শনিবার ২২ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

বিভিন্ন স্থানে কালবোশেখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ॥ ফসলহানি

বগুড়ার আদমদীঘিতে গত রোববার ও সোমবার বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত বোরো ধান -সংগ্রাম

সংগ্রাম ডেস্ক : গত দু’দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে কালবোশেখী ঝড়, শিলাবৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় গাছ-পালা, বাড়িঘর, আম-কাঠাল-লিচু ও রবিশস্যসহ বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গাছপালা ভেঙ্গে গেছে। শিলা বৃষ্টিতে উঠতি ফসলসহ ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়েছে প্রচুর। কোথাও কোথাও শিলার আঘাতে ঘরের টিনের চাল ফুটো হয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে ভেঙ্গে গেছে ঘর-বাড়ি, গাছপালা। কোথাও কোথাও ঘর-মিস্ত্রির সংকটে ভাঙ্গা ঘর মেরামত করা যাচ্ছে না বলে আমাদের সংবাদদাতারা জানান। ঝড়ে আম-লিচুর ক্ষতি হয়েছে প্রচুর। উঠতি বোরো ধান ক্ষেতে শুয়ে পড়েছে ঝড়ে এবং বৃষ্টির পানিতে জমিতেই তলিয়ে যাচ্ছে।
ভালুকায় শিলা বৃষ্টি ও ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
বদিউজ্জামান, ভালুকা (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা : গত সোমবার রাতে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার উপর দিয়ে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলা বৃষ্টি ঝড়ে বসতবাড়িসহ বোরো ধান, আম, কাঠাল, লিচু বাগান ও রবি শস্যের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার ১০নং হবিরবাড়ী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে সন্ধ্যার পর থেকেই উত্তর আকাশ কালো হয়ে যায়। রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে প্রথমে হালকা ঝড়ো হাওয়া ও পরে প্রচন্ড বেগে কালবৈশাখী ঝড়ের সাথে বড় বড় শিলা বৃষ্টি পড়া শুরু হয়। দু দফায় অনেক বড় আকারের শিলা বৃষ্টিতে মানুষের ঘরের টিনের চালা পর্যন্ত ছিদ্র হয়ে যায়। বিভিন্ন এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা ঘুরে জানা গেছে উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের, ছোট কাশর, বড় কাশর, গৌরিপূর, সিডস্টোর, পাড়াগাঁও, আওলাতলীসহ বেশ কয়েকটি এলাকার উপর দিয়ে এ ঝড় ও ভয়াবহ শিলা বৃষ্টি বয়ে গেছে। প্রায় ঘন্টাব্যাপী বয়ে যাওয়া ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে ঊঠতি বোরো ধান, আম, কাঠাল, লিচু বাগানের পাশাপাশি বেগুন, শসাসহ সবজি বাগানেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ফসল নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি শিলায় গাছপালার পাতা পর্যন্ত ছিড়ে গেছে। বড়চালা হোসাইনা দাখিল মাদ্রাসার ৫শতহাত লম্বা টিনের বাউন্ডারির বেড়ার টিন উড়িয়ে নিয়ে গেছে। মাদ্রাসাসহ এলাকার প্রায় অধিকাংশ টিনের চালা শিলায় ছিদ্র হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর সংস্কার কাজের জন্য কাঠ মিস্ত্রি সংকটে বিপাকে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। ঘটনার একদিন পার হয়ে গেলেও সংস্কার কাজের সিকি ভাগও সারতে পারেননি ক্ষতিগ্রস্তরা। এ বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, সংস্কার কাজের জন্য কাঠ মিস্ত্রির সংকটের কারণে আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়িগুলো সংস্কার করতে পারছি না। এবং আশংকার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। যদি আবার ঝর বৃষ্টি শুরু হয় তাহলে আমাদের মূল্যবান আসবাবপত্রসহ যাবতীয় জিনিসপত্র বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হয়ে যাবে। ক্ষতিগ্রস্ত হবিরবাড়ী আইডিয়াল মোড়ের বাসিন্দা মাওঃ ফজলুল হক জানান তার বাড়িতে চারটি টিনের ঘর শিলা বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একদিন পার হলেও তা এখনো ঠিক করতে পারিনি, আরেকজন ক্ষতিগ্রস্ত মাস্টারবাড়ী বাজারের টেইলার্স ব্যবসায়ী সুমন মিয়া জানান তার দোকানটি ঝর ও শিলা বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কয়েক দিন পূর্বে পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানিতে বন্যায় নিচু এলাকার উঠতি বোরো ধান ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এবার শিলা বৃষ্টিতে উঁঁচু জমির বোরো ধান ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে।
আদমদীঘিতে কালবৈশাখী
আদমদীঘি (বগুড়া) সংবাদদাতা : বগুড়ার আদমদীঘিতে গেল কয়েক দিনের কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে ইরি-বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টি আর বাতাসে ধানের গাছ গুলো পড়ে গিয়ে মাটি আর পানিতে একাকার হয়ে গেছে। ফলন বিপর্যয়ের আশংকা দেখা দিয়েছে। ধান মাটিতে শুয়ে পড়ায় কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছে। তবে উপজেলা কৃষি অফিস বলেছেন ফসলের ক্ষতি হলেও ফলনের তেমন কোন প্রভাব পড়বে না। এ উপজেলায় কি পরিমাণ ফসলের ক্ষতি হয়েছে তা এখনো নিরুপন করতে পারেনি কৃষি অফিস।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মওসুমে এবার উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা মিলে মোট ১২ হাজার ৭শ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে গেল মওসুমের তুলনায় এবার এ উপজেলায় কমছে ধানের আবাদ। ভূপৃষ্টে পানি স্তর দিন দিন কমে যাওয়া, ফসলি জমিতে পুকুর খনন করে মাছ চাষ, ধানের ন্যায্য দাম বিভিন্ন কারণে কৃষকরা রবি শষ্যের প্রতি ঝুঁকছে। ফলে ধানের আবাদ এ বছর কমে যাওয়ায় বৃদ্ধি পেয়েছে রবি শস্য। সোনালী ধানে ছেয়ে গেছে সারা মাঠ। কৃষকদের বুক ভরা আশা, কয়েকদিন পর মাঠের ফসল ঘরে তুলবে কিন্তু কৃষকদের সেই আশাই যেন গুড়ে বালি হয়েছে কালবৈশাখী ঝড়, আর সাথে হালকা শীলা বৃষ্টি। গত রোববার ও সোমবার ঝড় ও শীলা বৃষ্টিতে ধানক্ষেতে জমেছে পানি। বৃষ্টি ও বাতাসের কারণে ক্ষেতের কাঁচা, আধাপাঁকা ও পাকা ধানগাছ গুলো মাটিতে শুয়ে পড়ে একাকার হয়ে গেছে। ধান পরিপুষ্ট হয়ে পাকার আগেই মাটিতে পড়ে যাওয়া ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে ধান না পাকতেই বাধ্য হয়েই কাটতে হচ্ছে কৃষকদের। সময়ের আগে ধান কাটার ফলে ফলনের বিপর্যয়ের আশংকা করছেন তারা। আবহাওয়ার এই অবস্থায় একই সাথে মাঠে ফসল কাটার শ্রমিকও সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে বেশি দামে শ্রমিক দিয়ে ধান কাটতে হচ্ছে কৃষকদের।
উপজেলার করজবাড়ি গ্রামের কৃষক হাফিজুর রহমান বলেন, আমি ৪বিঘা জমিতে স্থানীয় জিরাশাইল জাতের ধানের আবাদ করেছি, বাতাসের কারণে ধানগাছ মাটিতে শুয়ে পড়েছে। অতি ঝড় ও বৃষ্টির কারণে জমিতে এক গিরা পরিমাণ পানি জমে যাওয়ায় পড়ে যাওয়া ধান গাছ পানিতে ভাসছে। প্রতি বিঘায় প্রায় ৪/৫ মণ ধান কম হবে। আবহাওয়া খারাপের কারণে ২/৩ দিন আগেই কাঁচা ধান কেটে নিলাম। এছাড়া শ্রমিকও সংকট। তিন বেলা খাবার দিয়ে জনপ্রতি ৩৫০-৪৫০ টাকা মজুরি দিতে হয়েছে। মজুরি আরো বাড়তে পারে।
উপজেলা কৃষি অফিসার কামরুজ্জামান জানান, অতিরিক্ত বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসের কারণে কিছু পরিমাণ জমিতে বোরো ধান হেলে পড়েছে। এখন বোরো ধান পাকা ও শক্ত অবস্থায় আছে। আশা করা যায় ফলনের তেমন কোন প্রভাব পড়বে না, তবে আমরা কৃষকদের উৎসাহিত করছি ৮০ ভাগ ধান পেকে গেলে অতিসত্ত্বর তারা যেন ধান কেটে নেয়।
শালিখায়  কালবৈশাখী ঝড়
মাগুরা সংবাদদাতা : মাগুরার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া কালিগঞ্জ সড়কের চুকিনগর এলাকার মুন্সী শহীদুর রহমান বিএম কলেজটি মঙ্গলবার কালবৈশাখী ঝড়ে লন্ড ভন্ড হয়ে  গেছে। ঝড়ের  বেগে কলেজের একটি বিল্ডিং ও বিদ্যুতের পিলার ভেঙ্গে পড়েছে। এ ছাড়াও কলেজের টিনের ছাউনী ঝড়ে  দুমড়ে মুচড়ে ফেলেছে। এব্যাপারে কলেজের সভাপতি মুন্সী মনিরুজ্জামান চকলেটের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, রাত ৮টা সাড়ে ৮ টার দিকে -উত্তর দক্ষিণ দিক থেকে কাল মেঘ জমে উঠে হঠাৎ করে ঝড় শুরু হয়ে ২ মিনিটের ব্যবধানে কলেজটি ভেঙ্গে দুমড়ে মুচড়ে দিয়ে  গেছে। এতে প্রায় ৬ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ