মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

’১৮ নির্বাচনের সময় প্রস্তুত আওয়ামী সুবিধাবাদীরাও প্রস্তুত

জিবলু রহমান : ৬ মে ২০১৭ ফরিদপুরের ইমামউদ্দিন স্কয়ারে জেলা শ্রমিকলীগ আয়োজিত মে দিবসে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলীয় নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত হয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়ে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, আগামী ২০১৮ সালের মধ্যেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জনগণের কাছে গিয়ে বিগত দিনে কি অবস্থা ছিল আর কি উন্নয়ন হয়েছে তা তুলে ধরতে হবে। (সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক ৭ মে ২০১৭)
বিগত সংসদ নির্বাচনের আগে ৬ ডিসেম্বর ২০১৩ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া জাতির জনকের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে সাংবিধানিকভাবে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী আছেন, তাঁর অধীনেই সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছিলেন মন্ত্রী আমির হোসেন আমু। তিনি বলেন, দেশে শূন্যতা সৃষ্টি করার জন্য প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন না। শেখ হাসিনার পদত্যাগের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। যারা বাংলাদেশকে চায়নি, দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে, তাদের কাছে দেশের কোনো মূল্য আছে কি না মানুষ তা আজ উপলব্ধি করছে।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি চেয়ারপার্সনের অফিস গেটে ইট, বালুর ট্রাক দিয়ে অবরুদ্ধ করে, শীর্ষ নেতাদের হুকুমের আসামী করে জেলে প্রেরণ করে, বিএনপির কার্যালয়ে তালা লাগানোর চিত্র সারাবিশ্বের মিডিয়ায় প্রকাশ পেয়েছে।
বর্তমানেও সভা-সমাবেশের অধিকার হরণ করা-এগুলো কি গণতান্ত্রিক সরকারের কাজ নাকি সংবিধানসম্মত? ধরা যাক বিএনপি নামের রাজনৈতিক দলটি বিলুপ্ত হলো। তবে কি দেশে শক্তিশালী গণতন্ত্র থাকবে? কেননা গণতন্ত্রের অন্যতম পূর্বশর্ত হচ্ছে শক্তিশালী বিরোধী দল। ৫ জানুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচন দেশ-বিদেশে নিঃসন্দেহে প্রশ্নবিদ্ধ।
সরকার গঠনের ৯০ দিনের মধ্যে আওয়ামী লীগ আরেকটি নির্বাচন দেয়ার কথা দিয়েছিল। এ কথা সবার মুখে মুখে এখনও বিচরণ করে। ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৪ জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক জোট আয়োজিত আলোচনা সভায় গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন আবারো সেই কথাটি উল্লেখ করেছিলেন।
আওয়ামী লীগ জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে অভিযোগ করে ড. কামাল বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ বলেছিল তারা সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য নির্বাচন করছে। তিনি দাবি করেন, ‘সরকার গঠনের ৯০ দিনের মধ্যে আওয়ামী আরেকটি নির্বাচন দিতে চেয়েছিল। দেশের সব মানুষ এই কথা জানে। কিন্তু এখন তারা এটা অস্বীকার করছে।’
বর্তমান সংসদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় স্বঘোষিত নির্বাচিতদের জনগণের প্রতিনিধি মানতে পারি না। যে সংসদে জনগণের প্রতিনিধিত্ব নেই, তা কিসের সংসদ? কাদের সংসদ?’
কোনো আলাপ-আলোচনা না করে বিচারপতির অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদে নেয়ার মধ্যদিয়ে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা তুলে দেয়া, ৫ জানুয়ারি ভোটারবিহীন একতরফা নির্বাচন করার কড়া সমালোচনা করেন ড. কামাল। এমনকি ১৫৩ জনের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়া এবং ‘৮২ ভাগ’ ভোটারকে বঞ্চিত করে গঠিত সরকারকে ‘ছেলে খেলা’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দ্রুত একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি জানিয়ে গণফোরাম সভাপতি বলেন, ‘বলা হয়েছিল আরেকটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করবেন। আট মাস হয়ে গেল। আপনাদের কে মত দিয়েছে, এভাবে চলতে থাকবে? এই প্রতারণা আমরা মেনে নেব?’ তিনি বলেন, ‘তারা মনে করছে পেয়ে গেছি। যেমন বাচ্চারা বলে, এ পুতুলটা আমার, এ পুতুলটা আমার। রাষ্ট্রক্ষমতা কি পুতুল খেলা? এই পুতুল খেলাকে কি গণতন্ত্র বলে?’ (সূত্রঃ দৈনিক আমার দেশ ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৪)
দ্য ইকনোমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট’র বার্ষিক গণতন্ত্র সূচকে বলা হয়েছে: ত্রুটিপূর্ণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায়ও উন্নীত হতে পারেনি বাংলাদেশ, বরং হাইব্রিড (রেজিম) শাসন ব্যবস্থায় চলছে। অনেকটা স্থিতিশীল রয়েছে এ নেতিবাচক সূচক। পাঁচটি বৃহৎ ক্যাটাগরিসহ মোট ৬০টি নির্দেশকের ভিত্তিতে এই সূচক তৈরি করা হয়। পাঁচটি বৃহৎ ক্যাটাগরি হলো-নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং বহুদলীয় ব্যবস্থা, কার্যকর সরকার, অংশগ্রহণমূলক রাজনীতি, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং নাগরিক স্বাধীনতা।
মোট ১০ পয়েন্টের মধ্যে অন্তত ত্রুটিপূর্ণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় উন্নীত হতে প্রয়োজন ৬ পয়েন্ট। গত দুবছর বাংলাদেশের পয়েন্ট ৫.৭৩। আর ২০১৪ সালে ছিল ৫.৭৮ পয়েন্ট। হাইব্রিড শাসন ব্যবস্থার পয়েন্ট ৪ থেকে ৫.৯৯। সর্বশেষ ২০০৬ সালে ৬.১১ পয়েন্ট নিয়ে ক্রটিপূর্ণ গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় ছিল বাংলাদেশ। পরের দুবছর এই ব্যবস্থা থেকে ছিটকে ৫.৫২ পয়েন্ট নিয়ে হাইব্রিড শাসন ব্যবস্থায় পতিত হয়। এরপর আর কখনো ৬ পয়েন্ট পায়নি বাংলাদেশ।
হাইব্রিড (রেজিম) শাসন ব্যবস্থা বলতে বোঝায়, একনায়কতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা যদিও নির্বাচন হয়। নাগরিক স্বাধীনতা না থাকায় জনগণ বোঝে না কে ক্ষমতার প্রকৃত মালিক। এ ধরনের শাসন ব্যবস্থা অংশগ্রহণমূলক না হয়ে অভিজাত এবং সুবিধাবাদীদের নিয়ন্ত্রণে থাকে, সরকারের জবাবদিহিতা তেমন থাকে না, রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা থাকে দুর্বল, দুর্নীতির বিস্তার এবং থাকে সুবিধাবাদের প্রভাব। আর আইনের শাসন থাকে অনুপস্থিত। (সূত্রঃ দৈনিক যুগান্তর ২৬ জানুয়ারি ২০১৭)
দেশে যদি মানুষের নির্ভয়ে চলা স্বাধীনতা না থাকে তাহলে ‘দেশ ভাল চলছে’ এরকম সার্টিফিকেট কে দিবে? প্রতি ঘণ্টার সংবাদ হলো-বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কতিপয় নেতা-কর্মী। প্রায় প্রতিদিনই তারা জড়িয়ে পড়ছেন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, ঝুট-মাদক ও অস্ত্র ব্যবসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হল ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতেই মূলত তাদের এই খুনোখুনি। নিজেদের মধ্যে সংঘটিত এসব সন্ত্রাসী ঘটনায় নেতা-কর্মীসহ নিরীহ মানুষকেও প্রাণ দিতে হচ্ছে। এমনকি তাদের বুলেট থেকে রক্ষা পায়নি মাতৃগর্ভের শিশুও।
সন্দেহ নেই, ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের পর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা সম্পদ ও পদপদবি দখলে আরও মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তাই ২০১১ সালে বছরে অন্তর্দলীয় সংঘর্ষে প্রতি মাসে তিনটি হত্যাকাণ্ড ঘটতে দেখি। ২০১১ থেকে ২০১৪ সালের জুন পর্যন্ত সাড়ে সাত হাজার নেতা-কর্মী অন্তর্দ্বন্দ্বে আহত হয়েছেন। এই সময়ে বিএনপি-জামায়াত বনাম আওয়ামী লীগ কোন্দলে নিহত ১৩৩। আহত হয়েছে সাড়ে সাত হাজার। (সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো ১৪ অক্টোবর ২০১৪)
বগুড়ার কাহালু উপজেলার শীতলাই গ্রামের শুকুর আলী ও পুত্র সিজার হোসেনকে ১৭ অক্টোবর ২০১৪ কাহালু উপজেলার আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র হেলাল উদ্দিন কবিরাজ, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান ও মুরইল ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম গফফারের পরামর্শেই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সমিত কুমার তথ্য ও প্রযুক্তি আইনে শুকুর ও সিজারের বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ড করেন। আওয়ামী লীগ নেতার মামলায় ওসি দ্রুত তিন মাইল দূরের গ্রাম শীতলাই গ্রামে গিয়ে পিতা-পুত্রকে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারের সময় সিজান জুমার নামায পড়তে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। দৈনিক মানবজমিনের ৩ নবেম্বরের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রামের রেললাইনের উত্তর পাশে ফেরি করে বাদাম, আমড়া, জলপাই, আচার বিক্রেতা শুকুরের বাড়ি। সরকারি জমিতে ঝুপড়ি একটি ঘরই তার সম্বল। ঘরে টিনের একটি ভাঙা দরজা। ভেতরে একটি নড়বড়ে চৌকি। এখানে স্ত্রী ও দুই কন্যাকে নিয়ে তিনি থাকেন। পাশের কক্ষে একটি বাঁশের মাচা। সেখানে থাকে তার পুত্র অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র সিজান। অ্যাজমার রোগী শুকুর নিজে বোমাইলের বাটন টিপতে জানেন না। শীতলাই সিদ্দিকিয়া দাখিল মাদরাসার অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র সিজান হোসেন। মেধাবী ছাত্র হিসেবে পরিচিত সিজান। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘শুকুর আলী ও তার পুত্র সিজান মোবাইলফোনে প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে ব্যাঙ্গাত্মক কার্টুনের ভিডিও অন্যদের দেখাচ্ছিল।’ (সূত্রঃ দৈনিক ইনকিলাব ৬ নবেম্বর ২০১৪)
জলাশয় ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ প্রতিরোধের জন্য কঠোর আইন থাকা সত্ত্বেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খাল-বিল-নদ-নদীগুলো দিনের পর দিন বেদখল হয়ে যাচ্ছে। যাঁরা এসব করছেন, তাঁরা প্রভাবশালী। বিশেষত ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের এসব বেআইনি দখলবাজি বেপরোয়া রূপ ধারণ করেছে।
নাটোরের সিংড়া উপজেলার শেরকোল ইউনিয়নের বারনই নামের একটি নদ এবং পানাউল্লাহ খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করার সংবাদ ১৮ জানুয়ারি ২০১৬ দৈনিক প্রথম আলো প্রকাশ করেছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা এই বেআইনি কাজকে নির্বিঘœ করতে বারনই নদের তীর দখল করে নির্মাণ করেন ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের কার্যালয়। দলটির ওই ওয়ার্ড শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নেতৃত্ব দিচ্ছেন এই দখলবাজির। একই সঙ্গে নদের অন্য পাশের তীর দখল করে নির্মাণ করছেন ব্যক্তিগত বাণিজ্যিক ভবন।
শুধু নাটোরের এই একটি ইউনিয়নেই নয়, এ ধরনের দখলবাজি চলছে সারা দেশে। নদীর স্বাভাবিক স্রোতোধারা নষ্ট করে বাঁধ দিয়ে মাছ ধরা হয়। অনেক অঞ্চলে শুকনো মওসুমে নদীর পানিপ্রবাহ কমে গেলে পানি সেচে মাছ ধরা এবং শুকিয়ে ফেলা নদীর বুকে ফসল ফলানো হয়। চলনবিলখ্যাত নাটোর অঞ্চলে প্রাকৃতিক জলাশয় সংরক্ষণের উদ্যোগের অভাবে পরিবেশে বিরূপ প্রতিক্রিয়া কী সুদূরপ্রসারী ক্ষতির কারণ হতে পারে, তা বিবেচনায় নেওয়ার কেউ যেন নেই।
ক্ষমতাসীন দলের ছত্রচ্ছায়ায় থেকে, দলের নাম ব্যবহার করে যাঁরা ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করতে গিয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত দলেরই। সরকারের দায়িত্ব আইনের কঠোর প্রয়োগের মধ্য দিয়ে প্রাকৃতিক জলাশয়গুলো রক্ষা করা।
এক দিনে কয়েকটি জাতীয় দৈনিক আওয়ামী লীগের দখলদারী নিয়ে বেশ কিছু চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। ৭ মে ২০১৭ দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা জানিয়েছে-রাজশাহী মহানগরে ২০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান সরকারি রাস্তা দখল করে একটি দোকানঘর নির্মাণ শুরু করলে ৬ মে পুলিশ গিয়ে কাজ থামিয়ে দিয়েছে। ওয়ার্ডের বেলদারপাড়া মোড়ে তিনি দোকানঘরটি নির্মাণ করছিলেন।
৬ মার্চ থেকে আব্দুল মান্নান বেলদারপাড়ায় গলির রাস্তার অর্ধেক দখল করে দোকানঘর নির্মাণ শুরু করেন। এ অবস্থা দেখে ১০ মার্চ কিসমত আলী নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা নগরের বোয়ালিয়া থানায় একটি জিডি করেন। এরপর ১২ মার্চ এলাকাবাসী রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়রের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেন।
এ ব্যাপারে ২৭ মার্চ দৈনিক প্রথম আলোয় ‘সরকারি জায়গায় আ.লীগ নেতার দোকান’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপরও নির্মাণকাজ চলছিল। পরে বোয়ালিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সোলাইমান ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ থামিয়ে দেন।
৭ মে ২০১৭ দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত তথ্যে জানা গেল : আদালতের নির্দেশ অমান্য করে বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া হাজিপাড়া এলাকায় রাতের আঁঁধারে বাড়ির মালিকের পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রেখে সীমানা প্রাচীর ভেঙে বগুড়া জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল হক মঞ্জুর নেতৃত্বে অর্ধশত সন্ত্রাসী জায়ড়া দখলের চেষ্টা করে। একটি ব্যাংকের কাছে জায়গাটি দায়বদ্ধ থাকার সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়া হয় বাড়ির একটি গাছে। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ আসায় সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। ৬ মে ২০১৭ দুপুরে বগুড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া হাজিপাড়ার মৃত মোহাম্মদ আলী শাহের ছেলে আবু সাইম ফিরোজ।
সংবাদ সম্মেলনে আবু সাইম ফিরোজ অভিযোগ করে বলেন, তারা প্রায় ১০০ বছর ধরে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া বসতবাড়িতে মা, বাবা, ভাই-বোন, স্ত্রী সন্তান নিয়ে বসবাস করছেন। একই এলাকার মৃত আমেজ উদ্দিনের ছেলে প্রভাবশালী জাকির হোসেন, জাকের হোসেন ও জাহাঙ্গীর আলম এবং ইদু প্রামাণিকের ছেলে আফসার আলী তাদের (ফিরোজ) বসতবাড়ি অন্যায়ভাবে দখলের জন্য ২০১২ সালে সহকারী সেটেলমেন্ট আদালতে মামলা করেন। বিচারক বিবাদী পক্ষে রায় দেবার পর থেকে তারা বাড়িটি দখলের জন্য হুমকি দিয়ে আসছিল। ৫ মে ২০১৭ রাত ২টার দিকে প্রতিপক্ষ অর্ধশত সন্ত্রাসী ঘরে তালা দিয়ে সবাইকে অবরুদ্ধ করে। সেইসাথে এই সম্পত্তি রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক বগুড়া শাখায় দায়বদ্ধ এমন সাইনবোর্ড লাগায় একটি গাছে। সন্ত্রাসীরা দরজা ও সীমানা প্রাচীর ভেঙে বিপুলসংখ্যক রাজমিস্ত্রি ও শ্রমিক দিয়ে সেখানে ৬০ ফুট দৈর্ঘ্য প্রাচীর নির্মাণ করে। নির্মাণ শ্রমিক ও সন্ত্রাসীদের শব্দে বাড়ির সদস্যদের ঘুম ভেঙে যায়। রাত সাড়ে ৩টার দিকে পুলিশ ও কাউন্সিলর এলে সন্ত্রাসীরা চলে যায়। সন্ত্রাসীদের হুমকি-ধামকিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে আতংকে দিন কাটাচ্ছেন তাদের পরিবার।
শুধু ছাত্রলীগ-যুবলীগ নয়, মন্ত্রী-সাংসদ থেকে তৃণমূল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে অন্তর্দ্ব›দ্ধ। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হানাহানির মূলে রয়েছে টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ এবং দখলবাজি প্রতিষ্ঠা। নারায়ণগঞ্জ, ফেনী, লক্ষ্মীপুরে একের পর এক হানাহানি এখন সারাদেশে মূল আলোচনার বিষয়। খুলনা, কুমিল্লাসহ অন্য অনেক জেলাতেও একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে সন্ত্রাসের গডফাদারদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে যাওয়ার সাহসই পাচ্ছেন না কোনো কোনো কেন্দ্রীয় নেতা।
[চলবে]

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ