বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

কেমন দেশ চাই-স্বপ্নটা কীভাবে বাস্তবায়ন হবে সে বিষয়গুলোই তুলে ধরা হবে

মোহাম্মদ জাফর ইকবাল: কাল বুধবার দলের পক্ষ থেকে ‘ভিশন ২০৩০’ ঘোষণা করবেন বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে বিকেল ৪টায় এ সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে দেশের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এমনকি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকেও আনুষ্ঠানিকভাবে এই সাংবাদিক সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ভিশন ২০৩০ তে কি কি বিষয়কে প্রাধান্য দেয়া হবে তা এরই মধ্যে ঠিক করা হয়েছে। গতকাল সোমবার রাতে গুলশানে চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যদের এক বৈঠকে এ নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ হয়েছে। বৈঠকে ভিশন ২০৩০ রূপরেখার সার্বিক দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ২০ দলীয় জোটের নেতাদের সাথে এ বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার আলোচনা করার কথা রয়েছে। জোটের নেতাদের সর্বশেষ মতামত নিয়ে আজ ভিশন ২০৩০ এর কর্মপরিকল্পনা ফাইনাল করা হবে। এছাড়া ঘোষিতব্য এই রূপরেখায় দেশের বিশিষ্টজনদের মতামতও নেয়া হয়েছে। 

সূত্র মতে, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে টার্গেট রেখে নানা মাত্রায় প্রস্তুতি চলছে বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের শরীক দলগুলোর মধ্যে। ক্ষমতায় গেলে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট কি স্বপ্ন নিয়ে, কিভাবে দেশ চালাবে তার একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, এই ‘ভিশন ২০৩০’-এর সঙ্গে নির্বাচনী ইশতেহার বা সহায়ক সরকারের রূপরেখার সম্পর্ক নেই। সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেলে আমরা কী কী কাজ করব, দেশকে কীভাবে দেখতে চাই, স্বপ্নটা কীভাবে দেখাতে চাই জাতির সামনে সে বিষয়গুলোই ‘ভিশন ২০৩০’ তুলে ধরা হবে। জানা গেছে, ‘ভিশন-২০৩০’ ঘোষণা করা হলেও এখনি নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা ঘোষণা করা হবে না। তবে সংক্ষিপ্তভাবে নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা তুলে ধরা হবে। ঈদের পর নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার নিয়ে বিস্তারিত জানাবেন জোটের শীর্ষ নেতা। 

কি কি বিষয় প্রাধান্য পাবে খালেদা জিয়ার এই রূপরেখায় তা নিয়ে দেশে বিদেশে ব্যাপক কৌতুহল দেখা দিয়েছে। জানা গেছে, ‘ভিশন ২০৩০’ এর পরিকল্পনায় বলা হচ্ছে, বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ। মাথাপিছু আয় হবে পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার। প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় ভারসাম্য আনা হবে। জনগণের সেবা বাড়ানোর লক্ষ্যে বর্তমান সংসদকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ করা হবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ‘ন্যায়পাল’ এর পদ ও কার্যালয় সক্রিয় করা হবে। বাংলাদেশের জনগণের সব ধর্মাবলম্বী গোষ্ঠী, নৃ-গোষ্ঠী, পাহাড় ও সমতলবাসীসহ সবাইকে অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে একটি ‘রেইনবো নেশন’ গড়ে তোলা, প্রধানমন্ত্রীর একক নির্বাহী ক্ষমতার ক্ষেত্রে ভারসাম্য আনা, রাষ্ট্রের এককেন্দ্রিক চরিত্র অক্ষুন্ন রেখে বিদ্যমান সংসদীয় ব্যবস্থা সংস্কারের অংশ হিসেবে বিভিন্ন সমপ্রদায়, প্রান্তিক গোষ্ঠী ও পেশার জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিদের সমন্বয়ে জাতীয় সংসদে একটি উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা করা হবে, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনগণের সম্মতি গ্রহণের পন্থা ‘রেফারেন্ডাম’ বা ‘গণভোট’ ব্যবস্থা সংবিধানে পুনঃপ্রবর্তন করা।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা হবে। বিচার, প্রশাসন, পুলিশ, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ ও খাবার পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন, পরিচ্ছন্নতাসেবাসহ সকল প্রকার রাষ্ট্রীয় ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থাসমূহের সেবার মান ক্রমান্বয়ে উন্নত করা হবে। সুষ্ঠু সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে পাঁচ বছরের মধ্যে সমাধান করা হবে। বিএনপি জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনমত গঠন এবং জনগণের অংশগ্রহণে সন্ত্রাসবাদকে নিরুত্সাহিত ও নির্মূল করার কার্যকর ব্যবস্থা নেবে। শুধু ধনীদের জন্য শিক্ষা নয়, দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের জন্যও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে। এক দশকের মধ্যে দেশ থেকে নিরক্ষরতা দূর করা হবে। গড়ে তোলা হবে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়। মাদ্রাসা শিক্ষাকে আরো আধুনিক ও যুগোপযোগী করা হবে। মেয়েদের জন্য স্নাতক এবং ছেলেদের জন্য দশম শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে। মেয়েদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রম সম্প্রসারিত করা হবে। 

শিক্ষা সম্প্রসারণের জন্য জাতীয় টিভিতে পৃথক একটি চ্যানেল চালু করা হবে। প্রয়োজনে ভর্তুকি দিয়ে কৃষি উপকরণ সুলভ ও সহজলভ্য করা হবে। কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা হবে। কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা হবে। কৃষকদের জন্য শস্যবীমা কর্মসূচি চালু করা হবে। দেশের সকল নাগরিকের চিকিত্সার জন্য জিপি ও রেফারেল সিস্টেম চালু করা হবে। বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। সুন্দরবনসহ জাতীয় ঐতিহ্যসমূহ সুরক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাঙ্খিত ডবল ডিজিট প্রবৃদ্ধির জন্য বিএনপি যথোপযুক্ত পরিমাণ বিদ্যুত্ উত্পাদন করবে। এ লক্ষ্যে দেশের অভ্যন্তরে প্রাপ্ত সকলপ্রকার জ্বালানি ও সুবিধার সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণ এবং জেলা ও উপজেলা শহরের অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে মহানগরীগুলোতে জনসংখ্যার ক্রমবর্ধমান চাপ হ্রাস করে নগরায়ণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা হবে। শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা হবে। বিরাজমান বাধাগুলো দূর করে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিয়ে উত্পাদন ও সেবাখাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বহুগুণ বৃদ্ধির কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ হবে জাতীয় ঐক্য ও প্রেরণা সৃষ্টির উৎস।

সূত্র মতে, গত বছর ১৯ মার্চ দলের ৬ষ্ঠ কাউন্সিলে ‘ভিশন ২০৩০’ নামের একটি কর্মপরিকল্পনার সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, এর আলোকেই আগামীতে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি হবে। সৃজনশীল উদ্যোগের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশকে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা হবে। আবার সরকার গঠনের সুযোগ পেলে প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতায় ভারসাম্য আনা হবে এবং দ্বিকক্ষবিশিষ্ট জাতীয় সংসদ করা হবে। তিনি বলেন, প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতির বিপরীতে বিএনপি নতুন ধারার রাজনীতি ও সরকার প্রতিষ্ঠা করবে। আর এ জন্য নতুন এক সামাজিক সমঝোতা বা চুক্তিতে উপনীত হতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। খালেদা জিয়া আরো বলেছিলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোর অভিজ্ঞতায় দেশবাসী গভীরভাবে উপলব্ধি করছে যে প্রধানমন্ত্রীর একক নির্বাহী ক্ষমতা সংসদীয় সরকারের আবরণে স্বৈরাচারী একনায়কতান্ত্রিক শাসনের জন্ম দিয়েছে। এর অবসানকল্পে প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতার ক্ষেত্রে ভারসাম্য আনা হবে। রাষ্ট্রের এককেন্দ্রিক চরিত্র অক্ষুণ্ন রেখে বিদ্যমান সংসদীয় ব্যবস্থা সংস্কারের অংশ হিসেবে বিভিন্ন সম্প্রদায়, প্রান্তিক গোষ্ঠী ও পেশার জ্ঞানীগুণী ও মেধাবী ব্যক্তিদের সমন্বয়ে জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে সারসংক্ষেপে বিএনপি প্রধান উল্লেখ করেন।

খালেদা জিয়া বলেন, বাংলাদেশকে ২০৩০ সালের মধ্যে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশ করা লক্ষ্য নিয়ে এই রূফরেখা দেওয়া হবে। এছাড়া জবাবাদিহিমূলক রাষ্ঠ্রীয় ব্যবস্থার জন্যও করণীয়তা সম্পর্কেও থাকবে রূপরেখায়। তিনি বলেছিলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ‘ন্যায়পাল’ এর পদ ও কার্যালয় সক্রিয় করা হবে। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনগণের সম্মতি গ্রহণের পন্থা ‘রেফারেন্ডাম’ বা ‘গণভোট’ ব্যবস্থা সংবিধানে পুনঃপ্রবর্তন করা। মহান মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার সামাজিক ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা পূরণে বাংলাদেশের সকল ধর্মবিশ্বাসের মানুষ, পাহাড় ও সমতলসহ সকল অঞ্চলের মানুষ এবং প্রতিটি নৃগোষ্ঠীর মানুষের চিন্তা-চেতনা ও আশা-আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে একটি জনকল্যাণমূলক, সহিষ্ণু, শান্তিকামী ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তোলার কথা বলা হবে। জাতীয় স্বার্থ ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আঞ্চলিক ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় সহযোগিতা ও যোগাযোগ বাড়াতে কানেকটিভিটি স্থাপন, সম্প্রসারণ ও জোরদার করতে বলিষ্ঠ ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেয়া, কোনো রাষ্ট্রের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং অন্য কোনো রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য সমস্য সৃষ্টি না করা, বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া, প্রতিবেশী দেশসমূহের সঙ্গে সৎ প্রতিবেশীসুলভ সোহার্দ্য, বন্ধুত্ব ও আন্তরিকতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার কথা বলা হবে। পরিবেশদূষণ রোধ, জলবায়ু পরিবর্তন, দেশের অভ্যন্তরে প্রাপ্ত জ্বালানির সর্বোত্তম ব্যবহার, আবাসন খাতে বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত, ওয়াক্ফ সম্পত্তির পরিচালনা ও ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত, দেবোত্তর সম্পত্তিসমূহ হিন্দু শাস্ত্রের বিধান অনুযায়ী পরিচালনার জন্য হিন্দু সম্প্রদায়ের সৎ ও নিষ্ঠাবান ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করাসহ নতুন এক সামাজিক সমঝোতা বা চুক্তিতে উপনীত হতে বিএনপি উদ্যোগ নেবে বলে জানানো হবে বলেও জানান বিএনপি চেয়ারপার্সন।

জানা গেছে, খালেদা জিয়া ঘোষিতব্য এই ‘ভিশন-২০৩০’ পুস্তিকা আকারে সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা আছে বিএনপির। পরবর্তীতে এর আলোকেই দলের নির্বাচনী ইশতেহারও রচিত হবে। দেশজুড়ে দলকে উজ্জীবিত করার পাশাপাশি এই ভিশন নিয়ে তৃণমূলে যাবে বিএনপির সিনিয়র নেতারা। বিএনপিকে ঘোছানোর পাশাপাশি একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে কাজ করবেন তারা। জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী বলেন, আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ‘ভিশন ২০৩০’ এর পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা ঘোষণা করবেন। তার আলোকেই আমরা কথা বলব। 

আমন্ত্রণপত্র আ. লীগ কার্যালয়ে: বিএনপি ঘোষিত ভিশন-২০৩০ নিয়ে বুধবার সাংবাদিক সম্মেলন করবেন দলটির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে বিএনপি। তবে ভিশন ২০৩০’র ঘোষণার আমন্ত্রণ পত্র নিয়ে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে গেলে তা কেউ গ্রহণ করেনি বলে জানা গেছে। গতকাল সোমবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল, সহ দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপুসহ কয়েকজন নেতা সেখানে যান। কিন্তু বিএনপির এই প্রতিনিধি দলটিকে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। কার্যালয়ের ভেতরে দায়িত্বশীল কেউ না থাকার কথা জানিয়ে কার্যালয়ের মূলফটক থেকে তাদেরকে ফিরিয়ে দেয়া হয়।

এ বিষয়ে দলটির সহ দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু বলেন, বিএনপির আমন্ত্রণ পত্র নিয়ে বিকেল সোয়া পাঁচটার সময় আমরা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে যাই। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর আমাদেরকে ভিতরে না নিয়ে গেট থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, গেটের দারোয়ান ভেতর থেকে এসে আমাদেরকে জানান কার্যালয়ের মধ্যে কেউ নেই। ফলে আমাদেরকে ফিরে আসতে হয়েছে। টিপু বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া গুলশানের হোটেল ওয়েস্টিনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ভিশন ২০৩০ ঘোষণা করবেন। ওই অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে আমন্ত্রণ জানাতে দলের পক্ষ থেকে সেখানে গিয়েছিলাম। কিন্তু কার্যালয়ের ভেতরে আমাদের ঢুকতে না দেওয়ায় আমরা দাওয়াত পত্রটি দিতে না পেরে ফিরে এসেছি। তবে মৌখিকভাবে আমরা আমন্ত্রণ জানিয়ে এসেছি। 

স্থায়ী কমিটির বৈঠক: এদিকে গতকাল রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিএনপির সব্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে বৈঠকে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, লে, জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, এম কে আনোয়ার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ছিলেন। 

জানা গেছে, বৈঠকে দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দলের চলমান জেলা প্রতিনিধি সম্মেলন নিয়ে আলোচনা হলেও মূল এজেন্ডা ছিল ‘ভিশন ২০১৩’ এর রূপরেখা। বৈঠকে বুধবারের সাংবাদিক সম্মেলনে বেগম জিয়া দল ও জোটের পক্ষ থেকে ক্ষমতায় গেলে কি কি কাজ করবেন তার যে রূপরেখা তুলে ধরবেন তা নিয়েই আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় দলের কাউন্সেলে যে সংক্ষিপ্ত রূপরেখার কথা বেগম জিয়া বলেছেন সেটিকে আরো ব্যাপক ও আধুনিকায়ন করে তোলার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া গত সাড়ে ৮ বছর এই সরকারের ব্যর্থতাগুলোও তুলে ধরার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ