বৃহস্পতিবার ২৭ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

জিয়া অরফানেজ মামলায় বিচারক পরিবর্তনের নির্দেশ

 

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় আবারও বিচারক পরিবর্তনের আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে কোন আদালতে এ মামলা শুনানি করবেন তা এখনো বলা হয়নি। এ বিষয়ে আদালত পরবর্তী সময়ে নির্দেশ দেবেন। 

বিচারক পরিবর্তনের আবেদন জানিয়ে খালেদা জিয়ার করা আবেদনের শুনানি শেষে গতকাল রোববার বিচারপতি মো. শওকত হোসাইন ও বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। 

আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী ও ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী জাকির হোসেন ভূঁইয়া।

পরে ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী বলেছেন, বিচারিক আদালত পরিবর্তনের আবেদন হাইকোর্ট মঞ্জুর করেছেন। তবে স্থানান্তরিত আদালত কোনটি হবে তা উল্লেখ করেননি। পূর্ণাঙ্গ আদেশে তা উল্লেখ করে দেয়া হবে।

এর আগে এ মামলায় আবু আহমেদ জমাদারের প্রতি অনাস্থা জানানো হলে হাইকোর্ট আদালত পরিবর্তনের নির্দেশ দেন। পরে বিশেষ জজ কামরুল হোসেন মোল্লার আদালতে মামলটির শুনানি হচ্ছিল। কিন্তু ওই বিচারক এই মামলার অভিযোগ দাখিলের সময় দুদকের পরিচালক ছিলেন বিধায় ন্যায়বিচার না পাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন খালেদা জিয়া। পরে তিনি এই বিচারকের ওপরও অনাস্থা প্রকাশ করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট কামরুল হাসান মোল্লার আদালতের প্রতিও অনাস্থার আবেদন গ্রহণ করে বিচারক পরিবর্তনের আদেশ দেন। 

গত ২৬ এপ্রিল জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে অনিয়মের অভিযোগ এনে দায়ের করা মামলায় বিচারকের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন খালেদা জিয়া। তার আইনজীবী জাকির হোসেন ভূঁইয়া হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন করেন।

আইনজীবী জাকির হোসেন ভূঁইয়া বলেন, এ মামলার বর্তমান বিচারক মামলার তদন্ত এবং অভিযোগ দাখিলের সময় দুদকের পরিচালক ছিলেন। এ কারণে তার কাছে খালেদা জিয়া ন্যায়বিচার পাবেন না বলে মনে করেন। তাই অনাস্থা জানিয়েছেন। আজ হাইকোর্ট আবেদন গ্রহণ করে দ্বিতীয়বারের মতো বিচারক পরিবর্তনের আদেশ দেন। 

গত ১৩ এপ্রিল এ মামলার শুনানিকালে অনাস্থার আবেদন করলে নাকচ করে দিয়েছিলেন বিচারক কামরুল হোসেন মোল্লা। ওই দিন আদালত বলেছিলেন, মামলার এ পর্যায়ে এসে অনাস্থার আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়, তাই নাকচ করা হলো। আপনারা হাইকোর্ট থেকে আদেশ নিয়ে আসেন। 

গত ৮ মার্চ ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক আবু আহমেদ জমাদারের প্রতি বেগম খালেদা জিয়ার অনাস্থার আবেদন মঞ্জুর করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে মামলাটি ওই আদালত থেকে স্থানান্তর করে ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কামরুল হোসেন মোল্লার আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এই আদালতকে ৬০ দিনের মধ্যে মামলাটি নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা দায়ের করে দুদক। ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ এনে এ মামলা করা হয়। খালেদা জিয়া ছাড়াও এ মামলার অপর আসামিরা হলেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য ও ব্যবসায়ী কাজী সলিমুল হক কামাল, সাবেক মুখ্যসচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ ও জিয়াউর রহমানের বোনের ছেলে মমিনুর রহমান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ