রবিবার ০৯ আগস্ট ২০২০
Online Edition

মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় দ্বিমুখী শিক্ষানীতি

সম্প্রতি সরকার দেশের কওমী মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদের স্বীকৃতির ঘোষণায় সৃষ্ট বিতর্কের অবসানে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান আল্লামা সৈয়দ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী, ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট আবু নাছের তালুকদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য যথাক্রমে আল্লামা জয়নুল আবেদীন জুবাইর, আল্লামা ছৈয়দ নাসেরুল হক চিশতী, আল্লামা পীরজাদা খাজা আরিফুর রহমান তাহেরী ও আল্লামা মোশাররফ হোসেন হেলালী।
সংবাদপত্রে প্রদত্ত এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেছেন, শিক্ষা মানুষের মৌলিক ও নাগরিক অধিকার। এ অধিকার সুরক্ষায় রাষ্ট্র কখনও দায় এড়াতে পারে না। কওমী শিক্ষার্থীরা কোন বিচ্ছিন্ন দ্বীপের বাসিন্দা নয়। এরাও এদেশের নাগরিক। এদের সরকারের নিয়ন্ত্রণ-বহির্ভূূত রেখে শিক্ষার গণমুখিতা অর্জন সম্ভব নয়। সুতরাং এদের শিক্ষাসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ডকে সরকারের নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারিতে আনা নিতান্ত প্রাসঙ্গিক।
অপ্রিয় হলেও সত্য যে, সম্প্রতি সরকার কওমী মাদ্রাসার সনদের যে স্বীকৃতি প্রদান করেছে, তাতে শুভংকরের ফাঁক রয়েছে বলে মন্তব্য করে নেতৃবৃন্দ বলেন, একটি দেশে দু’-ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থার অস্তিত্ব বিদ্যমান থাকলে গোটা শিক্ষা ব্যবস্থায় সংকটাপন্ন হয়ে প্রড়বে। কওমী মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসকে সরাসরি মাস্টার্সের সমমান ডিগ্রী প্রদান করা নিতান্তই অমূলক। কেননা মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার কারিকুলাম অনুযায়ী জেডিসি, দাখিল, আলিম ও ফাযিল পরীক্ষা ব্যতিরেকে সরাসরি মাস্টার্স ডিগ্রির সনদ অর্জন একজন শিক্ষার্থীর জন্য কোন বিচারেই যৌক্তিক হতে প্রারে না। এ ধরনের সনদ একজন শিক্ষার্থী শুধু বিয়ে-শাদীতেই প্রদর্শন করতে প্রারে, ‘না ঘরকা না ঘাটকা হয়ে যায়’। উল্লেখ্য, এযাবতকাল প্রর্যন্ত আলিয়া মাদ্রাসা থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করে শিক্ষার্থীরা দেশ ও জাতির সামগ্রিক উন্নয়নে নিরবচ্ছিন্ন অবদান রেখে আসছেন ও রাখছেন। তাই কওমী শিক্ষার্থীদেরও অভিন্ন শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষানীতি ও সিলেবাসের আওতাভুক্ত করাটা নিতান্তই বাঞ্চনীয়। অন্যথায় মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এহেন দ্বিমুখী শিক্ষানীতি জাতীয় জীবনে শুভকল্যাণ বয়ে আনতে পারে না বলে নেতৃবৃন্দ আশংকা প্রকাশ করেন।Ñপ্রেস বিজ্ঞপ্তি

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ