শনিবার ০৮ আগস্ট ২০২০
Online Edition

অসুস্থতা নিয়েও আদালতে খালেদা জিয়া

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া গতকাল সোমবার বকশিবাজার বিশেষ দায়রা জজ আদালতে হাজির হন -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার শুনানি আগামী ১৫ মে পর্যন্ত মুলতবি করেছেন আদালত।

গতকাল সোমবার পুরান ঢাকার বকশীবাজারের মাঠে স্থাপিত ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কামরুল হোসেন মোল্লার বিশেষ আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে এসে সময়ের আবেদন করেন তিনি। 

খালেদা জিয়ার পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার মামলার শুনানি মুলতবির জন্য তিন সপ্তাহের আবেদন করেন। অন্যদিকে, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল এর বিরোধিতা করেন।

তখন ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ও হাইকোর্টে মামলাটির বিচারকের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে আবেদনের কথা আদালতকে জানান। শুরুতে খালেদা জিয়ার আবেদন নামঞ্জুর করে আইন অনুযায়ী এখন ৩৪২ (আত্মপক্ষের সমর্থন) গ্রহণ করা হবে বলে আদালত জানান। এরপর আদালত বিরতিতে যান। বিরতি শেষে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা ফের সময়ের আবেদনের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন। আদালত এ সময় তা মঞ্জুর করে ১৫ মে পর্যন্ত মুলতবির করেন।

সকাল সোয়া ১০টার দিকে খালেদা জিয়া তার গুলশানের বাসভবন থেকে বের হন। ১১টা ৩৫ মিনিটে পুরান ঢাকার বকশীবাজারের বিশেষ আদালতে পৌঁছান তিনি।

বিএনপির চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ের গণমাধ্যম শাখার কর্মকর্তা শামসুদ্দিন দিদার ও শায়রুল কবীর খান জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া প্রচন্ড পায়ের ব্যথায় ভুগছেন। তিনি ভালো করে হাঁটতে ও দাঁড়াতে পারছেন না। বসলে উঠতে পারছেন না। এর মধ্যেই আজকে তাকে আদালতে হাজির হতে হয়েছে। দীর্ঘ সময় গাড়িতে বসে থাকতেও তার অনেক কষ্ট হয়েছে। সঙ্গে সব সময় ওষুধ রাখতে হচ্ছে।

বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে বিএনপির চেয়ারপার্সন আদালত কক্ষে পৌঁছান। আইনজীবীরা তাকে একটি চেয়ারে বসতে দেন। বিচারক এজলাসে বসলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা উঠে দাঁড়ান। এ সময় খালেদা জিয়া পায়ের ব্যথায় এতটাই কাবু ছিলেন যে, তিনি তখন চেষ্টা করেও চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াতে পারেননি।

পরে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার এ ব্যাপারে আদালতকে বলেন, মাননীয় আদালত, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া পায়ের ব্যথায় প্রচন্ড অসুস্থ। তিনি বসতে-উঠতে বা হাঁটতে প্রচন্ড ব্যথা অনুভব করছেন। তাই তিনি দাঁড়াতে পারছেন না। এত অসুস্থতা নিয়েও তিনি শুধু আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে, আদালতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আদালতে হাজির হয়েছেন। আদালত তখন বলেন, ‘ঠিক আছে।’

এর আগে, ২৭ এপ্রিল খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনের দিন ধার্য ছিল। তিনি শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে আদালতে উপস্থিত হতে না পারায় আদালত সময়ের আবেদন মঞ্জুর করেন। সর্বশেষবারের মতো সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে ৮ মে খালেদাকে হাজির হতে বলেন আদালত।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০১০ সালের ৫ আগস্ট খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন আর রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

মামলায় খালেদা জিয়া ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ছাড়া অন্য আসামীরা হলেন-মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ