রবিবার ০৯ আগস্ট ২০২০
Online Edition

শিবচরের নিরীহ মানুষের আতঙ্ক ভদ্রাসন পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র

মাদারীপুর সংবাদদাতা: মাদারীপুরে এক এসআই বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে মামলার ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং নির্যাতন করে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। দাবীকৃত টাকা দিতে না পারলে চালানো হয় নির্যাতন। বিভিন্ন মাদক মামলায় ফাসিয়ে দেয়া হয়। এইমনই অভিযোগ শিবচর উপজেলার ভদ্রাসন পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক নূরুল ইসলাম ও জাবেদ হোসেন নামে এক কনস্টেবলের বিরুদ্ধে। এদের  ভয়ে সন্ধ্যার পর পরই শত বছরের পুরানো বাজার শুণ্য হয়ে যায়। এমন কি দিনের বেলায় বাজারসহ আশপাশের লোকজন আতঙ্কিত থাকে।
সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, শিবচর উপজেলা ভদ্রাসন পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পুলিশ পরিদর্শক নূরুল ইসলাম ও কনস্টেবল জাবেদ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ভদ্রাসন বাজার ও তার আশপাশ এলাকায় নিরীহ মানুষকে হয়রানি করছে। ভয়-ভীতি দেখিয়ে আদায় করছে মোটা অংকের টাকা। টাকা দিতে ব্যর্থ হলে মুখে গামছা বেধেঁ ভুক্তভোগীদের নির্যাতন করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভদ্রাসন বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল খালেক জানান, একটি মামলায় এসআই নূরুল ইসলাম ও তার কনস্টেবল জাভেদ আমার কাছে দেড় লাখ টাকা দাবী করেছে চার্জশীট থেকে নাম বাদ দেয়ার জন্যে। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় আমার দোকান বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিচ্ছে।’ মাছ ব্যবসায়ী সিরূপ দাস বলেন, আমি মাছ বিক্রি করে বাড়ী ফেরার পথে এসআই নূরুল ইসলাম ও ড্রাইভার জাভেদ আমাকে আটক করে বলেন, তোর কাছে ইয়াবা আছে। এ সময় আমি অস্বীকার করলে আমাকে মারধর করে শিবচর থানায় পাঠিয়ে দেয়। পরে আমি ৩০ হাজার টাকা দিলে সন্দেহভাজন হিসেবে আমাকে জেল হাজতে চালান দেয়।’ আরেক ইলেক্ট্রিক ব্যবসায়ী সরোয়ার হোসেন জানান, দীর্ঘদিন যাবত আমি এই বাজারে ব্যবসা করি। আমার নামে কোন দুর্নাম নেই। অথচ পুলিশ আমাকে আটক করে ব্যাপক নির্যাতন করে। পরে আমার আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে ১ লাখ ৪ হাজার টাকা আদায় করে ৫০ পিস ইয়াবা দিয়ে চালান দেয়।’ বাজারে আজিম নামের এক ব্যবসায়ীকে উলাঙ্ক করে শারিরীক নির্যাতন করো।  বাজারের শাক-সবজি বিক্রেতা এক মহিলা বলেন, এই তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশদের ভয়ে আমরা বাজারে আসতে ভয় পাই, তাদের কথা না শুনলে আমাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে।’ গনি নামে এক ব্যক্তিকে টাকার জন্য আড়ারে সাথে ঝুলিয়ে মুখে গামছা বেধে নির্যাতন করা হয়।
নাম প্রকাশে অনুচ্ছিক এক মহিলা বলেন, আমার স্বামী ঢাকা থাকে। এই সুযোগে এই তদন্ত কেন্দ্রের এসআই রাতে আমার বাসায় এসে গালাগালি করে। ওর ভয়ে আমি এই বাজারে আসতে পারি না। ভয়ে থাকতে হয়, কখন কি করে ফেলে।’
এ ব্যাপারে ভদ্রাসন ইউনিয়নের মহিলা মেম্বার নাছিমা বেগম বলেন, এই পুলিশ কেন্দ্র এখন এলাকার বিষ ফোঁড়া হয়ে দাড়িয়েছে। পুলিশের নির্যাতনে এলাকায় নিরীহ মানুষ রাতে ঘুমাতে পারে না। যখন তখন যাকে ইচ্ছে, তাকে মাদক, অস্ত্র মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করে। কেউ টাকা না দিলে ব্যাপক নির্যাতন করে। আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রসহ প্রধানমন্ত্রী বিশেষ নজর কামনা করি।
এসব অভিযোগের ব্যাপারে এসআই নূরুল ইসলামের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে, সাংবাদিকের সাথে অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ করে। নিউজ করলে সাংবাদিকদের দেখে নেয়ার হুমকি দেয়।
 পুলিশ সুপার সরোয়ার হোসেন জানান, যদি কেউ লিখিত অভিযোগ করে, তাহলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে ওই এসআইয়ের বিষয় উচ্চ মহলের চাপ আছে। আমি চেষ্টা করছি, বিষয়টি সমাধানের।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ