শনিবার ০৮ আগস্ট ২০২০
Online Edition

চিরিরবন্দরে ইট ভাটার কালো ধোঁয়ায় ১০ হাজার কলাগাছ বিনষ্ট

 

চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) সংবাদদাতা : দিনাজপুর চিরিরবন্দর উপজলোর সাতনালা ইউনিয়নের ঘন্টাঘর বাজার এলাকার ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় প্রায় ১০ হাজার কলাগাছসহ ১০ একর জমির বোরো ধান ভুট্টা, ফলদবৃক্ষ বিনষ্ট হয়ে গেছে। কলাগাছ, বোরো ধান, ভুট্টা পুড়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ক্ষতি পুরোনের দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন ।

প্রত্যক্ষ্যদর্শী কৃষক তমিছ উদ্দিন, মোজাম্মেল, মফিজউদ্দিন, জিয়ারুল হকসহ আরো অনেকে জানায়, গত বৃহস্পতিবার ইটভাটার ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় আশপাশের এলাকা। ধোঁয়ার কারণে কলাবাগানের এমন ক্ষতি হবে প্রথমে আমরা বুঝতে পারিনি। কিন্তু পরে বুঝতে পারি গত দু’দিন ধরে দেখি কলাগাছের পাতা ধীরে ধীরে শুকিয়ে যাচ্ছে। তারা আরো জানান, কলা গাছগুলোর বয়স হয়েছিলো ৯ মাস। আর তিন মাস পরেই কলা বাজারজাত করার উপযোগী হত। কিন্তু এখন গাছ ধীরে ধীরে শুকিয়ে যাওয়ায় তা আর সম্ভব হচ্ছে না। কলাগাছগুলো ভালো থাকলে ১০ হাজার কলা গাছে প্রায় ৩০ লাখ টাকার কলা হত।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকার তমিজ উদ্দিন ১৫০ শতাংশ, মোজামেল হক ৫০ শতাংশ, কেরামত আলীর ১০০ শতাংশ, মফিজ উদ্দিন ৫০ শতাংশ, রশিদুল ইসলামের ২০ শতাংশ, জিয়ারুল হকের ১৫০ শতাংশ, জিকুরুর হক ৩০ শতাংশ, রিয়াজুল ইসলাম ৭৫ শতাংশ, মকবুল ৩০ শতাংশ, সাদ্দাম হক ৭৫ শতাংশ, বুলু রহমান ৫০ শতাংশ, যফুর ৩০ শতাংশ, হাবলু ১৫ শতাংশ, আব্দুল কাফি ৩০ শতাংশ, মকলেস ৫০ শতাংশ রাজ্জাক ৬০ শতাংশ, মহীমালি ৪৫ শতাংশ, এন্তাজুল ৪৫ শতাংশ, ফজলা ৪৫ শতাংশ, হানিফা ২০ শতাংশ, হালিম ২০ শতাংশ, খোকা ৫০ শতাংশ, কাবলী ২০ শতাংশ, আফজাল ৫০ শতাংশ, জসীম ৫০ শতাংশ জমি মিলে প্রায় ১০ হাজার কলাগাছসহ ১০ একর জমির বোরো ধান, ভুট্ট সহ বেশ কিছু ফলদ বৃক্ষ গাছ বিনষ্ট হয়ে গেছে। 

চাষাবাদকৃত কলাগাছের এমন ক্ষতি হওয়ায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়ে। ভুক্তভোগী মোজাম্মেল হক বলেন, ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি পুড়ে যাওয়া ফসলের ক্ষতি পূরণসহ জনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে ইটভাটা বন্ধের দাবি জানান।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, আমরা ক্ষতিগ্রস্ত মাঠ পরিদর্শন করেছি। তাৎক্ষণিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। তবে কলাবাগানে ভাটার ধোঁয়ার কারণে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. গোলাম রব্বানী কথা হলে তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ