সোমবার ২৪ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

ছাঁটাই করা হলো পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ১৭১ গেটকিপারকে

রাজশাহী অফিস : মহান মে দিবসের পরদিনই ছয় মাসের বেতন বকেয়া রেখে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ১৭১ গেট কিপারকে ছাঁটাই করা হয়েছে। বিনা নোটিশে মঙ্গলবার সকালে অস্থায়ী এসব কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়। এতে দারুণ বেকায়দায় পড়েছেন দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করা এই শ্রমিকরা।
ছাঁটাই হওয়ার পর বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর সিটি বাইপাস রেলক্রসিংয়ে অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন। পরে রাতে ছাঁটাই হওয়া গেট কিপারদের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পশ্চিম রেলের গেট কিপারসহ অন্যান্য অস্থায়ী কর্মচারিদের গত ৬ মাস ধরে বেতন পরিশোধ করা হয়নি। এ নিয়ে গত ৩০ এপ্রিল তারা প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান। কিন্তু প্রধান প্রকৌশলী না থাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী। তিনি ১৫ দিনের মধ্যে তাদের বেতন পরিশোধের আশ্বাস দেন। মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে রেলওয়ের গেট কিপাররা প্রতিটি গেটে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় প্রতিটি গেটে গিয়ে রেলওয়ের ওয়েম্যানরা গেট কিপারদের বলেন, পশ্চিম রেলের সব গেট কিপারকে মৌখিকভাবে ছাঁটাই করা হয়েছে। এখন থেকে গেট কিপারদের পরিবর্তে তারা দায়িত্ব পালন করবেন। নগরীর সিটি বাইপাস গেটে ১৭ বছর ধরে অস্থায়ীভাবে চাকরি করছিলেন গেট কিপার দিপু মিয়া (৪৫)। ওয়েম্যানদের এমন কথা শুনে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। দিপু মিয়া বলেন, তার মতো প্রায় সব গেট কিপার বহুদিন ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। রোদ-বৃষ্টি-ঝড়ের মধ্যে বছরের প্রতিটি দিন তারা দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু তাদের চাকরি স্থায়ী করা হয়নি। এখন তাদের ছাঁটাই করার ঘোষণা দেয়া হলো। এতে তারা হতাশ হয়ে পড়েছেন। শাহাদাত হোসেন বাচ্চু (৩৫) নামে অপর এক গেট কিপার বলেন, তারা জানতে পেরেছেন রেলওয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপকের (ডিজিএম) মৌখিক নির্দেশে পশ্চিম রেলের মোট ১৭১ গেট কিপারকেই ছাঁটাই করা হয়েছে। এ জন্য আগে থেকে তাদের কোনো নোটিশও দেয়া হয়নি। এখন তাদের জায়গায় দায়িত্ব পালন করবেন রেললাইন মেরামতের কাজে নিয়োজিত স্থায়ী কর্মী ওয়েম্যানরা। প্রায় ১২ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করা এই শ্রমিক বলেন, তাদের সরকারি চাকরির বয়সের সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে। এখন এভাবে তাদের ছাঁটাই করা হলে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনাহারে দিন পার করতে হবে। তাই চাকরি ফিরিয়ে দিয়ে স্থায়ী করার দাবিতে বুধবার তারা রেলভবনে যাবেন। দাবি মানা না হলে তারা আন্দোলন করবেন। চাকরি ও বকেয়া বেতনের দাবিতে প্রয়োজনে তারা শ্রম আদালতে মামলা করবেন। এবিষয়ে একজন প্রকৌশলী বলেন, ‘বাড়ির কাজের লোককে বেতন দিতে না পারলে কি করে? কাজ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। বিষয়টি তেমনই। রেল কর্তৃপক্ষ গেট কিপারদের বেতন দিতে পারছে না। এ জন্যই তাদের ছাঁটাই করা হয়েছে।’
সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেফতার 
রাজশাহীর পুঠিয়ায় মাদক মামলায় নারীসহ চার জনকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বেলা ১২ টার দিকে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।
পুঠিয়া থানা সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ পুঠিয়া পৌর এলাকার বারইপাড়া গ্রামের মৃত দুখুর ছেলে কাবিলের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে হেরোইন ও গাজঁসহ চার জনকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন, বারইপাড়া গ্রামের মৃত দুখুর ছেলে কাবিল (৪৫), কাবিলের স্ত্রী নাসরীন (৪০), পুঠিয়ার মৃত চান্দু শাহ্ ছেলে দুলাল শাহ্ (৩৬) ও রামজিবনপুর গ্রামের মৃত এছার আলীর ছেলে খালেক (৪৫)। বুধবার দুপুরে তাদের মাদক মামলার আসামী করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। অপর দিকে বাঘায় সাজাপ্রাপ্ত আসামী সুমন ওরফে স্বপনকে (২৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সে উপজেলার দক্ষিণ মিলিক বাঘা এলাকার আতাউর রহমান ভেগলের ছেলে। সোমবার রাতে উপজেলা সদরের পেট্রোলপাম্প এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
দুই ব্যক্তি অপমৃত্যুর শিকার 
রাজশাহীতে দুই ব্যক্তি অপমৃত্যুর শিকার হয়েছেন। এরমধ্যে পবা উপজেলায় গলায় ফাঁস দিয়ে রাজিব হোসেন (২৫) নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেন। রাজিব উপজেলার মহানন্দখালী গ্রামের ইয়াদুল হকের ছেলে। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। পবা থানার পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে রাজিব নিজ ঘরের তীরের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। সকালে অনেক বেলা হয়ে গেলেও রাজিব দরজা না খোলায় পরিবারের সদস্যরা আত্মহত্যার বিষয়টি বুঝতে পারেন। এরপর পুলিশে খবর দেয়া হলে লাশটি উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, দাম্পত্য কলহের জের ধরে পেশায় ট্রলিচালক রাজিব আত্মহত্যা করেছেন।
সড়ক দুর্ঘটনায় যুবকনিহত 
গত সোমবার দুপুরে রাজশাহীর বাঘার কুমারখালী রেলগেট এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক যুবক নিহত হয়। নিহত যুবক আলাউদ্দিন উপজেলার আড়ানী পৌরসভার সাহাপুর গ্রামের মৃত আতাহার ফকিরের ছেলে। জানা যায়, আটরশি ফরিদপুর থেকে বাসযোগে আলাউদ্দিন তার নিজ বাড়ি ফিরছিল। সে চলন্ত বাসের মধ্য থেকে থুতু ফেলতে জানালা দিয়ে মুখ বের করে। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক তাকে আঘাত করে। ফলে চলন্ত বাসের মধ্যে তার মৃত্যু হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ