সোমবার ১০ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ঝিনাইদহের লেবুতলায় অপারেশন ‘সাবটাইল স্পিলিট’ সমাপ্ত

খুলনা : গতকাল সোমবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি দিদার আহমেদ ঝিনাইদহ সদর উপজেলার লেবুতলা গ্রামের মৃত শরাফত হোসেনের বাড়িতে চালানো অভিযান অপারেশন ‘সাবটাইল স্পিলিট’ সমাপ্ত ঘোষণা করেন

# পোড়াহাটির সেই আব্দুল্লাহই মহেশপুরে আত্মঘাতী!

# গ্রেফতারকৃত শামীম নব্য জেএমবির আঞ্চলিক সমন্বয়কারী

আব্দুর রাজ্জাক রানা, ঝিনাইদহ থেকে ফিরে : ঝিনাইদহ সদর উপজেলার লেবুতলা গ্রামের মৃত শরাফত হোসেনের বাড়িতে চালানো অভিযান অপারেশন ‘সাবটাইল স্পিলিট’ সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুর পৌণে ১টার দিকে পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি দিদার আহমেদ এই অভিযান সমাপ্তের ঘোষণা দেন। অভিযানের সময় সাতটি গ্রেনেড ও একটি বোমা নিষ্ক্রিয় করা হয়। এ ছাড়া কিছু ইলেক্টনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাড়িটিতে অভিযান শুরু করে কাউন্টার টেররিজম ও জেলা পুলিশ সদস্যরা। রোববার থেকে পুলিশ এ বাড়িটি ঘিরে রেখেছিল। আর রোববার দুপুরে বাড়ির মালিক মৃত শরাফত হোসেনের ছেলে শামিমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই বাড়ি থেকে আটটি বোমা ও একটি নাইন এমএম পিস্তল ও বেশ কয়েক রাউন্ড গুলী উদ্ধার করা হয়। এই আস্তানায় বেশ কিছু ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস পাওয়া গেছে যেগুলো দিয়ে শক্তিশালী বোমা তৈরি করা যেতো বলে ডিআইজি জানিয়েছেন।

ডিআইজি দিদার আহমেদ বলেন, ‘এই জঙ্গি আস্তানা থেকে আটক বাড়ির মালিকের ছোট ছেলে শামীম অত্রাঞ্চলের নব্য জেএমবির সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করত।’ তিনি জানান, জঙ্গি আস্তানা থেকে উদ্ধার করাটি গ্রেনেড ও একটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। সন্দেহভাজন জঙ্গি আস্তানায় অভিযান শেষ হলেও গ্রামটিতে এখনও পুলিশ ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সদস্যরা অবস্থান করছেন। তবে স্থানীয় লোকজন বাসাবাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে।

লেবুতলা গ্রামের হায়দার আলী জানান, মৃত শরাফত আলী প্রায় ২০ বছর আগে সদর উপজেলার কামারকুন্ডু এলাকা থেকে এই গ্রামে এসে বসবাস শুরু করেন। প্রায় দশ বছর আগে তিনি মারা যান। তার বড় ছেলে হাসান রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। আর ছোট ছেলে শামীম ঝিনাইদহ পলিটেকনিকে পড়াশোনা করেন। তিনি বলেন, ‘শরাফত হোসেনের দুই ছেলেই খুবই ধর্মপ্রাণ। তাদের দুইজনকে কখনো আড্ডা দিতে দেখিনি।’

জসিম উদ্দিন নামে আরেকজন বলেন, ‘শরাফত হোসেনের দুই ছেলে যে জঙ্গিবাদে জড়িত এটা পুলিশের অভিযান দেখেই টের পেলাম। এর আগে এমন কোনো কার্যক্রম দেখিনি। শরাফত হোসেনের ছোট ছেলে শামীম অনেক মেধাবী। পড়ালেখায় সে খুব ভালো। তার পিতা শরাফত মারা যাওয়ার পর বড় ছেলে হাসান রাজমিস্ত্রির কাজ করে সংসারের হাল ধরেন।

পুলিশ জানায়, গতকাল সোমবার সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে অভিযান শুরু করেন কাউন্টার টেরোরিজমের সদস্যরা। সাড়ে ১২টায় অভিযান শেষ হয়। অভিযানে অংশ নেন ঢাকা থেকে আসা বোম্ব ডিসপোজাল টিমের সদস্যরা। অভিযান চলাকালে থেমে থেমে বোমা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। অভিযান এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। আশপাশের বাড়ির সদস্যদের বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়। অভিযান শেষে ১২টা ৪০ মিনিটে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি দিদার আহমেদ। এসময় উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান। এর আগে রোববার ভোর থেকে ঝিনাইদহের মহেশপুরের বজরাপুরে হঠাৎপাড়ায় জঙ্গি আস্তানায় প্রথম অভিযান শুরু হয়। রাত ৮টা ৪০ মিনিটে এই অভিযানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেন ডিআইজি।

মহেশপুরের ‘অপারেশন সাটল স্পিলিটে’ দুই জঙ্গি নিহত : ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় বজরাপুর এলাকার জঙ্গি আস্তানায় পরিচালিত অভিযান ‘অপারেশন সাবটাইল স্পিলিটে’ দুই জঙ্গি নিহত হয়। গতকাল সোমবার সকালে জঙ্গিদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে। 

শনিবার দিবাগত রাত থেকে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে বজরাপুরের এই বাড়ি ঘিরে রাখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট রোববার ভোর থেকে বাড়িটিতে অভিযান চালায়।

খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি বলেন, ‘ রোববারের এই অভিযানের নাম দেয়া হয়েছে অপারেশন সাবটাইল স্পিলিট। অভিযানে দুই জঙ্গি নিহত হয়েছে। তাদের একজনের নাম তুহিন। তার সম্পর্কে আর কোনও তথ্য এখনও জানা যায়নি। নিহত অন্য জঙ্গির পরিচয়ও জানা যায়নি।’

ডিআইজি দিদার আহমেদ বলেন, ‘ওই জঙ্গি আস্তানার বাড়ির মালিক জহুরুল ইসলাম ও তার ছেলে জসিমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে দুইটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।’ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, বাড়িটি নব্য জেএমবির আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। ওই বাড়িতে নিহত দুইজনই নব্য জেএমবির ক্যাডার। রোববার বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে ঢাকা থেকে বোম্ব ডিসপোজাল টিম এসে পৌঁছায় মহেশপুরের বজরাপুরে। এরপর শুরু হয় চূড়ান্ত অভিযান। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি দিদার আহমেদ ও ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানসহ র‌্যাব, পুলিশ ও ডিবি, কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের বিপুল সংখ্যক সদস্য। অভিযান চলাকালে সন্ধ্যার পর সন্দেহভাজন জঙ্গিবাড়ি থেকে থেমে থেমে বোমা বিস্ফোরণ ও গুলীর শব্দ শোনা যাচ্ছিল। এ সময় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে রোববার সকালে মহেশপুরে ঘিরে রাখা বাড়িতে বোমা-গুলীতে দুইজন নিহত হন। অভিযানকারীরা দাবি করেন, এদের একজন গুলীতে, অন্যজন আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে মারা গেছেন। এ সময় আহত হন কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের এডিসি নাজমুল ইসলাম, পুলিশের এসআই মহসিন ও মুজিবুর রহমান। রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকে পুলিশের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট প্রবেশ করে ওই আস্তানায়। এরপর আস্তানা থেকে দু’টি বোমার বিস্ফোরণ ও তিন রাউন্ড গুলীর শব্দ পাওয়া যায়। ডিআইজি জানান, আস্তানায় বড় ধরনের বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।

তিনি বলেন,‘সন্ধ্যায় জঙ্গি আস্তানা থেকে উদ্ধার করা চারটি বোমা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। এছাড়া সেখান থেকে দুটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। তবে নিহত দুই ‘জঙ্গি’র লাশ সেখান থেকে এখনো উদ্ধার করা হয়নি। এ সময় ডিআইজি একই দিনে ঝিনাইদহে দুই স্থানে জঙ্গিবিরোধী অভিযান সফল হয়েছে বলে দাবি করেন। সহযোগিতা করায় গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয় জনগণকে ধন্যবাদ জানান।

পোড়াহাটির সেই আব্দুল্লাহই মহেশপুরে আত্মঘাতী! : ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বজরাপুরে জঙ্গি আস্তানায় আত্মঘাতী হওয়া জঙ্গিই সদর উপজেলার পোড়াহাটির সেই আব্দুল্লাহ বলে দাবি করেছেন তার স্বজনরা। গতকাল সোমবার লাশ দেখে ধর্মান্তরিত আব্দুল্লাহর (যার আগের নাম ছিল প্রভাত কুমার বিশ্বাস) মা, ভাই ও প্রথম স্ত্রী এই দাবি করেন। পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলামও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মনিরুল ইসলাম জানান, পুলিশ ধারণা করছিল পোড়াহাটির আস্তানা থেকে পালিয়ে যাওয়া আবদুল্লাহ চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবনগর এলাকার জঙ্গি আস্তানায় ‘অপারেশন ঈগল হান্টে’ নিহত হয়। তবে এখন তার স্বজনরা দাবি করছে মহেশপুরে আত্মঘাতী জঙ্গিই সেই আব্দুল্লাহ।

মনিরুল আরও জানান, পুলিশ রোববার মহেশপুরের ওই আস্তানাটি ঘেরাও করতে গেলে আব্দুল্লাহই এক পুলিশ কর্মকর্তাকে জাপটে ধরার চেষ্টা করে। পুলিশের ওই কর্মকর্তা তাকে লাথি দিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আসেন। পরে ঘরের ভেতর আব্দুল্লাহ আত্মঘাতী হয়।

এদিকে আব্দুল্লাহর মা সন্ধ্যা রানী বিশ্বাস, তার ছেলে বিপুল কুমার বিশ্বাস (আব্দুল্লাহর ভাই) এবং ধর্মান্তরিত হওয়ার আগে তার প্রথম স্ত্রী কণিকা রানী জানান, লাশ দেখে তারা নিশ্চিত হয়েছেন নিহত ব্যক্তি তাদের প্রভাত, যে পরে ধর্মান্তরিত হয়ে আব্দুল্লাহ হয়। সন্ধ্যা রানী বলেন, তার ছেলের লাশ তারা নেবেন না। কারণ সে ধর্ম পরিবর্তন করেছে। তারা আরও জানান, মহেশপুরে নিহত তুহিন ছিল আব্দুল্লাহর সহযোগী। তার বাড়ি পোড়াহাটির পাশে চুয়াডাঙ্গা গ্রামে। পুলিশ নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। 

সুন্দরবনের গাছ পাচারের অভিযোগে তিন কর্মকর্তাসহ ১২ জন সাময়িক বরখাস্ত  : সুন্দরবনের সুন্দরি গাছ পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে তিন কর্মকর্তাসহ ১২ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বন বিভাগের খুলনা সার্কেলের বন সংরক্ষক (সিএফ) মো. আমির হোসাইন চৌধুরী তাদেরকে বরখাস্ত করেন।

বরখাস্তকৃতরা হলেন-সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের জোংড়া ক্যাম্পের ফরেস্টার কর্মকর্তা আব্দুর রউফ, বনপ্রহরী বিধান চন্দ্র হালদার, আলী আহম্মাদ, নৌকা চালক সুলতান হাওলাদার এবং শরণখোলা রেঞ্জের গোলপাতা কুপের ফরেস্টার আমজাদ হোসেন, মোবারক হোসেন, বনপ্রহরী হারুন অর রশিদ, আব্দুল আউয়াল, মো. বাদশা শেখ, আব্দুর রশিদ শিকদার, নৌকা চালক সেলিম সরদার, নুরুল ইসলাম।

বন বিভাগের খুলনা সার্কেলের বন সংরক্ষক (সিএফ) মো. আমির হোসাইন চৌধুরী জানান, সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জের তিন ফরেস্টার, নৌকা চালক ও বন প্রহরীসহ ১২ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে শরণখোলা রেঞ্জ থেকে গোলপাতার আড়ালে বন থেকে সুন্দরি গাছ কেটে পাচার এবং চাঁদপাই রেঞ্জের জোংড়া টহল ফাঁড়ি এলাকা থেকে প্রায় এক হাজার ঘনফুট সুন্দরি গাছ কেটে পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, গত এপ্রিলে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে কর্মরত অন্তত ১৫ জন কর্মচারীর বিরুদ্ধে সুন্দরবনের মূল্যবান সুন্দরি গাছ কেটে পাচার করার অভিযোগ পাই। সেই অভিযোগের তদন্ত করতে বনবিভাগের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বন বিভাগের খুলনা সার্কেলের উপ বন সংরক্ষক বশিরুল মামুনকে একটিতে এবং শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মোহম্মদ হোসেনকে প্রধান করা হয়। তারা তদন্তে ওই কর্মচারীদের বিরুদ্ধে সুন্দরবনের সুন্দরী গাছ কেটে পাচার করার সত্যতা পেয়ে গত ৪ মে ওই দুই কমিটির তিন কর্মকর্তাসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। এদেরকে নিজ নিজ কর্মস্থল থেকে তুলে নেয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

খুলনা জেলাকে প্রাথমিকভাবে ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষণা  : খুলনা জেলাকে সোমবার থেকে প্রাথমিকভাবে ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এ উপলক্ষে খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুস সামাদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনা জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান।

 প্রধান অথিতির বক্তৃতায় বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ১লা আগস্ট ২০১৬ থেকে প্রথমবারের মত খুলনা বিভাগকে ভিক্ষুকম্ক্তু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এরপর থেকে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সক্রিয় সহযোগিতায় খুলনা বিভাগে ভিক্ষুকমুক্ত কর্মসূচি চলমান রয়েছে। এই পুনর্বাসন প্রক্রিয়া একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং আগামী ২০ মের মধ্যে খুলনা বিভাগকে ভিক্ষুকমুক্ত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি ভিক্ষুককে ভিক্ষা না দেয়ার জন্য এবং যাকাত বা দানের টাকা ভিক্ষুক পুনর্বাসন ফান্ডে প্রদানের জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান। তিনি এসময় পেশাদার বা ব্যবসায়ী ভিক্ষুকদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়ারও ঘোষণা দেন।

জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান খুলনা জেলায় ভিক্ষুকমুক্ত কর্মসূচির বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে বলেন, মহানগরীসহ জেলার ৯টি উপজেলায় এ পর্যন্ত তিন হাজার ৪শ’ ৯৭ জন ভিক্ষুক সনাক্ত করা হয়েছে। এমধ্যে ৩ হাজার ৪শ’ ৬৩ জন ভিক্ষুককে বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য বিভিন্ন উপকরণ ও রেশনিং এর আতওতায় পুনর্বাসিত করা হয়েছে। বাকী ৩০ জনে মধ্যে তিনজন মারা গেছেন এবং ২৭ জন উপকরণ সামগ্রী নিতে আসেনি। ভিক্ষুকমুক্ত কর্মসূচি ফান্ডে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের এক দিনে বেতন, পুলিশ বিভাগ, বিভিন্ন সংগঠন, সমিতি, এনজিও ও বিত্তবানদের সহযোগিতায় এ পর্যন্ত ৮৭ লাখ ৩৪ হাজার ৪শ’ ৫৭ টাকা সংগ্রহ হয়েছে। যা থেকে ৭২ লাখ এক হাজার ৫শ’ ৮৫ টাকা পুনর্বাসন কাজে ব্যয় হয়েছে। অবশিষ্ট ১৬ লাখ ৪১ হাজার ৮শ’ ৯৯ টাকা দিয়ে পরবর্তীতে এ কার্যক্রম চলমান থাকবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. গিয়াস উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম শফিউল¬াহ, খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এসএম হাবিব ও মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার অধ্যাপক আলমগীর কবির উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ