শনিবার ০৮ আগস্ট ২০২০
Online Edition

খুনিদের দ্রুত গ্রেফতার দাবি স্বজনদের মিরসরাইয়ে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

 

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা : চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে এক যুবলীগ নেতাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে খুন করেছে সন্ত্রাসীরা। তার নাম গোলাম মোস্তফা (৪০)। রোববার (৭ মে) রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার সময় উপজেলার ১ নম্বর করেরহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ অলিনগর এলাকায় এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। নিহত মোস্তফা করেরহাট ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন বলে জানান ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শেখ সেলিম। মোস্তফা অলিনগর এলাকার কালাম হুজুর বাড়ির আব্দুল ওয়াদুদ মজুমদারের পুত্র। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ছেলে শাহেদ বিন প্রভি, ১ম শ্রেণীতে ও মেয়ে নুসরাত জাহান প্রমি ৮ম শ্রেণীতে পড়াশোনা করে।

সোমবার সন্ধ্যায় লাশ মর্গে থেকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এরপর সাড়ে ৭টার সময় জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।

করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন জানান, প্রতিদিনের মত রবিবার রাতে স্থানীয় করেরহাট বাজার থেকে রাতে নিজ মোটরসাইকেলে (নং ফেনী ল ১১-৩১৮৫) গোলাম মোস্তফা বাড়ি ফিরছিলেন। নিজ বাড়ির সামনে রাস্তার উপর এলে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে রেখে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই গোলাম মোস্তফার মৃত্যু হয়। তিনি আরো জানান, মোস্তফা অত্যন্ত ভদ্র ও বিনয়ী স্বভাবের ছিলো। তাকে কেন যে এভাবে খুন করলো বুঝতে পারছিনা। যেভাবে সে খুন হয়েছে তাতে মনে হয় নেশাগ্রস্থ ছাড়া স্বাভাবিক অবস্থায় এমন নৃশংস হত্যাকান্ড ঘটাতে পারবে না।

এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, মোস্তফা এলাকায় মানুষের শালিস বৈঠক করতেন। অনেক মানুষ বিভিন্ন বিরোধের সীমাংসা চাইতে তার কাছে আসতো। কিছুদিন পূর্বে ওই এলাকার নাছির নামে একজনের বিচার করেছে। সে কারণে নাছির তার উপর ক্ষিপ্ত ছিলো। 

নিহতের স্ত্রী বড় ভাই আমিন শরীফ জানান, রবিবার রাতে তার বোন খাওয়া দাওয়া করে ছেলে মেয়ে নিয়ে ঘুমিয়ে যান। তখনো তার মোস্তফা বাড়িতে ফেরেনি। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখতে পান তার মোস্তফা ফেরেনি। পরে তার বোন ঘরের দরজা খুলে উঠানে মোস্তফার রক্তাক্ত লাশ দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। তবে কে বা কারা কেন তাকে হত্যা করেছে তা তিনি জানাতে পারেননি। 

 তার মৃত্যুর খবর পেয়ে সোমবার ভোরে গোলাম মোস্তফার বাড়িতে ছুটে যান করেরহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান জসিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ শেখ সেলিম সহ আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ছুটে যান। তারা এই হত্যাকান্ডের সাথে যেই জড়িত থাক না কেন, তাদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান।

এদিকে স্বামীকে হারিয়ে শোকে প্রায় পাগল হয়ে যাওয়ার অবস্থা নিহত মোস্তফার স্ত্রী নিলুফার ইয়াসমিনের। সে বিলাপ করে বলতে থাকে, ‘আমার স্বামী তো ভালো মানুষ। মানুষের উপকার করতো। কেন তাকে এভাবে মেরে ফেললো। আমি ছেলে মেয়েকে নিয়ে কোথায় যাবো? কার কাছে যাবো। আমি আমার স্বামীর খুনিদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি চাই।’

 গোলাম মোস্তফার খুনের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে খুনিদের গ্রেপ্তার করে শাস্তির দাবী করেছেন উপজেলা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, করেরহাট ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

 জোরারগঞ্জ থানার এসআাই বিপুল দেবনাথ জানান, সোমবার ভোরের দিকে বাড়ির সামনে রাস্তার ওপর মোস্তফার লাশ পড়ে থাকতে দেখে তার স্ত্রী থানায় খবর দেন।

 জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবির জানান, মোস্তফা রাজনীতির পাশাপাশি বালু ও পোলট্রি ব্যবসা করতেন। জমি নিয়ে মোস্তফার পারিবারিক বিরোধ ছিল বলেও আমরা খবর পেয়েছি। তদন্তে সবকিছুই খতিয়ে দেখা হবে। লাশের ময়নাতদন্ত লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। খুনের ঘটনায় থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ