিন্ন মতের সাংবাদিকদের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। তুচ্ছ ঘটনায় সাংবাদিকদের জেলে পাঠানো হচ্ছে। মাহমুদুর রহমান, শফিক রেহমানের মত বরেণ্য সম্পাদক- সাংবাদিককে মাসের পর মাস জেলে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে। মাহমুদুর রহমানকে ১৬০০ দিন জেলে বন্দী রাখা হয়েছিল। এখনো আশিটিরও বেশি মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে ঘিরেই বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল। তিনিই প্রথম পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে মুক্তিসংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সংবাদপত্রের স্বাধীনতাও ফিরিয়ে দিয়েছিলেন শহীদ জিয়া।  শেখ মুজিবের পরিবার বারবার সংবাদপত্রের মুখবন্ধ করেছে আর জিয়ার পরিবার সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়েছে। বেগম খালেদা জিয়াই প্রথম দেশে স্যাটেলাইট সংস্কৃতির দুয়ার খুলে দিয়েছিলেন। শওকত মাহমুদ বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ভিশন-২০৩০ ঘোষণার পর সরকারে ভেতরে ভূমিকম্প বয়ে গেছে। সবাই আবোল তাবোল বকতে শুরু করেছে। এই ঘোষণাকে অন্তসার শুন্য বলে চিৎকার করছে, অথচ কোথায় শুন্যতা রয়েছে সেটা বলছেনা। মূলত: বেগম জিয়ার এই ঘোষণা শাসক মহলে নতুন করে উদ্বেগ-উৎকন্ঠার জন্ম দিয়েছে।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম, বিএফইউজে’র সহকারী মহাসচিব এম মোদাব্বের হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ ওবায়দুর রহমান শাহিন, দপ্তর সম্পাদক আবু ইউসুফ, প্রচার সম্পাদক জাকির হোসেন, নির্বাহী সদস্য আসাদুজ্জামান আসাদ। অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়ার সাবেক সভাপতি মির্জা সেলিম রেজা, মীর সাজ্জাদ আলী সন্তোষ, এফ শাহজাহান প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শুরুতে সাধারণ সম্পাদক মমিনুর রশিদ সাইন ও কোষাধ্যক্ষ আব্দুল ওয়াদুদ তাদের রিপোর্ট পেশ করেন। সাধারণ সভার দ্বিতীয় পর্বে সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষের রিপোর্টের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আজ সোমবার সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়া’র ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন বগুড়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ