বৃহস্পতিবার ২৭ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

পাঁচ অভিযুক্তে’র সাথে কপাল পুড়ছে আপন জুয়েলার্স-হোটেল রেইন ট্রির

গতকাল রোববার সুবাস্ত টাওয়ারে আপন জুয়েলার্সের বিক্রয় কেন্দ্রে সিলগালা করে দেয় কাস্টমস গোয়েন্দারা -সংগ্রাম

* এমপিপুত্র মাহিরের বন্ধু পরিচয়ে ‘রুম ভাড়া নেন’ সাফাত

* আপন জুয়েলার্সের ৫ বিক্রয় কেন্দ্রে অভিযান, একটি সিলগালা 

* রেইন ট্রিতে অভিযান, মদ উদ্ধার ॥ মামলা হচ্ছে তিনটি

তোফাজ্জল হোসেন কামাল : রাজধানীর বনানীর আলোচিত জোড়া ধর্ষনের ঘটনায় অভিযুক্ত পাঁচজনের সাথে কপাল পুড়ছে দেশের স্বর্ণালংকার তৈরীতে দীর্ঘদিনের পরিচিত প্রতিষ্ঠান ‘আপন জুয়েলার্স‘র’। স্বর্ণালংকার ব্যবসায়ী দিলদার হোসেন সেলিমের ছেলে সাফাত ওই ধর্ষনকান্ডের নায়ক। তিল তিল করে গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানটি এখন তার ছেলের কান্ডে ব্যাপক আলোচিত। ক্রেতা সাধারনের মনে ঠাঁই নেয়া আপন জুয়েলার্স ধর্ষণকান্ডের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত হয়ে পড়ায় তাদের ব্যবসার ওপর প্রভাব পড়ছে। তার সাথে গতকাল রোববার আপন জুয়েলার্সের রাজধানীর পাঁচটি শাখায় শুল্ক গোয়েন্দারের অভিযানের পর একটি শাখায় সিলগালা করে দেয়ার ঘটনাও ওই প্রতিষ্ঠানের জন্য বিব্রতকর অবস্থার সৃষ্টি করেছে।

এদিকে, জোড়া ধর্ষণকান্ডের ঘটনাস্থল বনানীর ‘হোটেল রেইন ট্রি’ও এখন ব্যাপক আলোচিত। চার তারকা মানের এই হোটেলটির আনুষ্ঠানিক যাত্রার আগেই সেখানে অপকর্মের যে তকমা হোটেলটির গায়ে লেগেছে, তা তার পথ চলাকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে। ব্যবসা শুরুর আগেই ওই হোটেলটি নিয়ে যে অপবাদ- বিতর্কের শুরু,তা তাদের কপাল পোড়াচ্ছে। তাদের ব্যবসার ওপরও এর প্রভাব পড়ছে। গতকাল সেখানে অভিযান চালিয়ে ১০ বোতল বিদেশী মদ উদ্দারের কথা জানিয়েছে শুল্ক গোয়েন্দারা। এর একটি নেতিবাচক প্রভাবও পড়বে রেইন ট্রির ঘাঁড়ে। এখন ওই হোটেলটির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হওয়ার পথে।

এদিকে, আওয়ামী লীগের এমপি বজলুল হক হারুনের ( বি এইচ হারুন ) ছেলে মাহির হারুনের বন্ধু পরিচয়ে সাফাত আহমেদ বনানীর ওই হোটেলের কক্ষ ভাড়া করেছিলেন বলে মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন। জন্মদিনের পার্টির কথা বলে রেইনট্রি হোটেলে নিয়ে অস্ত্রের মুখে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে এখন রিমান্ডে আছেন আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত ও তার বন্ধু সাদমান সাকিফ। বনানীর চার তারকা ওই হোটেলের অন্যতম মালিক মাহির।

সাফাত জিজ্ঞাসাবাদে তার বন্ধু পরিচয়ে হোটেলের দুটি কক্ষ ভাড়া নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বলে জানান মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. শাহজাহান।“তাই সাফাতরা ওই হোটেলে কী করছেন, তা কোনো কর্মচারী দেখতেও আসেনি,” বলেন তিনি।

মাহিরকেও এই মামলার তদন্তের আওতায় আনা হবে বলে জানান গোয়েন্দা পুলিশের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। ধর্ষিতাদের একজনও ওই রাতে মাহির নামে একজনের দেখা পাওয়ার কথা বলেছিলেন। তাদের জোর করে রুমে নেওয়ার আগে মাহির কেক নিয়ে তাদের কাছে গিয়েছিলেন জানিয়ে ওই ছাত্রী বলেন, “মাহির নামের একজন নিজেকে হোটেলটির মালিক পরিচয় দিয়ে সেদিন সাফাতের জন্মদিনের জন্য একটি কেক উপহার নিয়ে এসেছিলেন।

জানতে চাইলে গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার শেখ নাজমুল আলম বলেন, “হোটেলের ম্যানেজার মাহিরের নির্দেশে সাফাতের জন্মদিনের কেক নিয়ে গিয়েছিলেন।”তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এখনও গুরুত্বপূর্ণ নয়। তবে ভবিষ্যতে মামলার কোনো প্রয়োজনে দরকার হলে মাহিরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।”ঝালকাঠি-১ আসনের এমপি বিএইচ হারুন রাজাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। তার তিন ছেলের মধ্যে মাহির হারুন সবার ছোট।

গত ৬ মে বনানী থানায় সাফাত ও তার দুই বন্ধু সাদমান সাকিফ ও নাঈম আশরাফসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলাটি দায়ের হয়। এরপর তদন্তে নামা বনানী থানার কর্মকর্তারা বলেছিলেন, ঢাকার একজন সংসদ সদস্যের ছেলের সঙ্গে হোটেলের ব্যবসা রয়েছে সাফাত ও তার এই বন্ধুদের। আসামিদের মধ্যে সাফাত ও সাকিফকে গত বৃহস্পতিবার সিলেট থেকে গ্রেপ্তারের পর শুক্রবার রিমান্ডে পায় পুলিশ।

গোয়েন্দা কর্মকর্তা শাহজাহান বলেন, “আসামিদের কাছ থেকে বেশ কয়েকটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সেগুলোতে ধর্ষণের কোনো ভিডিও এখনও পাওয়া যায়নি। তারা ধর্ষণের ভিডিও করার কথা এখনও স্বীকার করেনি।”তবে ওই দুই ছাত্রীর ছেলে বন্ধুকে মারধর করে তাকে ইয়াবা ব্যবসায়ী পরিচয় দিতে বাধ্য করার কথা আসামিরা স্বীকার করেছে। ওই ঘটনার ভিডিও করার কথাও তারা বলেছে।“মামলার দুই আসামিই জিজ্ঞাসাবাদে বলেছে, ওই রাতে ভিকটিমের এক চিকিৎসক বন্ধুকে তারা মারধরও করেছিল। জন্মদিনের ওই অনুষ্ঠানে তারা তাকে আশা করেনি। তাই তাকে মারধর করে তার ভিডিও করা হয়েছিল।”

উপ-কমিশনার নাজমুল আলম বলেন, “আসামিরা বলেছে, তারা কারও সঙ্গে জোর করে কিছু করেনি। দুই পক্ষের সম্মতিতেই যা ঘটার ঘটেছে।”বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

এদিকে ‘ধর্ষিতাদের’ সাক্ষাৎকারের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার পিছনে কারা রয়েছে তা খুঁজে দেখা হচ্ছে বলে গোয়েন্দা কর্মকর্তা শাহজাহান জানান।তিনি বলেন, “ধর্ষণের শিকার দুই শিক্ষার্থীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েছে তারা অপরাধ করেছে। তাদের খুঁজে বের করা হবে।”

আপন জুয়েলার্সের ৫ বিক্রয় কেন্দ্রে অভিযান : আপন জুয়েলার্সের মালিকের ‘অবৈধ সম্পদের’ খোঁজে দেশের শীর্ষস্থানীয় এই অলঙ্কার ব্র্যান্ডের পাঁচটি বিক্রয় কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে একটি শোরুম সিলগালা করে দিয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মইনুল খান বলছেন, স্বর্ণ ও রতœ সংগ্রহের তথ্যে অস্বচ্ছতা এবং মালিকের অবৈধ সম্পদের’ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে আপন জুয়েলার্সে এই অভিযান চালানো হয়েছে।“আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে, আপন জুয়েলার্স যে সোনা ও ডায়মন্ড বিক্রি করে, তা সংগ্রহের সোর্স স্বচ্ছ নয়। অভিযোগ আমলে নিয়েই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে।”

আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ বনানীতে দুই ছাত্রী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি সাফাত আহমেদের বাবা।এই পরিবারের বিরুদ্ধে সোনা চোরাচালানের অভিযোগ থাকায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশে একটি অনুসন্ধান কমিটি করে এই তদন্ত চালাচ্ছে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর।এর অংশ হিসেবে গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে আপন জুয়েলার্সের মৌচাক, উত্তরা, জিগাতলার সীমান্ত স্কয়ার এবং গুলশানের দুটি বিক্রয় কেন্দ্রে একযোগে অভিযান শুরু হয়। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ শাখার ভ্যাট কর্মকর্তারা ছাড়াও র‌্যাব সদস্যরা যোগ দেন এই অভিযানে।

বেলা সোয়া ১২টার দিকে গুলশানের সুবাস্তু টাওয়ারের শোরুমটি বন্ধ করে দেওয়ার পর এ বিভাগের যুগ্ম কমিশনার শাফিউর রহমান বলেন, “আমরা এটা সিলগালা করেছি। এখন এটা খুলতে হলে তাদের প্রতিনিধি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে। আমরা দেখব- সেখানে তাদের কী পরিমাণ মালামাল মজুদ আছে।”

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে মহাপরিচালক মইনুল খান বলেন, “শো রুমগুলোতে আমরা স্টক চেকিং করছি। দেশে তো স্বর্ণের আমদানি নেই। তারপরও তারা এগুলো কোথা থেকে কীভাবে এনেছেৃ বৈধ উপায়ে আনলে ভাল, না হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেব।”

দিলদার আহমেদের নামে দেশে-বিদেশে যাবতীয় লেনদেনের হিসাব চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে গত বৃহস্পতিবার একটি চিঠিও পাঠিয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ।

ধর্ষণের শিকার এক ছাত্রী বলেছেন, “ধর্ষণের পর সাফাত তাকে বলেছিলেন, তারা সোনা চোরাচালান করেন। দুই একটা খুন বা ধর্ষণ করে পুলিশকে টাকা দিলে তাদের কেউ কিছু করতে পারবে না।”

রেইন ট্রিতে অভিযান, মদ উদ্ধার : ধর্ষণের ঘটনায় আলোচিত বনানীর হোটেল রেইন ট্রিতে অভিযান চালায় শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মইনুল খান বলেন, “হোটেলের একটি কক্ষে বেশ কয়েক বোতল মদ পাওয়া গেছে।”তিনি বলেন, “এই হোটেলের আয়-ব্যায়ের স্বচ্ছতা জানা প্রয়োজন। এছাড়া সম্প্রতি বিভিন্ন কারণে এই হোটেলটি আলোচনায় এসেছে। সেই সূত্রে অভিযান চলেছে। প্রতিটি কক্ষেই তল্লাশি করা হয়।

তিনটি মামলা হচ্ছে : রেইন ট্রি হোটেলের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি আইনে তিনটি মামলা দায়ের করা হচ্ছে। মামলাগুলো হলো- মানি লন্ডারিং, কালোবাজারি এবং শুল্ক ফাঁকি। আকস্মিক অভিযান শেষে গতকাল রোববার দুপুরে হোটেলটির অভ্যর্থনাকক্ষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান শুল্ক গোয়েন্দার যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ শফিউর রহমান। তিনি বলেন, গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে অপারেশন্স কাজ শুরু করেছে দ্য রেইন ট্রি হোটেল। কিন্তু হোটেলটি ভ্যাট দেয়া শুরু করে মার্চ থেকে। ফেব্রুয়ারি মাসের আট লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে রেইন ট্রি।

শুল্ক গোয়েন্দার এ কর্মকর্তা জানান, বিদেশি মদ, ড্রিংস, লিকার ও বিয়ার এই হোটেলে পাওয়া গেছে। জব্দকৃত পণ্যগুলো আমদানিযোগ্য। কিন্তু তারা সরাসরি আমদানি করেনি। সঠিকভাবে ভ্যাট দিয়ে তারা আমদানি করেনি। অন্য কারও কাছ থেকে অথবা অন্য মাধ্যমে তারা ভ্যাট ছাড়া ক্রয় করেছে। আমদানির ক্ষেত্রে এলসি করতে হয়। কিন্তু তাদের এলসির কোনো ডকুমেন্ট আমরা পাইনি। আপাতত এসব স্মাগলিংয়ের পণ্য বলে প্রতীয়মান। এ জন্য তাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে।

আমরা কিছু ডকুমেন্ট জব্দ করেছি। তাতে দেখা গেছে, এখানে তারা প্রচুর পরিমাণ বিয়ার বিক্রি করে। কিন্তু তাদের কোনো বার নেই। বারের ডিক্লেয়ার নেই। কোনো পণ্য বিক্রি করলে রাজস্ব কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করবে। পণ্যের মূল্য তালিকা তৈরি করবে। নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করতে পারবে। ফেব্রুয়ারি মাসে শুধু আট লাখ টাকা ভ্যাট তারা ফাঁকি দিয়েছে। হিসাব করলে আরও বেশি হবে। প্রাথমিকভাবে এসব ডকুমেন্ট সঠিক বলে মনে হচ্ছে না। এসব ডকুমেন্ট আমরা পরীক্ষা করে দেখব।এখানে এভিয়েন ব্র্যান্ডের সফট ড্রিংস ৫০০ মিলি ৩০০ টাকায় বিক্রি করছে তারা। এগুলো ফ্রান্স থেকে আসে। এসব আমদানি ছাড়া দেশে আসার সুযোগ নেই। কিন্তু তারা আমদানির কোনো প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি। কারা এসব তাদের সাপ্লাই করছে, যারা সাপ্লাই করছে তারা সঠিক নিয়মে আমদানি করছে কি না তা আমরা পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা করে দেখব।

শুল্ক গোয়েন্দার যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ শফিউর রহমান বলেন, দেশে ব্যবসা করতে হলে ভ্যাটের আওতায় থাকতে হবে। যেহেতু তারা ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে সে জন্য তাদের বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির মামলা হবে।যেসব পণ্য এখানে পাওয়া গেছে সেসব আমদানিযোগ্য। কিন্তু তারা চোরাচালানের মাধ্যমে এখানে এলসি ছাড়া নিয়ে এসেছে। বিকল্পপথে ক্রয় করায় তাদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা হবে।

হোটেল কর্তৃপক্ষ একাধিকবার দাবি করেছেন, হোটেলে কোনো মদ বিক্রি হয় না, বার নেই, বারের লাইসেন্স নেই এমন প্রশ্নের উত্তরে মোহাম্মদ শফিউর রহমান বলেন, আমরা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করব। তারা কী ধরনের ডকুমেন্ট পেয়েছে তা শুনব। এরপর বার না থাকা সত্ত্বেও মদ বিক্রির বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আলোচনায় আসা হোটেলটির কক্ষে শনিবার অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। কিন্তু কোনো মাদক না পেলেও গুলশান জোনের পরিদর্শক জানান, মদ মেলেনি তবে অভিযোগ থাকায় নজরদারি অব্যাহত থাকবে।তবে গতকাল রোববার দুপুর পৌনে ১টার দিকে আকস্মিক যৌথ অভিযানে আসেন কাস্টমস, শুল্ক গোয়েন্দা ও র‌্যাব-১। অভিযানকালে বিদেশি মদের ৩টি কার্টন উদ্ধার করা হয়। যেখান থেকে মোট ১০টি মদের বোতল জব্দ করা হয়।

ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাইলেন রেইন ট্রি কর্তৃপক্ষ : ‘দ্য রেইন ট্রি’ হোটেলে দুই তরুণীকে ধর্ষণে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন ঝালকাঠির (রাজাপুর) আওয়ামী লীগের এমপি বজলুল হক হারুন। তিনি ও তার ছেলে হোটেলটির পরিচালক।

বজলুল হক হারুন গনমাধ্যমকে জানান, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সেজন্য হোটেলের প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সতর্ক করা হয়েছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হারুন বলেন, দ্য রেইন ট্রি হোটেলের পরিচালকদের মধ্যে অপর একজন হলো আমার ছেলে। সব ধরনের নিয়মনীতি মেনেই হোটেলটি পরিচালনা করা হয়। কিন্তু এরপরও একটি ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। এর সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। হোটেলের কেউ জড়িত থাকলেও তাদের শাস্তি দেয়া হবে। আমরা দেশবাসীর মতো এ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি।

ধর্ষিতা দুই তরুণীর প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে তিনি বলেন, ওরা আমার মেয়ের মতো। ওদের কাছে আমার দুঃখ প্রকাশ করা ছাড়া আর কিছু করার নেই। ওরা যেন সঠিক বিচার পায় এটাই কাম্য।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভাই, এখানে আমার অপরাধ কী? আমাকে এখানে কেন জড়াতে চাচ্ছেন। আমি তো নিজেও এর বিচার চাই। আর হোটেল পরিচালনা করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আমি তো সেখানে সবসময় উপস্থিত থাকি না। একটা ব্যবসা করতে চেয়েছিলাম। দেশি-বিদেশিদের সেবা দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এমন একটি ঘটনা সবাইকে বিব্রত করেছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি এ নিয়ে চিন্তিত।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যারা ওইসব ব্যক্তিদের রুম ভাড়া দিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ