বৃহস্পতিবার ২৭ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

প্রবৃদ্ধি হবে ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ -বিবিএস জিডিপির প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ -বিশ্ব ব্যাংক

 

স্টাফ রিপোর্টার : চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৮ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। আর জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ৩টি সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। যদি এসব শর্ত পূরণ করা সম্ভব হয় তাহলে জিডিপির প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য অর্জিত হতে পারে।

গতকাল রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে বিশ্বব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেয়া হয়।

এতে বলা হয়, আগামী ২০১৯ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, রপ্তানি ও রেমিট্যান্স কমে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী জিডিপি প্রবৃদ্ধি না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রতিবেদন প্রকাশের সময় উপস্থিত ছিলেন- বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর চিমিয়াও ফান, সিনিয়র ডিরেক্টর কালোর্স হ্যারোমিলো, বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন, প্র্যাকটিস ম্যানেজার ম্যানুয়েলা এবং যোগাযোগ কর্মকর্তা মেহেরিন এ মাহবুব।

 চিমিয়াও ফান বলেন, জিডিপির তুলনায় রাজস্ব আদায়ের হার বাংলাদেশে কম। সেদিক থেকে নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হলে রাজস্ব আয় বাড়বে এবং রাজস্ব প্রশাসনের দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও বাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে।

জাহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির ক্ষেত্রে বেশকিছু ঝুঁকি রয়েছে। এগুলো হচ্ছে- আর্থিক খাতে সুশাসনের অভাব, রাজস্ব সংস্কারের উদ্যোগ বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগের অভাব, রাজনৈতিক অস্থিরতার অভাব। এ ছাড়া বহির্বিশ্বের ক্ষেত্রে ঝুঁকিগুলো হচ্ছে- বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর বাণিজ্যনীতি, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা এবং আর্থিক বাজারে নানা সমস্যা। এসব ঝুঁকি মাথায় রেখেই আর্থিক পরিকল্পনা করতে হবে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি অনেক কমেছে। গত বছর আড়াই শতাংশের মতো কমলেও চলতি অর্থবছর সেটি কমেছে প্রায় ১৬ শতাংশের মতো। তা ছাড়া গত বছর মধ্যেপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে রেমিট্যান্স কমলেও চলতি অর্থবছর আমেরিকাসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকেও রেমিট্যান্স কমেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেসরকারি বিনিয়োগ ধারাবাহিকভাবে কমেছে। মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি বাড়লেও সেটি ওভার ইনভয়েসিং হচ্ছে কি না, সেটি দেখার বিষয়। কেননা, বিনিয়োগ কোথায় গেছে তা দেখা যাচ্ছে না।

মূল্যস্ফীতির বিষয়ে বলা হয়েছে, সার্বিকভাবে মূল্যস্ফীতি স্থিতিশীল ও স্বস্তিদায়ক হলেও চালের দাম বাড়ায় খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। যা কিছুটা অস্বস্তির সৃষ্টি করেছে। রিজার্ভের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, রিজার্ভে স্বস্তি আছে। কিন্তু তুষ্টির কোনো কারণ নেই।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনটি বিষয়ে উদ্যোগ নিলে আগামী ১৫ বছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এগুলো হলো- প্রথমত, শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ ৪৫ শতাংশে উন্নীত করা। এতে ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বাড়বে। দ্বিতীয়ত, সরকারি বিনিয়োগে দক্ষতা বাড়ানো এবং অপচয় রোধ করা। এতেও ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বাড়বে। তৃতীয়ত, বিদ্যমান সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা বাড়ানো। এতেও ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি করবে।

প্রতিবেদনে শ্রম খাতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রতিবন্ধকতা হিসেবে তিনটি কারণের কথা বলা হয়েছে। এগুলো হলো- পারিবারিক দায়িত্বের আধিক্য, মানবসম্পদের দক্ষতার ঘাটতি, বিভিন্ন পেশার ক্ষেত্রে উন্মুক্ত বৈষম্য।

প্রতিবেদনে আশা প্রকাশ করে বলা হয়েছে, ২০১৫ সাল পর্যন্ত শ্রম খাতে নারীর অংশগ্রহণ ৩৫ শতাংশ হয়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২০ সালের মধ্যে নারীর অংশগ্রহণ ৪৫ শতাংশ হতে পারে। যা সার্বিকভাবে অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখবে।

প্রবৃদ্ধি হবে ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ ---বিবিএস

চলতি অর্থবছর শেষে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি বাজেটের প্রত্যাশা ছাড়িয়ে ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ হবে বলে সরকার আশা করছে। চলতি বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৭ দশমিক ২ শতাংশ। 

চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসের (জুলাই-মার্চ) তথ্য বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো প্রবৃদ্ধির এই হিসাব প্রক্ষেপণ করেছে।

উল্লেখ, অর্থ বছরের শেষে প্রবৃদ্ধি কত হবে তার একটি প্রক্ষেপণ ৯ মাসের হিসাব ধরে করা হয়। এই হিসাব বছর শেষে চূড়ান্ত করে পরিসংখ্যান ব্যুরো। সে হিসাবে এই প্রবৃদ্ধি কম বেশি হতে পারে। তবে এবার অব্যাহত থাকলে জিডিপি কমবে না বরং আরও বাড়তে পারে।

গতকাল রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এই হিসাব তুলে ধরেন।

বৈঠক শুরুর আগে এসব তথ্য তুলে ধরা হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের বলেন, এটা সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। সরকারের ধারাবাহিকতার কারণে এই ফসল অর্জিত হয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর চূড়ান্ত হিসাবে গত অর্থবছর জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৭ দশমিক ১১ শতাংশ।

প্রায় এক দশক ৬ শতাংশের বৃত্তে ‘আটকে’ থাকার পর গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের ‘ঘর’ অতিক্রম করে। এরপর গত জুনে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জিত হবে বলে ধরে নেয়া হয়। ৯ মাসের তথ্যে সেটা অর্জিত হবে বলে প্রক্ষেপণ করছে সরকার।

কিন্তু তাদের সাথে একমত হতে পারেনি বিশ্ব ব্যাংক। তারা বলছে যে হারে রেমিট্যান্স কমছে এবং বিনিয়োগের নামে অর্থ পাচার হচ্ছে তারা জিডিপি অর্জিত হবে না বলে মনে হচ্ছে। তবে এসব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠতে পারলে জিডিপির কিছুটা বাড়তে পারে। তবে কোন অবস্থাতেই জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ হবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ