রবিবার ১২ জুলাই ২০২০
Online Edition

পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের  কারণেই পাসের হার কমেছে -শিক্ষামন্ত্রী

 

স্টাফ রিপোর্টার : শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, পরীক্ষার উত্তরপত্র ত্রুটিমুক্তভাবে মূল্যায়নের কারণেই এবারের এসএসসি পরীক্ষার পাসের হার ও জিপিএ ৫ সামান্য কমেছে। উত্তরপত্র মূল্যায়নের আগের (শত বছরের পুরনো) পদ্ধতি ত্রুটিপূর্ণ ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবারের উত্তরপত্র মূল্যায়ন শতভাগ ত্রুটিমুক্ত না হলেও আগের যে কোন সময়ের চেয়ে অনেকটা ভাল এবং যথার্থ হয়েছে। আগামীতে উত্তরপত্র শতভাগ ত্রুটিমুক্ত মূল্যায়নের দিকেই নজর দিবে মন্ত্রণালয়। 

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা সচিব মো: সোহরাব হোসাইন, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানগণ উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, খাতা মূল্যায়ন পদ্ধতির ত্রুটি দূর করার জন্য গত ৩ বছর যাবত শিক্ষা মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে। সে লক্ষ্যে এবার সকল শিক্ষাবোর্ডে ২৩টি বিষয়ে সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি অভিন্ন মূল্যায়ন পদ্ধতিতে উত্তরপত্র মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নাহিদ বলেন, এবার উত্তরপত্র মূল্যায়নে অবমূল্যায়ন ও অতিমূল্যায়ন রোধে বোর্ডসমূহ বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল প্রধান পরীক্ষকদের উত্তরমালা প্রণয়নের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করা। প্রণীত নমুনা উত্তরমালার আলোকে উত্তরমালা মূল্যায়নে অন্যান্য পরীক্ষকগণকেও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও নির্দেশনা প্রদান করা হয়। তবে উল্লেখিত ব্যবস্থা গ্রহণ করার পরও বেশকিছু উত্তরপত্র একাধিক পরীক্ষক দিয়ে মূল্যায়ন ও পূনঃমূল্যায়ন করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, আগের মতো নম্বর প্রদানে তেমন তারতম্য দেখা যায়নি। আর এ কারণেই এবার পাসের হার ও জিপিএ ৫ দু’তেই এর প্রভাব পরেছে।

শিক্ষকরা আগে গুরুত্ব দিয়ে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করতো না উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এ থেকে বের হয়ে আসার জন্য একবার একটি উত্তরপত্র ২০টি কপি করে ২০ জন পরীক্ষককে মূল্যায়নের জন্য দেয়া হয়। তাতে দেখা যায় ২০ জন একই উত্তরপত্রে ২০ ধরণের নম্বর দিয়েছে এবং প্রত্যেকের নম্বরের মধ্যে ছিল বিস্তর তফাৎ। শিক্ষকদের এ গাফিলতির কারণে দেখা গেছে, একজন খারাপ শিক্ষার্থীর নি¤œমানের উত্তরপত্র বেশ ভাল নম্বর পাচ্ছে, আবার একজন ভাল শিক্ষার্থীর মানসম্পন্ন উত্তরপত্র বেশ কম নম্বর পাচ্ছে। এরপরই মন্ত্রণালয় পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও অভিন্ন মূল্যায়ন পদ্ধতি গ্রহণ করে। সেই সাথে শিক্ষকদের নির্দেশ দেয়া হয়, তার দেখা উত্তরপত্র অন্য শিক্ষক দ্বারা একাধিকবার পূনঃমূল্যায়ন হতে পারে এবং তাতে যদি নম্বর প্রদানে বেশ তারতম্য দেখা যায়, তাহলে তাকে শাস্তি পেতে হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এ নির্দেশনাটি এবার মন্ত্রণালয় ১২ শতাংশ খাতার উপর প্রয়োগ করে দেখেছে একই উত্তরপত্রে একাধিক পরীক্ষকের দেয়া নম্বরে খুব একটা তারতম্য পাওয়া যায়নি। এতে উত্তরপত্র মূল্যায়ন যেমন সঠিক হচ্ছে, তেমনি পরীক্ষার্থীরাও তাদের পরিশ্রমের যথার্থ মূল্য পাচ্ছে। সেই সাথে দেশের শিক্ষার মানেরও যাচাই হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ