মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

আমাদের সামাজিক অবক্ষয়?

-মো. তোফাজ্জল বিন আমীন
হযরত  আলী (রা.)’র একটি বক্তৃতা দিয়ে নিবন্ধটি শুরু করা যাক। তিনি এক বক্তৃতায় বলেছেন, ‘যখন একটি সমাজের মানুষের মাঝে আকিদা-বিশ্বাস এবং ধর্মীয় মূল্যবোধগুলোর উপস্থিতি এবং প্রবাহ থাকবে না,তখন সমাজে বিচ্ছিন্নতা দেখা দেবে।’ যেমন বিচ্ছিন্নতা বিরাজমান ছিল বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আবির্ভাবের আগে জাহেলি সমাজে। বিশ্বব্যাপী পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক সর্বত্রক্ষেত্রে অবক্ষয়ের ভয়ংকর থাবা ব্যক্তি,সমাজ ও রাষ্ট্রকে গ্রাস করে ফেলেছে। সামাজিক এই অবক্ষয় প্রসঙ্গে রাসূল (সা.) এর স্ত্রী উম্মে সালমাহ (রা.)-এর হাদীসটি প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেন- আমি রাসূল (সা.) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, যখন পৃথিবীতে অশ্লীল কাজ প্রকাশ পায় তখন আল্লাহ দুনিয়ার অধিবাসীর প্রতি দুঃখ দুর্দশা নাযিল করেন। উম্মে সালমাহ (রা.) বলেন, আমি বললাম হে আল্লাহর রাসূল। যদি তাদের মধ্যে সৎকর্মশীল ব্যক্তি অবশিষ্ট থাকে? রাসূল (সা.) বললেন ঃ যদিও তাদের মধ্যে সৎকর্মশীলগণ উপস্থিতি থাকে তবুও তাদের উপর ঐ মুসিবত আসবে যা অন্যান্য লোকদের উপর নাযিল হবে। আল্লাহতায়ালা যেখানেই কোনো জাতিকে আযাবে নিক্ষেপ করার কথা উল্লেখ করেছেন, সেখানে তাদের অপরাধের কথাও সাথে সাথে বর্ণনা করেছেন-যাতে করে লোকেরা উত্তমরূপে জানতে পারে যে, তাদের আপন কর্মদোষেই তাদের ইহকাল ও পরকাল বরবাদ হয়ে থাকে। ইতিহাসের পাতায় আদ সম্প্রদায়, লুত সম্প্রদায়, বনী ঈসরাইল, সামুদ জাতির ধ্বংসের জ্বলন্ত উদাহরণ থাকা সত্ত্বেও আমরা শিক্ষা নিতে পারিনি। সূরা হুদের ১১৭ আয়াতে আল্লাহতায়ালা বলেন- তোমাদের প্রভু এমন নন যে, তিনি জনপদগুলোকে অন্যায়ভাবে ধ্বংস করে দেবেন-যদি তার বাসিন্দারা সৎকর্মশীল হয়।’ একটি সমাজ বা রাষ্ট্র ধ্বংস ও বিনাশের কারণ শুধুমাত্র ব্যক্তিগত পাপাচার নয়; বরং সামগ্রিক তথা জাতীয় পাপাচার। বিশ্বাস ও আচরণের বিকৃতি যদি লোকদের মধ্যে বিক্ষিপ্তভাবে দেখা যায়, কিন্তু মোটামোটিভাবে লোকদের ধর্মীয় ও নৈতিক মান উন্নত হয় এবং তার প্রভাবে ব্যক্তিগত অনাচার চাপা পড়ে থাকে, তাহলে পৃথকভাবে ব্যক্তিরা যতোই খারাপ হোক না কেনো, সামগ্রিকভাবে জাতি বেঁচে থাকেই। সে অবস্থায় এমন কোনো ফিতনার সৃষ্টি হয় না যা গোটা জাতির বিনাশের কারণ হতে পারে। কিন্তু বিশ্বাস ও আচরণের বিকৃতি যখন ব্যক্তিকে অতিক্রম করে গোটা জাতির মধ্যে বিস্তার করে এবং জাতির ধর্মবোধ ও নৈতিক চেতনা একেবারে বিগড়ে যায়, আর তাতে কল্যাণের পরিবর্তে অকল্যাণেরই বিকাশ বৃদ্ধি পেতে থাকে, তখন সে জাতির ওপর থেকে আল্লাহ তায়ালার দয়ার রহমত একেবারে উঠে যায়। সমাজ দিন দিন হিংস্র হয়ে উঠেছে। যে কারণে মানবিকতা, মূল্যবোধ, ন্যয়নীতি,এমনকি সাধারণ বিবেচনাবোধও হারিয়ে যাচ্ছে অজানা গন্তব্যে।
একটি সমাজ বা রাষ্ট্রে যখন ন্যায় থাকে না, ভারসাম্য থাকে না, সুশাসন থাকে না,তখন সমাজে শান্তির লেশও থাকে না। এমন অবস্থায় সমাজের অস্থিরতার মাত্রা বাড়তেই থাকে। সামাজিক অবক্ষয় বেড়ে যাওয়ার পেছনে বহু কারণ রয়েছে। যেমন, দুর্নীতির কথাই ধরা যাক। দুর্নীতি হচ্ছে একটি জাতির জন্য মরণব্যাধি। দুর্নীতির মহাউৎসব চলছে কিন্তু দুর্নীতি দমন কমিশন দুর্নীতির রাশ টেনে ধরতে পারছেন না। দেশের সরকার যখন ক্ষমতার মোহে নিরীহ জনগণকে নিপীড়ন করতে কুন্ঠাবোধ করে না তখন একটি রাষ্ট্র তার স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলে। সামাজিক ও রাজনৈতিক অবক্ষয় সব ক্ষেত্রে বিরাজ করতে থাকে। রাজনীতির গতিপথ যখন স্বৈরতন্ত্রের দিকে ধাবিত হয় তখন দেশ থেকে ন্যায়বিচার পালিয়ে যায়। তখন সেখানে অবিচার ও অনিয়ম জগদ্দল পাথরের মতো জনগণের ঘাড়ের ওপর চেপে বসে। প্রকৃতিগত কারণে মানুষ সম্পদকে ভালোবাসে। সম্পদের লোভে মানুষে মানুষে হানাহানি ও মারামারির কাহিনী আমাদের সবারই জানা। মূলত জাতীয় ও নৈতিক অবক্ষয়ের জন্য সম্পদের মোহ অন্যতম একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা যায়। সামাজিক অবক্ষয় বেড়ে যাওয়ার পেছনে শুধু সমাজই দায়ী তা কিন্তু নয়,পাশাপাশি রাষ্ট্রের ও কিছু দায়িত্ব রয়েছে, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। কয়েক বছর ধরে পারিবারিক ও সামাজিক অবক্ষয়জনিত একের পর এক বীভৎস ঘটনা বেড়েই চলেছে। গুম, খুন, অপহরণ, ধর্ষণ, ইভটিজিং ও আত্মহননের খবর প্রতিনিয়ত খবরের কাগজে মুদ্রিত হচ্ছে। এসব ঘটনা বিশ্লেষণ করলে সামাজিক, মানবিক মূল্যবোধের বিপর্যয় ও নৈতিক অধঃপতনের ভয়াবহতার চিত্র ভেসে উঠবে। সামাজিক অবক্ষয়ের সবচেয়ে বেশি শিকার হচ্ছে কোমলমতি শিশুরা। বর্তমানে শিশুহত্যা ও ধর্ষণের ঘটনা মামুলি বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এসব নির্মম হত্যাকা- ও শিশু নিপীড়নের ঘটনা সত্যিই বেদনাদায়ক। সমাজে নিপীড়িত ও ক্ষুব্ধ মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সমাজের এই অবর্ণনীয় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য  যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। সাধারণ মানুষের ওপর যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও জীবনযাত্রার চাপ বাড়ছে, তা নিরসন করার জন্য রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে যারা নিয়োজিত তাদের যেমন দায় আছে, তেমনি সুশিল সমাজ, অভিভাবক, সমাজপতি, আইনজীবী, পেশাজীবী, শিক্ষক, ইসলামী স্কলার, মসজিদের খতিবসহ সমাজের সব শ্রেণী ও পেশার মানুষের দায়িত্ব রয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধের ওপর জোর দেয়া প্রয়োজন।
পশ্চিমা বিশ্বের তুলনায় আমাদের পারিবারিক বন্ধন কিছুটা হলেও এখন সুদৃঢ়। তবে বাস্তবতা হলো-আমাদের পারিবারিক মূল্যবোধ আজ হুমকির সম্মুখীন। ধর্মীয় মূল্যবোধের বিপরীত স্রোতে গা ভাসিয়ে চলার কারণে সামাজিক অবক্ষয় ক্যান্সারে পরিণত হয়েছে। সামাজিক অবক্ষয় কতটা ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে তার কিছু চিত্র উপস্থাপন করলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার ভবানীপুর ফতেপুর মহল্লায় মাত্র পৌনে এক ভরি স্বর্ণের জন্য হত্যা করা হলো পাঁচ ও ছয় বছর বয়সী দু’টি শিশুকে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে এই শিশুহত্যার রহস্য উদঘাটনের মধ্যেই নরসিংদীতে ছয়, আট ও দশ বছর বয়সী তিন ভাই-বোনকে নিজহাতে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করল আপন ভাই। ২ এপ্রিল আশুলিয়ায় শাহাদাত নামের ৫ বছরের এক শিশুকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক মাদকাসক্তের বিরুদ্ধে। জয়পুরহাটের সদর উপজেলায় যাত্রীবাহী ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে শিশুকন্যাসহ আত্মহত্যা করেছেন এক নারী। গোপালগঞ্জ শহরের মৌলভীপাড়ায় স্কুল থেকে ফিরেই ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে ২ ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। ‘‘ ৬ মার্চ ইলোরা নামে এক স্কুলছাত্রী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। কারণ হচ্ছে উত্ত্যক্ত করেছিল বখাটেরা। ২৪ মার্চ গুলশানের কালাচাঁদপুরের বাড়িতে ঢুকে অস্ত্রধারী দুই তরুণ এক দম্পতিকে গুলী করে হত্যা করে। নিহত সাদেকুর রহমানের স্কুলপড়sয়া মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় এলাকার বখাটে ছেলে রুবেল। কিন্তু সে প্রস্তাবে রাজি না হওয়ার অপরাধে নিহত হতে হলো সাদেকুর রহমান ও তার স্ত্রী। ২৬ মার্চ রহস্যজনকভাবে বান্ধবীকে ধারালো চাপাতি দিয়ে আঘাত করেছে আশরাফ নামে এক যুবক। সিলেটে এক স্ত্রীর ত্রিভূজ প্রেমের বলি হলেন ইমতিয়াজ হোসেন মন্টু নামে এক ব্যবসায়ী। স্ত্রীর পরকীয়ায় বাধা হওয়ার কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে। ৯ এপ্রিল রংপুরের বদরগঞ্জে পড়ালেখার খরচ জোগাতে হোটেলে কাজ নিয়ে টাকা দাবি করায় হোটেল মালিক ৬ষ্ঠ শ্রেণী পড়–য়া ছাত্র আকরাম হোসেনকে গলায় রশি দিয়ে বেঁধে পিটিয়ে হত্যা করে। ১৯ এপ্রিল সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের হাওর এলাকার পুটামারায় রোশনা নামে এক নারী পরকীয়ার কারণে স্বামী আব্দুস সালাম ও মেয়ে রুলি বেগমকে খুন করতেও কুন্ঠাবোধ করেনি। একই দিনে রাজধানীর কেরানীগঞ্জে জুয়েল রানা নামে এক যুবক স্ত্রীর পরকীয়া নিয়ে অভিযোগ করায় শ্বশুর বাড়ির লোকজন কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২ এপ্রিল গৌরীপুর থানার ব্যারাকে নিজ কক্ষে শরীরে আগুন দেন কনস্টেবল হালিমা। ওই দিন সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনাটির পেছনে লুকায়িত রহস্য ২৫ এপ্রিল সকল জাতীয় দৈনিকে মুদ্রিত হয়েছে। যার সারমর্ম হচ্ছে, ‘আমার মরে যাওয়ার একমাত্র কারণ এসআই মোহাম্মদ মিজানুর ইসলাম আমাকে ধর্ষণ করেন ১৭/০৩/১৭ ইং রাত ২.০০ ঘটিকায়। আমার অভিযোগ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গ্রহণ করেন না। ডায়েরিতে এ রকম কথা লিখে গেছেন ময়মনসিংহের গৌরীপুর থানার কনস্টেবল হালিমা। এ কথা জানান হালিমার বাবা হেলাল উদ্দিন আকন্দ। তিনি সোমবার দুপুরে ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। এতে তিনি ‘হালিমার লেখা দিনলিপি (ডায়েরি) ও ওসির কাছে করা ধর্ষণের শিকার হওয়ার লিখিত অভিযোগ গণমাধ্যমের কর্মীদের দেখান। ওসির কাছে লিখিত অভিযোগে হালিমা উল্লেখ করেন, মিজানুল তাঁকে নানা সময় কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। তাতে রাজি না হওয়ায় মিজানুল তাঁর ক্ষতি করার হুমকি দেন। ১৭ মার্চ দিবাগত রাত দুইটার দিকে মিজানুল হত্যার হুমকি দিয়ে ব্যারাকে হালিমাকে তাঁর কক্ষে ধর্ষণ করেন। ২৯ এপ্রিল গাজীপুরের শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশনের কাছ থেকে বাবা মেয়ের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। গণমাধ্যম মারফত জানা গেছে যে, বিচার না পাওয়ায় মেয়েকে নিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়েন বাবা হজরত আলী। বুকের ভেতর চাপা অভিমান আর ক্ষোভ ছিল হযরত আলীর। ৮ বছরের পালিত মেয়ে আয়েশা খাতুনকে নির্যাতনের ঘটনায় বিচার চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু স্থানীয় ইউপি সদস্য বিচার না করে আপসের প্রস্তাব দেন। তাতে রাজি না হওয়ায় শুরু হয় নানা হয়রানি, হুমকি ও মানসিক নিপীড়ন। এসব সইতে না পেয়ে মেয়েকে নিয়ে আত্মহত্যা করেন। এরকম হাজারো ঘটনার খবর মুদ্রিত হলেও অন্যায় অবিচারের পথকে রুদ্র করা যাচ্ছে না। যা সত্যিই উদ্বেগের বিষয়! অশান্তির জ্বালা মেটাতে মা অবুঝ শিশুকে শাড়ির সাথে বেঁধে ঝাঁপ দিচ্ছে নদীতে। একের পর এক মর্মস্পর্শী ঘটনা ঘটেই চলেছে। একটা সময় তো এমন ছিল যে সামাজিক বন্ধন কিছুতেই নষ্ট করতো না। এখন আর তেমনটা দেখা যায় না। এখন ঘরে ঘরে একটা সমাজ হয়ে গেছে। যে কারণে এখন প্রায়ই শোনা যায় যে, পারিবারিক দ্বন্দ্বে ভাই ভাইকে খুন করছে। সন্তান পিতা-মাতাকে হত্যা করছে। এমনকি পিতা-মাতাও ছেলে-মেয়েকে খুন করতে কুন্ঠাবোধ করছে না। অনেক সময় মা-বাবা তাদের গোপন পাপ ঢাকতে, সংসারের অশান্তির জের ধরে গলাটিপে হত্যা করছে অবুঝ শিশুসন্তানকে। আপন মা-বাবাই কখনো শিশুর মুখে বিষ ঢেলে দিচ্ছে,কখনো গলা টিপে হত্যা করছে, সন্তানসহ ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিচ্ছে, কখনো বা বহুতল ভবন থেকে ছুঁড়ে ফেলে দিচ্ছে। ডাস্টবিনের ভাগাড়ে মিলছে নবজাতকের লাশ। সমাজ, রাষ্ট্র এবং মানবিকতার পচনের চিত্র নতুন ভয়ংকর রূপ নিয়ে হাজির হচ্ছে আমাদের সামনে।
আমাদের পারিবারিক সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সমস্যার চাপে পিষ্ট হয়ে মানুষ বেপরোয়া হয়ে নির্মমতার পথ বেছে নিচ্ছে। বিশেষ করে আমাদের তরুণ তরুণীরা ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এ সমস্যার সমাধানকল্পে আমাদের সবাইকে ফিরে যেতে হবে ইসলামের সঠিক পথে। ইসলাম আল্লাহতায়ালার একমাত্র জীবনব্যবস্থার নাম। যারাই ইসলামের ছায়াতলে প্রবেশ করেছে তারাই ভালো মানুষ হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছে। আমাদেরকে পারিবারিক মূল্যবোধের চর্চার বিষয়টির উপর মনযোগী হতে হবে। ভালো শিক্ষা দিতে হবে সন্তানদের। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলো আগে শিক্ষার যে মান ছিল তা এখন নেই। আমাদের ছোটবেলায় পাঠ্যবইয়ে নীতিনৈতিকতার যে শিক্ষা ছিল এখন তা অনেকটাই অনুপস্থিত। শিশুদের ওপর অধিক পড়া চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু তাতে মানবিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ শেখার বিষয়টি  নেই। একটা সময় ছিল সকালে ঘুম থেকে উঠেই মক্তবে শিশুদেরকে পাঠানো হতো এখন আর তেমনটা হয় না। ষড়যন্ত্র করে হোক আর ধর্মীয় শিক্ষাকে সংকুচিত করার প্রয়াসেই হোক মক্তবের সময়ে কিন্ডারগার্ডেন স্কুলগুলো চালু করা হয়েছে। এক শ্রেণীর মা-বাবার শুধু চিন্তা সন্তান পরীক্ষায় কত নম্বর পেল কিন্তু তারা কতটা ভালো মানুষ হলো তা নিয়ে তাদের তেমন চিন্তা বা উদ্বেগ নেই বললেই চলে। বিরাজমান পরিস্থিতিতে আমাদের প্রতিটি পরিবারকে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার চর্চা বাড়ানো দরকার। সামাজিক অবক্ষয়ের লাগাম এখনই টেনে ধরা না গেলে আগামী দশ বছরে তা ভয়াবহ রূপ নেবে। তাই এ জাতির সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয় প্রতিরোধে ব্যক্তি,পরিবার,সমাজ ও রাষ্ট্রকে এগিয়ে আসতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ