শনিবার ০৮ আগস্ট ২০২০
Online Edition

খুলনা বিভাগের কলেজগুলোতে লক্ষাধিক আসন শূন্য থাকবে!

খুলনা অফিস : চলতি শিক্ষাবর্ষে যশোর বোর্ডের অধীন খুলনা বিভাগের কলেজগুলোতে লক্ষাধিক আসন শূন্য থাকবে। গ্রামাঞ্চলের কলেজগুলোতে শিক্ষার্থীর অভাব বেশি হবে। ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণীতে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালা রোববার জারি করেছে মন্ত্রণালয়। নীতিমালা অনুযায়ী, ভর্তির জন্য অনলাইন ও এসএমএসের মাধ্যমে আগামী ৯ মে থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। প্রথম পর্যায়ে চলবে ২৬ মে পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ে ভর্তির কাজ শেষ হলে ১ জুলাই থেকে ক্লাস শুরু হবে। এবার এসএসসি পরীক্ষায় যশোর শিক্ষা বোর্ডে এক লাখ ২২ হাজার ৯৯৫ জন শিক্ষার্থী পাস করেছে। যার মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ হাজার ৪৬০ জন। আর বোর্ডের শীর্ষস্থান দখলকারী খুলনা জেলায় ২১ হাজার ২৮০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে।

যশোর বোর্ডের সূত্র জানায়, যশোর বোর্ডের অধীনে ৫৫৫ কলেজ রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি কলেজ ৪০টি। বাকি ৫১৫টি বেসরকারি কলেজ। বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ আব্দুল আলীম জানান, কলেজগুলোতে বিজ্ঞান বিভাগে ৬৪ হাজার ৫০০, মানবিক বিভাগে ৮২ হাজার ২৫০ এবং বাণিজ্য বিভাগে ৮৩ হাজার ২৫০ আসন বরাদ্দ রয়েছে। মোট দুই লাখ ৩০ হাজার শিক্ষার্থী এইচএসসিতে ভর্তির সুযোগ আছে। কোন কলেজ বরাদ্দের বেশি চাইলেও দেয়া হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে, যশোর বোর্ডে এবার এসএসসিতে এক লাখ ২২ হাজার ৯৯৫ জন শিক্ষার্থী পাস করেছে। এর মধ্যে শতকরা ১০ ভাগ ছাত্র-ছাত্রী ঝরে যাবে অথবা পলিটেকনিকে ভর্তি হবে। যদি ঝরে নাও পড়ে তবুও এক লাখ ৭ হাজার পাঁচটি আসন শূন্য থাকবে। বর্তমানে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির সংখ্যা কমে গেছে। গ্রামাঞ্চলের কলেজগুলোতে ৩/৪ জন ছাত্র বিজ্ঞানে ভর্তি হয়। বাণিজ্য বিভাগে ছাত্র-ছাত্রী বেশি ভর্তি হয়। গ্রামের কলেজে শিক্ষকরা নিজ নিজ কলেজে ভর্তির জন্য ছাত্র-ছাত্রীর বাড়িতে পর্যন্ত ধর্ণা দিচ্ছেন। নানা সুযোগ-সুবিধার আশ্বাস দিচ্ছেন। আবার উপজেলা পর্যায়ের সরকারি কলেজেও আসন শূন্য থাকবে।

যশোর বোর্ডের শীর্ষ স্থানীয় স্থান দখল করায় খুলনা, যশোর ও কুষ্টিয়া শহরের কলেজে এইচএসসিতে শিক্ষার্থীর ভিড় থাকবে। কিন্তু ঝিনাইদহের শৈলকুপা সরকারি কলেজ, হরিণাকুন্ডু সরকারি লালন শাহ্ কলেজ, কোটচাঁদপুর সরকারি মোশারফ হোসেন কলেজ, মহেশপুর সরকারি কলেজ, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান সরকারি কলেজ, কুষ্টিয়ার আমলা সরকারি কলেজ, সাতক্ষীরার কলারোয়া সরকারি কলেজ, তালা সরকারি কলেজ ও চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সরকারি কলেজে বিগত কয়েক বছর ধরে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীতে আসন ফাঁকা থাকছে বলে বোর্ডের সূত্র জানিয়েছেন।

যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দফতরের সূত্র জানায়, এ বছর খুলনার ৩৯২টি প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি উত্তীর্ণ হয়েছে ২১ হাজার ২৮০ জন শিক্ষার্থী। খুলনায় কলেজ রয়েছে ৯৮টি।

মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, একাদশ শ্রেণীতে শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য অনলাইনে িি.িীরপষধংংধফসরংংরড়হ.মড়া.নফ  ঠিকানায় এবং টেলিটকে এসএমএসের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। অনলাইনের ক্ষেত্রে ১৫০ টাকা ফি দিয়ে সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের প্রতিষ্ঠানের জন্য পছন্দক্রম দিয়ে আবেদন করতে হবে। আর এসএমএস’র মাধ্যমে প্রতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য ১২০ টাকা ফি দিয়ে আবেদন করতে হবে। এরপর একজন শিক্ষার্থী যতগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আবেদন করবে, তার মধ্য থেকে শিক্ষার্থীর মেধা ও পছন্দক্রমের ভিত্তিতে একটি কলেজ নির্ধারণ করে দেয়া হবে। কলেজে ভর্তির জন্য প্রথম পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হবে ৫ জুন। এরপর আরও দুই দফায় আবেদন গ্রহণ করা হবে। নির্ধারিত সময়ে ভর্তির কাজ শেষ করে ১ জুলাই থেকে ক্লাস শুরু হবে। শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালাটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

খুলনা কর অঞ্চলের এক লাখ নতুন করদাতা নিবন্ধনের রেকর্ড  : খুলনা কর অঞ্চল এক লাখ নতুন ইটিআইএন নিবন্ধনের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। চলতি অর্থ বছরের মে মাসের শুরুতেই নতুন করদাতা সৃষ্টির এই রেকর্ড অর্জন হয়। যা গত অর্থ বছরের চেয়ে প্রায় পাঁচগুণ বেশি। এছাড়া সমগ্র দেশের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রেও এগিয়ে আছে খুলনা কর অঞ্চল।

খুলনা কর অঞ্চলের দেয়া তথ্য মতে, দেশের ৩১টি কর অঞ্চলে চলতি বছরের মে মাসের শুরুতে ৮ লাখ ৬০ হাজার নতুন ইটিআইএন নিবন্ধন করা হয়েছে। যার মধ্যে গত রোববার পর্যন্ত শুধুমাত্র খুলনা কর অঞ্চলেই ১ লাখ ৩৭৯ নতুন ই-টিআইএন নিবন্ধিত হয়েছে। চলতি অর্থ বছরের ১০ মাসেই এই মাইলফলক অতিক্রম করে খুলনা কর অঞ্চল। আর গত অর্থ বছরে ২২ হাজার ৮৮০ নতুন ইটিআইএন নিবন্ধন হয়। সে অনুযায়ী প্রায় ৫ গুণ বেশি নতুন ইটিআইএন নিবন্ধন হয়েছে। বর্তমানে খুলনা কর অঞ্চলে ইটিআইন ভুক্ত করদাতা রয়েছে ২ লাখ ৩৭ হাজার। আর পুরাতন টিআইএনসহ মোট করদাতা রয়েছে ৩ লাখ ৩৭ হাজার। এছাড়া অন্যান্য কর অঞ্চলের তুলনায় খুলনায় সর্বোচ্চ সংখ্যক আয়কর রিটার্ন দাখিল হয়েছে। অভিনব এই সাফল্যের পেছনে খুলনা কর অঞ্চল বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করে। যার মধ্যে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (ইউডিসি) ও পৌরসভা ডিজিটাল সেন্টার (এমডিসি) উদ্যোক্তাদের ই-টিআইএন নিবন্ধন বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্টোকহোল্ডারদের সাথে মতবিনিময়, খুলনা বিভাগের ১০টি জেলায় মোবাইল টিম ফর টিআইএন (এমটিটি) কর্মসূিচ, শিক্ষকদের জন্য ট্যাক্স ট্রেনিং ফর টিচার (টিটিটি) কার্যক্রম উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের কাছে টিআইএন নিবন্ধনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মোবাইলে এসএমএস ও ই-মেইল বার্তা পাঠানো হয়েছে।   খুলনা কর কমিশনার মো. ইকবাল হোসেন বলেন, খুলনা কর অঞ্চলের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর অক্লান্ত পরিশ্রম, প্রশাসনের সহযোগিতা ও করদাতাদের আন্তরিকতায় আজকের এই সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া গণমাধ্যমের একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। এ সফলতার জন্য তিনি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ