রবিবার ০৯ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ফুলছড়ির চরাঞ্চলে দুধ বিক্রি করে স্বাবলম্বী ২ হাজার পরিবার

গাইবান্ধা থেকে জোবায়ের আলীঃ জেলার মূল ভূখন্ড থেকে ব্রহ্মপুত্র নদী দিয়ে বিচ্ছিন্ন ফুলছড়ি উপজেলার ফুলছড়ি ও গজাড়িয়া ইউনিয়ন। ধু ধূ বালিচরের এ দুই ইউনিয়নের টেংরাকান্দি, পেপুলিয়া, দেলুয়াবাড়ি, গলনা, আদর্শ পাড়াসহ প্রায় ১৫ টি গ্রামের মহিলারা এখন স্বাবলম্বি হচ্ছে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে গাভী পালন করে।
চরাঞ্চলের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে গাভি পালন করা হলেও দূর্গম চরাঞ্চল হবার কারণে তাদের উৎপাদিত দুধ বিক্রি করার জন্য হাতের কাছে নেই কোন বাজার। দুধ বিক্রি করতে তাদের যেতে হত দূর দূরান্তের বাজারে। কিন্তু এই অল্প পরিমান দুধ নিয়ে দূরের বাজারে বিক্রি করতে গেলে নষ্ট হয়ে যেত একটি দিন। আর দুধের পরিমাণ সামান্য হওয়ায় দুধ বিক্রির মুনাফাও ছিল অতি অল্প। যা চলে যেত বাজারে যাওয়া আসার খরচ যোগাতেই।
এমন অবস্থায় ওই এলাকার মহিলারা স্থানীয় বে-সরকারী সংগঠন এসকেএস ফাউন্ডেশনের রি-কল প্রজেক্টের সহযোগিতায় এসব চরে গড়ে তুলেছেন দুধ সংগ্রহ সমিতি। সেখানে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলে গাভীর দুধ সংগ্রহের কাজ। এসব চরের ১২ টি এমসিসি বা দুধ সংগ্রহ কেন্দ্রের মাধ্যমে সংগ্রহ করা দুধ বিক্রির জন্য চলে যায় দূর-দূরান্তে শহর-বন্দরে। এক একটি এমসিসিতে দৈনিক দুধ সংগ্রহ হয় ১০০ লিটারেরও বেশি।
চরের মহিলাদের গড়ে তোলা দুধ সংগ্রহ কেন্দ্রগুলোর কারণে যেমন দুধ উৎপাদক মহিলারা লাভবান হচ্ছেন, তেমনি লাভবান হচ্ছেন স্থানীয় দুধ বিক্রেতারাও। এখন হাতের কাছে দুধ সংগ্রহ কেন্দ্র হওয়ায় গাভী যত অল্প পরিমাণ দুধই দিক না কেন, তা বিক্রি করে মুনাফা করা সম্ভব হচ্ছে।
সমিতির সদস্য সালমা বেগম জানান, চরে দুধ সংগ্রহ কেন্দ্র হওয়ায় শুধু দুধ উৎপাদনকারী মহিলাদেরই সুবিধা হয়নি, সুবিধা হয়েছে স্থানীয় দুধ বিক্রেতাদেরও। এখন তারা দুধ সংগ্রহ কেন্দ্র থেকে সহজেই বেশি পরিমাণ দুধ তুলনামূলক কম মূল্যে সংগ্রহ করছে এবং তা দূরের বাজারে বিক্রি করে বেশী লাভ পাচ্ছে।
সুবিধাভোগী দুধ বিক্রেতা মমিন মিয়া জানান, এ এলাকায় দুধ বিক্রির কথা আমরা কল্পনাও করতে পারতাম না। এখন সেখানে দুধের বাণিজ্যিক কেন্দ্র হওয়ায় আমরা সেখান থেকে দুধ সংগ্রহ করে বিভিন্ন বাজরে বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছি ও উন্নতি করছি।
এসকেএস ফাউন্ডেশন এর রি-কল প্রজেক্টের কো-অর্ডিনেটর মো: বাহারাম খান জানান, মিল্ক কালেকশন সেন্টার বা এমসিসির তৈরি হওয়ায় এর মাধ্যমে মহিলারা দুধ বিক্রি করায় মহিলারা এখন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছে এবং একই সাথে নারীর ক্ষমতায়নে সরকারের লক্ষ্যও পুরন হচ্ছে।
জানতে চাইলে জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল লতিফ জানান, ফুলছড়ি উপজেলার পাশাপাশি গাইবান্ধা জেলার অন্যান্য চরাঞ্চলেও এমন দুধ সংগ্রহ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করলে জেলার চরাঞ্চলের নারীদের আর্থ-সামজিক দ্রুত উন্নয়নসহ জেলার চাহিদা মিটিয়ে অন্যত্র দুধ রপ্তানি করা সম্ভব হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ