শনিবার ১১ জুলাই ২০২০
Online Edition

জিপিএ ৫ প্রাপ্তিতে এবারও বোর্ড সেরা তা’মীরুল মিল্লাত মাদরাসা

 

এইচ এম আকতার : বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত দাখিল পরীক্ষায় এবারও রেকর্ড সংখ্যক জিপিএ ৫ (এ+) পেয়ে নিজেদের অবস্থা অক্ষুন্ন রেখেছে তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা। তাদের পরিচালিত তিনটি প্রতিষ্ঠান থেকে এবার মোট জিপিএ ৫ পেয়েছে ৩৪১ জন। একক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশের অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে এতো জিপিএ ৫ পায়নি। বোর্ড সেরা মাদরাসার তালিকা প্রকাশ না করলেও টঙ্গী শাখাই সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত। এবার তাদের মূূল ক্যাম্পাস এবং মাহিলা শাখা থেকে শতভাগ পরীক্ষার্থী পাস করেছে।

জানা গেছে, এবার মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৬’শ ১০ জন। তার মধ্যে শুধু তা’মীরুর মিল্লাত থেকেই জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৪১ জন। শতকরা হারে এ মাদরাসা থেকেই ১৩ শতাংশ ছাত্র-ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছে। একক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এত সংখ্যক জিপিএ-৫ কোন প্রতিষ্ঠান পায়নি। গত বছরও এই প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে বেশি জিপিএ-৫ পেয়েছিল। সফলতার এই ধারা এবারও অব্যাহত রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে,  তা’মীরুল মিল্লাত ট্রাস্ট পরিচালিত তিনটি শাখা থেকে এবার মোট ৭১৫ জন ছাত্র ছাত্রী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৩৩৮ জন। বাকীরা সবাই পেয়েছেন জিপিএ ৪। তাদের দুটি ক্যাম্পাস থেকে শতভাগ পাস করলেও মহিলা ক্যাম্পাস থেকে এবার অসুস্থ্যতার কারণে ৪ জন শিক্ষার্থী ফেল করেছে।

তা’মীরুল মিল্লাত মূল ক্যাম্পাস থেকে এবার মোট ২২ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮১ জন। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১৩১ জনের মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৭৫ জনই। বাকিরা পেয়েছেন জিপিএ ৪। তাদের সাধারণ বিভাগ থেকে ৯১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে এবার জিপিএ ৫ পেয়েছে মাত্র ৬ জন। বাকিরা পেয়েছে জিপিএ ৪। এবার মূল ক্যাম্পাস থেকে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। উল্লেখ্য এখানে ৪ দশমিক ৯৯ পয়েন্ট পেয়েছে অধিকাংশ ছাত্র। এতে করে জিপিএ-৫ এর সংখ্যা কমেছে। তাদের পরিচালিত টঈী শাখা থেকে এবার ৩৮০ জন ছাত্র পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছে ২০৬ জন। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২০৮ পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছে ১৫৪ জন। বাকীরা পেয়েছে জিপিএ ৪ পেয়েছে। একইভাবে সাধারন বিভাগ থেকে ১৭২ জন অংমগ্রহন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫০ জন। বাকিরা সবাই জিপিএ-৪ পেয়েছে। এই শাখা থেকে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে।

তাদের পরিচালিত মহিলা ক্যাম্পাস থেকে এবার ১১৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৬৩ জনের মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৪৬ জন। আর সাধারণ বিভাগ থেকে এবার ৫০ পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। তাদের মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৬ জন। বাকীরা সবাই পেয়েছে জিপিএ ৪। এ শাখা থেকে অসুস্থতার কারনে ৪ জন ছাত্রী ফেল করেছে।

ছাত্র-ছাত্রীদের এ সফলতায় মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা যাইনুল আবেদীন আল্লাহ তায়ালার প্রশংসার পাসাপাশি সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষক,  অভিভাবক,  ছাত্র-ছাত্রী এবং এলাকাবাসীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন,  তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রীরা একাডেমিক শিক্ষার পাসাপাশি আদর্শিক ও নৈতিক শিক্ষা অর্জন করে দেশ ও জাতির খেদমতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। সফলতার এ ধারাবাহিকতা যাতে অব্যাহত থাকে সে ব্যাপারে মহান আল্লাহ তায়ালার সাহায্য ও সকলের আন্তরিক দোয়া কামনা করেন তিনি। তিনি জানান,  একজন শিক্ষার্থী যদি শিক্ষক আর পিতা মাতার কথা শুনে নিয়মিত লেখা পড়া করেন তাহলে তার সফলতা অনিবার্য। শিক্ষাকদের দেখানো পথে চললে সফলতা আসবেই। আমরা প্রতিষ্ঠানের সফলতা ধরে রাখছে সব সময়ই আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছি। এজন্য এলাকাবাসিসহ সকলের সহায়তা দরকার।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপাধ্যক্ষ ড. মাওলানা আবু ইউসুফ বলেন,  ত্রিমুখী সমন্বয়ের মাধ্যমেই আমাদের এই সফলতা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। আমরা বছরের শুরুতেই দুর্বল ছাত্র-ছাত্রীদের চিহ্নিত করে থাকি। পরে তাদের জন্য বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা করে থাকি। ছাত্র শিক্ষক আর অভিভাবকদের সমন্বয়ে আমাদের এই সফলতার ধারা অব্যাহত রয়েছে। আগামীতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও জানান,  সারা দেশে রাজনৈতিক জুলুম নির্যাতনের সাথে আমাদের এই প্রতিষ্ঠানেও নানাভাবে হয়রানি করা হয়েছে। পরীক্ষা চলাকালিন সময়ও ছাত্রদের নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। আমাদের হোস্টেলগুলোতে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ রয়েছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকরে আগামীতে আরও সুফল আসবে। ধারা বাহিক সফরতার জন্য এলাকাবাসি এবং গর্ভানিং বডির সদস্যদের ধন্যবাদ জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ