বৃহস্পতিবার ২৭ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

রিভিউতে সাজা পরিবর্তন হয় না, এটা রেয়ার 

স্টাফ রিপোর্টার : জামায়াতে ইসলামীর জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমীর, খ্যাতিমান মুফাসসিরে কুরআন ও সাবেক সংসদ সদস্য আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর খালাস চেয়ে করা রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) এবং সাজা বাড়াতে সরকারের করা রিভিউ আবেদনের শুনানি শুরু হয়েছে। আজ সোমবার সকালে রিভিউ আবেদনের ওপর এটর্নি জেনারেল বক্তব্য রাখবেন। 

শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, রিভিউতে সাজা পরিবর্তন হয় না, এটা রেয়ার। অনেকে রিভিউ করেন আমরাও শুনি। শুনানির এক পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি আরো বলেন, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালে অনেকে পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন তাদের অনেকে এখন মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটির চেয়ারম্যান।

গতকাল রোববার প্রধান বিচারপতির সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চে শুনানিকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। বেঞ্চের অপর চার বিচারপতি হলেন বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার। 

আল্লামা সাঈদীর রিভিউ শুনানিতে তাকে দণ্ড থেকে খালাস দেয়ার যুক্তি দেখিয়ে ২৫ পৃষ্ঠার লিখিত যুক্তি উপস্থাপন করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন। তাকে সহায়তা করেন ব্যারিস্টার তানভীর আহমেদ আল আমিন। 

শুনানির শুরুতে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম প্রথমে দাড়িয়ে কথা বলতে চাইলে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, আপনি বসেন। মামলা তো আসামী পক্ষের। আপনি তো ফাঁসি চেয়েছেন? আসামী খালাস পেয়ে গেলেতো আর তার ফাঁসি হবে না। আসল রিভিউ তো আসামী পক্ষের। তাতে আসামী খালাস পেলে তো আর আপনার রিভিউ থাকবে না। 

এরপর খন্দকার মাহবুব হোসেন লিখিত যুক্তি থেকে পড়ে শোনান আদালতকে। 

আদালতে জমা দেয়া লিখিত যুক্তিতে বলা হয়েছে, বিশাবালীর ভাই সুখরঞ্জন বালী বলেছেন, তার ভাই হত্যার সাথে আল্লামা সাঈদী জড়িত নন। তিনি ২০১২ সালের ৫ নবেম্বর ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে এসেছিলেন কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহনী তাকে ট্রাইব্যুনালের সামনে থেকে অপহরণ করে। এটি আদালতের বিবেচনায় নেয়া উচিত ছিল। ২০১৩ সালের ১৫ মে দৈনিক নিউএজ পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয় যে, সুখরঞ্জন বালী ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দমদম কারাগারে বন্দী রয়েছেন এবং বালী জানিয়েছেন তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অপহরন করে ভারতে পাঠিয়ে দিয়েছে। এরপর সুখরঞ্জন বালীর পরিবার কোলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করেন বালীকে দেশে না পাঠানোর জন্য। কারণ বাংলাদেশে তার জীবনের ঝুঁকি রয়েছে। পরে এ মামলা ভারতের সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায় এবং সুপ্রিম কোর্ট বালীকে দেশে না পাঠানোর আদেশ দেন। এ বিষয়ক যাবতীয় পেপারকাটিং আসামী পক্ষ আপিল বিভাগে জমা দিয়েছে। কিন্তু আপিল বিভাগের সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে এ বিষয়ক কোন ডকুমেন্ট আমলে নেয়া হয়নি। 

গৌরাঙ্গ সাহার তিন বোনকে ধর্ষণ বিষয়ে প্রসিকিউশনের ১, ২, ৩, ৪ এবং ৫ নং সাক্ষী একটি শব্দও বলেননি। গৌরাঙ্গ সাহার এলাকার লোক হওয়া সত্ত্বেও তাদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ না করায় প্রমাণ করে এ অভিযোগ সত্য নয়। বিচারপতি আবদুল ওয়াহ্হাŸ মিঞা তার রায়ে লিখেছেন ‘যদি সত্যিই গৌরাঙ্গ সাহার তিন বোনকে তিনদিন ক্যাম্পে আটকে রেখে পাকিস্তান আর্মি কর্তৃক ধর্ষনের ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে প্রসিকিউশনের ১, ২. ৪, ৬, ৮, ৯,১০, ১১ এবং ১২ নং সাক্ষীকে তা না বলার কথা নয় গৌরাঙ্গ সাহার। 

গৌরাঙ্গ সাহা বলেছেন, ১৯৭১ সালে তার বয়স ছিল ২৭ বছর। কিন্তু তার ভোটার পরিচয়পত্র এবং জাতীয় পরিচয়পত্রে তার জন্ম তারিখ লেখা ১৯৬৩ সাল। সে হিসেবে ১৯৭১ সালে তার বয়স হয় ৮ বছর। এ অবস্থায় তার ছোট তিন বোনকে ধর্ষনের ঘটনা অসত্য। বিচারপতি আব্দুল ওয়াহ্হাব মিঞা তার রায়ে লিখেছেন ‘বয়সের ব্যবধান ২/১ বা তিন বছরের হতে পারে। কিন্তু ১৯ বছরের ব্যবধান বিশ্বাসযোগ্য নয়। তার বোনরা ১৯৭১ সালে বড় ছিল এটি প্রমান করতে এটা বলেছেন তিনি। 

লিখিত যুক্তিতে বলা হয় সেফহাউজ রেজিস্ট্রার ডকুমেন্ট থেকে দেখা যায় মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়ার কারনে গৌরাঙ্গ সাহাকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। 

লিখিত যুক্তিতে বলা হয় আল্লামা সাঈদী ১৯৬৯ সাল থেকে ১৯৭১ সালের জুলাই মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত যশোরে ছিলেন পিরোজপুর ছিলেন না। তার পক্ষে পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্যে তা সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত হয়েছে। এ ছাড়া প্রসিকিউশনের ২৪ নং সাক্ষীর সাক্ষ্যেও তা প্রমানিত। কাজেই মে জুন এবং জুলাই মাসে পিরোজপুর সংঘটিত অপরাধের সাথে তার জড়িত থাকার অভিযোগ সত্য নয়। বিচারপতি আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা এসব সাক্ষ্য আমলে নিয়েছেন। কিন্তু দু:খের বিষয় হলো সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে এটি বিবেচনায় না নিয়ে মিসকারিজ অব জাস্টিস হয়েছে। 

সংখ্যগরিষ্ঠ রায়ে প্রসিকিউশনের সাক্ষীদের সাক্ষ্য এবং তদন্ত কর্মকর্তার কাছে গণেশ সাহার সাক্ষ্য বিবেচনায় নেয়ার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ত্রুটি। গণেশ চন্দ্র পরে প্রসিকিউশন পক্ষ ত্যাগ করে মাওলানা সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং ট্রাইব্যুনালে তিনি বলেছেন, তিনি তদন্ত কর্মকর্তার কাছে কোন জবানবন্দী দেননি। 

এমনিভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে পিরোজপুর জেলার ইতিহাস এবং স্বাধীনতাযুদ্ধের দলিল পত্র বই দুটিও বিবেচনায় নেয়ার ক্ষেত্রে ভুল করেছেন। বিচারপতি আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা এ বই দুটিকে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রাসঙ্গিক দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। পিরোজপুর জেলার ইতিহাস বইয়ে রাজাকার এবং শান্তি কমিটির তালিকায় মাওলানা সাঈদীর নাম নেই। 

এ ছাড়া মেজর জিয়াউদ্দিন রচিত ‘মুক্তিযুদ্ধে সুন্দরবনের সেই উন্মাতাল দিনগুলি’ বইটিও কোন বিবেচনায়ই নেননি সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিগন। এ বইয়ে পিরোজপুর এবং তার আশপাশ এলাকায় ১৯৭১ সালের নৃশংতার বিবরণ থাকলেও আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই। মেজর জিয়াউদ্দিন ছিলেন সুন্দরবন সাবসেক্টর ক্যাম্পের কমান্ডার। বিচারপতি আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা তার রায়ে বলেছেন, সাঈদী রাজাকার এবং শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন এবং এ হিসেবে তিনি যেসব অপরাধ করেছেন তা প্রমাণের জন্য মেজর জিয়া উদ্দিন ছিলেন সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ একজন সাক্ষী। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ কর্তৃক তার সাক্ষ্য না নেয়ায় মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে তাদের অভিযোগ বিষয়ে বিরূপ অবস্থা তৈরি করেছে। 

খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, কাজেই আল্লামা সাঈদী ১৯৭১ সালে মধ্য জুলাই পর্যন্ত যে পিরোজপুরে ছিলেন না তা সন্দেহাতীতভাবে প্রমানে সক্ষম হয়েছেন। তিনি পিরোজপুর ছিলেন না এ মর্মে রায়ে সংখ্যগরিষ্ঠ বিচারপতিগণ কোন শক্তিশালী ভিত্তি তুলে ধরতে পারেননি। 

খন্দকার মাহবুব হোসেনের উদ্দেশ্যে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, আল্লামা সাঈদী ওয়াজ করার জন্য পরিবার নিয়ে যশোর বাসা ভাড়া করে ছিলেন তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। সাধারণত শীতকালে আমাদের দেশে ওয়াজ হয়। আপনারা যে সময়ে তার যশোর থাকার কথা বলছেন তা বর্ষাকাল। খন্দকার মাহবুব হোসেনকে প্রশ্ন করে তিনি বলেন, মে মাসে বর্ষাকাল থাকে। বর্ষাকালে কি ওয়াজ হয়? এখন কি বাংলাদেশে ওয়াজ হচ্ছে? মার্চ এপ্রিল মে মাসে ওয়াজ হয় কি না বলেন। যুদ্ধের সময় ওয়াজ মাহফিল করার জন্য পরিবার নিয়ে যশোর গিয়ে বাসা ভাড়া থাকবেন তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। আজকের দিনে কি কেউ কোথাও হোটেল বা বাসা ভাড়া করে থাকে ওয়াজ করার জন্য? 

খন্দকার মাহবুব বলেন, সাঈদী সাহেব ঘটনার সময় পিরোজপুরে ছিলেন না। তিনি যশোরেই ছিলেন তিনি সারা বছরই ওয়াজ-মাহফিল করেন। এটা করেই তিনি সংসার চালাতেন। ওই বক্তব্যের পর কিছু সময় ধরে খন্দকার মাহবুব হোসেন রিভিউর যুক্তি তুলে ধরেন। 

এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা পাকিস্তানের পক্ষে ইয়ে ছিলেন, তাদের অনেকেই এখন মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন। 

খন্দকার মাহবুব হোসেনের বক্তব্যের পর প্রসিকিউশন পক্ষে শুনানি করেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি বলেন, আসামিপক্ষ রিভিউতে আইনি বিষয়ে কোনো যুক্তি দিতে পারেনি, বরং তারা শুধু বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরেছেন।

জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন,আপনি তো একটি রায় পেয়েছেন। আপনি রিভিউর শুনানি করছেন কেন? আমরা চাই না বিচারের নামে প্রহসন হোক। রিভিউ করলে সাজা পরির্বতন হয় না এটা কিন্তু রেয়ার।

এটর্নি জেনারেল বলেন,আমি তো আসামির দণ্ড বৃদ্ধি করে ফাঁসি চাচ্ছি। কারণ এ মামলায় সাঈদী হুকুমের আসামি ছিলেন। অন্যদের ফাঁসি হলে হুকুমের আসামির ফাঁসি হবে না কেন? সাঈদী একজন কসাই ছিলেন যে মুক্তিযোদ্ধাদের দিনে-দুপরে হত্যা করতেন।

জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, আপনি কসাই বলবেন না। আপনি ফৌজদারি কার্যবিধি পড়ে আগামীকাল আসেন। আমরা আগামীকাল আবারও শুনব। এরপর আদালত মামলার কার্যক্রম আগামীকাল (সোমবার) পর্যন্ত মুলতবি করেন। এরপরই রিভিউ আবেদনের শুনানি শুলতবি করেন আদালত।

২০১৬ সালের ১৭ জানুয়ারি আল্লামা সাঈদী খালাস চেয়ে রিভিউ (পুর্নবেবেচনা) আবেদন করেছিলেন। রিভিউ আবেদনটি ৯০ পৃষ্ঠার, ১৬ টি গ্রাউন্ডে খালাসের আরজি রয়েছে। 

সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর সকালে আল্লামা সাঈদীর আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি মো.মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষনা করেন। পুর্ণাঙ্গ রায়ে বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা সব অভিযোগ থেকে আল্লামা সাঈদীকে খালাস দেন। আর বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মৃত্যুদন্ডের পক্ষে রায় দেন। তবে তখনকার প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন, বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (এস কে সিনহা) ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর মতামতে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে আমৃত্যু কারাদন্ডের রায় আসে।

আপিলের পুর্নাঙ্গ রায়ে সকল অভিযোগ থেকে খালাস দিয়ে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা পুর্নাঙ্গ রায়ে বলেন, প্রসিকিউশন তাদের যুক্তিতে বলেছেন অভিযুক্ত (আল্লামা সাঈদী) রাজাকার, তিনি ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন সুনির্দিষ্ট করে ৬,৭,৮,১০,১১,১৪,১৬ ও ১৭ নম্বর অভিযোগে। কিন্তু ডিফেন্স পক্ষের আপিল এবং সাক্ষীরা ক্যাটাগরীভাবে দেখিয়েছে তিনি (আল্লামা সাঈদী) অপরাধ সংঘটনের স্থানে ওই সময়ে উপস্থিত ছিলেন না। তখন তিনি রওশন আলীর (ডিডব্লিউ-৬) দোহা খোলায় ছিলেন। তিনি রাজাকার ছিলেন না এবং অপরাধ সংঘটিত করেছে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সঙ্গে স্থানীয় রাজাকার এবং শান্তি কমিটির সদস্যরা। প্রসিকিউশনের মামলা এবং ডিফেন্সের আপিল থেকে দেখা যায় অভিযুক্ত রাজাকার বা শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন প্রসিকিউশন তা চুড়ান্ত প্রমাণের (ক্রুশিয়াল ফ্যাক্ট) মাধ্যমে সন্দেহাতীত ভাবে দেখাতে ব্যর্থ। উপরন্তু ডিফেন্সপক্ষে উপস্থাপিত সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং প্রামাণ্যচিত্র পরিষ্কার সংশয় সৃষ্টি করে প্রসিকিউশনের করা তিনি ১৯৭১ সালে রাজাকার বা শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন এ বিষয়ে। ফলে অভিযুক্তকে বেনিফিট অব ডাউট দেয়া হলো। আমি এই সিদ্ধান্তে উপনীত যে প্রসিকিউশন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ৬, ৭, ৮, ১০, ১১, ১৪, ১৬ ও ১৭ নম্বর অীভযোগ সন্দোহীততভাবে প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে এবং তিনি (আল্লামা সাঈদী) সকল অভিযোগ থেকে খালাস পাওয়ার অধিকারী। একইসঙ্গে অভিযুক্তের অপরাধ খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং তাকে খালাস দেয়া হলো। 

২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আল্লামা সাঈদীকে আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ মৃত্যুদণ্ড দেয়। ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে একই বছরের ২৮ মার্চ আপিল করেন আল্লামা সাঈদী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ