রবিবার ২৮ নবেম্বর ২০২১
Online Edition

ভবনের অভাবে কাজ চলে দোকানে

গাইবান্ধা সংবাদদাতা : গাইবান্ধার ১০৪টি শাখা ডাকঘরের নিজস্ব কোনো ভবন নেই। ডাকটিকিট, খাম বেচাকেনার কাজ চলে মানুষের বাড়ি ও মুদি দোকানে। গাইবান্ধা প্রধান ডাকঘর কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে, জেলার সাতটি উপজেলায় ১২৪টি ডাকঘর রয়েছে।
এর মধ্যে প্রধান ডাকঘর একটি, উপজেলা ডাকঘর ছয়টি, সাব ডাকঘর পাঁচটি এবং শাখা ডাকঘর ১১২টি। এসব শাখা ডাকঘরে ৩৩৬ জন শাখা পোস্টমাস্টার ও গ্রামীণ রানার কর্মরত আছেন। এর মধ্যে শাখা ডাকঘরগুলোর অবস্থা খুবই করুণ। মোট ১১২টি শাখা ডাকঘরের মধ্যে মাত্র আটটির নিজস্ব ভবন রয়েছে। অবশিষ্ট ১০৪টি শাখা ডাকঘরের কাজ স্থানীয় লোকজনের বাড়ি, দোকানঘর ও চায়ের স্টলে চালানো হচ্ছে। এসব ডাকঘরে চিঠিপত্র পৌঁছানোর জন্য কোনো যানবাহনও নেই। প্রধান ডাকঘর থেকে ২১ জন রানারের মাধ্যমে ওই সব শাখা ডাকঘরে চিঠি পৌঁছানো হচ্ছে।
গাইবান্ধার চারটি শাখা ডাকঘর ঘুরে দেখা গেছে, সাদুল্যাপুর উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের বকশীগঞ্জ বাজার শাখা ডাকঘরের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে মুদি দোকানে। বকশীগঞ্জ বাজার শাখা ডাকঘরের পোস্টমাস্টার আব্দুর রউফ বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব কার্যালয় নেই। ভাড়া করা মুদি দোকানে রাজস্ব ডাকটিকিট, খাম বিক্রি করছি।’ পাশের বড় জামালপুর শাখা ডাকঘরের পোস্টমাস্টার নুরুজ্জামান আকন্দ বলেন, নিজস্ব ভবন না থাকায় তিনি নিজের ঘরের বারান্দায় ডাকটিকিট ও খাম বিক্রি করেন। নিজের হোমিও ওষুধের দোকানে ডাকটিকিট বিক্রি করেন গাইবান্ধা সদর উপজেলার দারিয়াপুর শাখা ডাকঘরের পোস্টমাস্টার মকবুল হোসেন। তিনি বলেন, ‘১৯৯৬ সাল থেকে চাকরি করছি। নিজের দোকানে সরকারি টিকিট বিক্রি করে মাসিক ১৮ হাজার টাকা রাজস্ব আয় হচ্ছে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও ভবন নির্মাণ হয়নি।’ আর বালাআটা শাখা ডাকঘরের কার্যক্রম চলে চায়ের দোকানে। এখানকার পোস্টমাস্টার করিম বলেন, যে বেতন তারা পান, তা দিয়ে সংসার চলে না। তাই ডাকটিকিটের পাশাপাশি তিনি চা বিক্রি করেন। একই উপজেলার বালাআটার শাখা ডাকঘরের গ্রামীণ পোস্টম্যান শাহজাহান মিয়া বলেন, ‘আমার কাজ গ্রামে গ্রামে ঘুরে মানুষের হাতে চিঠি পৌঁছে দেয়া। নিজস্ব কার্যালয় না থাকায় ফেরত চিঠিগুলো সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না। ঝুঁকি নিয়ে এসব নিজের বাড়িতে রাখতে হচ্ছে।’
বাংলাদেশ অবিভাগীয় ডাক কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদ গাইবান্ধা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সুকুমার চন্দ্র মোদক বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে যারা ডাক বিভাগের সেবা দেন, তাদের বেতন-ভাতা উল্লেখ করার মতো নয়।
যেখান থেকে রাজস্ব আয় হয়, সেখানে কোনো কার্যালয় নেই। গাইবান্ধা ডাকঘর পরিদর্শক মনির উদ্দিন বলেন, শাখা ডাকঘরের কার্যালয় নির্মাণে বর্তমানে কোনো সরকারি পদক্ষেপ নেই। তবে সংশ্লিষ্ট এলাকায় খাসজমি থাকলে সেখানে ভবন নির্মাণের জন্য সরকারি অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যাবে।=

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ