শনিবার ০৮ আগস্ট ২০২০
Online Edition

সুপ্রিম কোর্ট থেকে বঙ্গভবন কত দূর?

 

* আরো এক সপ্তাহ সময় সরকারকে

স্টাফ রিপোর্টার : অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা বিধিমালা গেজেট আকারে আড়াই বছরেও প্রকাশ না হওয়ায় সর্বোচ্চ আদালত বলেছেন, সুপ্রিম কোর্ট থেকে বঙ্গভবনের দূরত্ব কতদূর? সরকারের এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আরো দুই সপ্তাহের সময় চাইলে আপিল বিভাগ বলেন, দুই সপ্তাহ, দুই মাস ও দুই বছর সময় আবেদন আপনার কাছে একই। আসলে কি চান আপনারা?

আদালত এটর্নি জেনারেলের কাছে প্রশ্ন করেন, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শহর কোথায়? জবাবে এটর্নি জেনারেল জাপানের টোকিও শহরের কথা বললে প্রধান বিচারপতি বলেন, সবাই মনে করে টোকিও বা নিউইয়র্ক সবচেয়ে বড় শহর। আচ্ছা বলেন তো-নিউইয়র্ক বা টোকিও এ-প্রান্ত থেকে ও-প্রান্তে যেতে কত সময় লাগতে পারে? বড় জোর ৫/৬ ঘণ্টা। কিন্তু আমার ধারণা ঢাকা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শহর! মনে হয়, সুপ্রিম কোর্ট থেকে গণভবন বা বঙ্গভবনের দূরত্ব কয়েক লাখ কিলোমিটার’।

গতকাল সোমবার সরকার পক্ষ দুই সপ্তাহ সময় চাইলে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ৫ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ পরে এক সপ্তাহ সময় মঞ্জুর করেন।

সকালে প্রথমে এটর্নি জেনারেল একটি ফাইল দাখিল করলে আপিল বিভাগ বলেন, আপনি কি নিয়ে এসেছেন? এটর্নি জেনারেল মুচকি হেসে সময় আবেদনের কথা জানালে প্রধান বিচারপতি বলেন, আমরা তো মনে করেছি এটা গেজেট। আপিল বিভাগ বলেন, দুই সপ্তাহ, দুই মাস ও দুই বছর সময় আবেদন আপনার কাছে একই। সময় আবেদনে শব্দ চয়নও একই। আসলে কি চান আপনারা?

এ সময় প্রধান বিচারপতি এটর্নি জেনারেলকে প্রশ্ন করেন, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শহর কোথায়? জবাবে মাহবুবে আলম জাপানের টোকিও শহরের কথা জানান। তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, সবাই মনে করে টোকিও বা নিউইয়র্ক সবচেয়ে বড় শহর।

এটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, বলেন তো নিউইয়র্ক বা টোকিও এই প্রান্ত থেকে ওই প্রান্তে যেতে কত সময় লাগতে পারে? প্রধান বিচারপতি তখন নিজেই বলেন, বড়জোর ৫ থেকে ৬ ঘন্টা। কিন্তু আমার ধারণা ঢাকা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শহর। মনে হয়, সুপ্রিম কোর্ট থেকে গণভবন বা বঙ্গভবনের দূরত্ব কয়েক লাখ কিলোমিটার।

গেজেট এখনও প্রকাশ না করার বিষয়ে ইঙ্গিত করে প্রধান বিচারপতি বলেন, আড়াই বছরে যেহেতু এই দূরত্ব পাড়ি দেয়া সম্ভব হয়নি, মনে হয় আড়াই হাজার বছরেও তা সম্ভব হবে না।

গত ৪ এপ্রিল আপিল বিভাগ ৮ মে পর্যন্ত সময় মঞ্জুর করেছিলেন। কিন্তু এ দিনও সরকার পক্ষ নতুনভাবে সময় নিল। গত বছর সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত গেজেট প্রণয়নে দ্বাদশ বারের মতো সময় নিল সরকার।

গত ৮ ডিসেম্বর নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা বিধিমালার গেজেট প্রকাশ না করায় আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে ১২ ডিসেম্বর হাজির করতে এটর্নি জেনারেলকে মৌখিক নির্দেশ দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এর মধ্যে ১২ ডিসেম্বর নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালার গেজেট প্রকাশের প্রয়োজন নেই বলে সিদ্ধান্ত দেন রাষ্ট্রপতি।

১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর মাসদার হোসেন মামলায় (বিচার বিভাগ পৃথককরণ) ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেয়া হয়। ওই রায়ের ভিত্তিতে নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা ছিলো। আপিল বিভাগের নির্দেশনার পর গত বছরের ৭ মে আইন মন্ত্রণালয় একটি খসড়া শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধি প্রস্তুত করে সুপ্রিম কোর্টে পাঠায়।

গত বছরের ২৮ আগস্ট শুনানিকালে আপিল বিভাগ খসড়ার বিষয়ে বলেন, শৃঙ্খলা বিধিমালা সংক্রাণÍ সরকারের খসড়াটি ছিলো ১৯৮৫ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার হুবহু অনুরূপ। যা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পরিপন্থি। এর পরই সুপ্রিম কোর্ট একটি খসড়া বিধিমালা করে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠান। একইসঙ্গে ৬ নবেম্বরের মধ্যে তা প্রণয়ন করে প্রতিবেদন আকারে আদালতকে অবহিত করতে আইন মন্ত্রণালয়কে বলা হয়। গত বছরের ৬ নবেম্বর সে অনুসারে মামলাটি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় আসে। কিন্তু সরকার পক্ষে এটর্নি জেনারেল এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি জানাতে পারেননি।

পরে আপিল বিভাগ বিধিমালা চূড়ান্তের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নিয়েছে তা লিখিতভাবে জানাতে এটর্নি জেনারেলকে নির্দেশ দিয়ে ৭ নবেম্বর আদেশের দিন ধার্য করেন। ওই দিন এটর্নি জেনারেল আট সপ্তাহের সময়ের আবেদন জমা দেন। যাতে বিধিমালাটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর কথা উল্লেখ করেন তিনি। সর্বোচ্চ আদালত ২৪ নবেম্বর পর্যন্ত সময় দেন।

গত বছরের ২৪ নবেম্বর এটর্নি জেনারেল গেজেট প্রকাশে আরও এক সপ্তাহ সময় চাইলে আপিল বিভাগ তা মঞ্জুর করেন। পরে ১ ডিসেম্বর আইনমন্ত্রী ফিলিপাইনে রয়েছেন বলে ফের এক সপ্তাহ সময় চাওয়া হয়। সময় মঞ্জুরের পরও ৮ ডিসেম্বরের পর থেকে আরও কয়েক দফা সময় পায় সরকার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ