শুক্রবার ২২ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

প্রাইম দোলেশ্বর গাজী গ্রুপ ও প্রাইম ব্যাংকের জয়

স্পোর্টস রিপোর্টার : প্রিমিয়ার বিভাগ ক্রিকেট লিগে জয় পেয়েছে প্রাইম দোলেশ্বর, গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স ও প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ব্লাব। প্রাইম দোলেশ্বর ১ রানে হারিয়েছে কলাবাগান ক্রীড়াচক্রকে। গাজী গ্রুপ ২৫ রানে আবাহনীকে আর প্রাইম ব্যাংক ৬৬ রানে হারিয়েছে লিজেন্ড অব রূপগঞ্জকে হারিয়ে জয় পেয়েছে। ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে ১ রানের শ্বাসরুদ্ধকর জয় পেয়েছে প্রাইম দোলেশ্বর। দলটির এটা তৃতীয় জয়। আগে ব্যাট করতে নেমে ৯ উইকেটে ২০২ রান করেছিল প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাব। জয়ের জন্য কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের লক্ষ্য ছিল ২০৩ রান। টার্গেটের পথে ভালোভাবে ছুটছিল কলাবাগান। কিন্তু শেষ ১০ ওভারে বিপর্যয়ের মুখোমুখি হলো তারা। ৪ বল বাকি থাকতে তাদের ২০১ রানে গুটিয়ে দিয়ে ১ রানের শ্বাসরুদ্ধকর জয় পেয়েছে দোলেশ্বর। গতকাল টস জিতে ফিল্ডিং নেয় কলাবাগান। দোলেশ্বরের ব্যাটসম্যানদের শুরু থেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সফল হয় তাদের বোলাররা। শাহরিয়ার নাফীস সর্বোচ্চ ৩৯ রান করেন। এছাড়া ত্রিশের ঘরে রান করেছেন কেবল জাকের আলী ৩৮ ও মার্শাল আইয়ুব ৩১ রান। শেষদিকে সানজিত সাহা তার ২ ওভারে ৩ উইকেট নিয়ে দোলেশ্বরকে ২০২ রানে বেধে দেন। ডানহাতি এ অফস্পিনার ৯ ওভারে ২৮ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন। অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুলও কম খরুচে ছিলেন, ১০ ওভারে ২ উইকেট নিয়ে দিয়েছেন ৩৪ রান। লক্ষ্যে নেমে তাসামুল হক কলাবাগানকে দ্বিতীয় জয়ের স্বপ্ন দেখাতে থাকেন। কিন্তু ৪১তম ওভারে তিনি ইনিংস সেরা ৮৯ রানে আউট হতেই ভেঙে পড়ে ব্যাটিং লাইনআপ। মাত্র ৪ উইকেটে ১৬২ রান করা দলটি ৪৯.২ ওভারে গুটিয়ে যায়। কলাবাগানের জয়ের স্বপ্নভঙ্গের সূচনা করেন আরাফাত সানি। ৪১তম ওভারে টানা ২টি উইকেট নেন দোলেশ্বরের এ স্পিনার। এর পর শরিফউল্লাহ ও ফরহাদ রেজা তাদের টানা দুই ওভারে ২টি করে উইকেট নিয়ে দোলেশ্বরের জয়ে অবদান রাখেন। শেষ ওভারে ১ উইকেটে মাত্র ৪ রান দরকার ছিল কলাবাগানের। কিন্তু দ্বিতীয় বলে নাহিদ হাসান রান আউট হন আবদুল মাজিদের থ্রোতে। আশরাফুল ২১ বল খেলে মাত্র ৭ রান করে ফরহাদের প্রথম শিকার হন। ফরহাদ ও ম্যাচসেরা শরিফউল্লাহ ৩টি করে উইকেট নেন। আর ২টি পান আরাফাত।
বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে জয় পেয়েছে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। প্রিমিয়ার লিগে প্রথম পাঁচ ম্যাচেই জিতল গাজী। আর প্রথম তিন ম্যাচ জয়ের পর টানা দ্বিতীয় হারের মালা গলায় পরল আবাহনী। এনামুল হক বিজয় ও পারভেজ রসুলের ‘নার্ভাস নাইন্টি’র দিনে আবাহনীকে ২৫ রানে হারিয়েছে তারা। এনামুল ও রসুলের নম্বই রানের দুটি ইনিংসে ২৮২ রানের পুঁজি পেয়েছিল গাজী। তবে টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে আবাহনীর শুরুটা হয়েছিল বেশ ভালো। উদ্বোধনী জুটিতে লিটন দাস ও সাইফ হাসান যোগ করেন ৫৫ রান। অবশ্য ১৩ রানের মধ্যে দুজনই সাজঘরে ফেরেন। ৪০ বলে ১৬ করেছেন সাইফ। ৪২ বলে ৫ চারে ঠিক ৪২-ই করেন লিটন। দুই ওপেনারকে হারিয়ে আবাহনীর স্কোর পেরিয়েছিল একশ। কিন্তু এরপরই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে তারা। এক প্রান্তে আফিফহোসেন লড়ে গেলেও তাকে তেমন একটা সঙ্গ দিতে পারেননি কেউই। আবাহনীর ইনিংসে দুই অঙ্ক ছুঁয়েছেন আটজন। কিন্তু কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি। আফিফই শেষ পর্যন্ত ৭৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। ১১ বল বাকি থাকতে আবাহনী অলআউট হয় ২৫৭ রানে। ৮০ বলে ৭ চার ও এক ছক্কায় ৭৬ রানের ইনিংসটি সাজান ১৭ বছর বয়সি আফিফ। ২৯ বলে ২৬ করেছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ৪৫ রানে ৩ উইকেট নিয়ে গাজীর সেরা বোলার আলাউদ্দিন বাবু। আবু হায়দার রনি ও হোসেন আলী ২টি করে উইকেট নেন। মেহেদী হাসান, নাঈম জুনিয়র ও রসলের ঝুলিতে জমা পড়ে একটি করে উইকেট। এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমেছিল গাজী। ১৩ রানে প্রথম উইকেট হারালেও চতুর্থ উইকেটে এনামুল-রসুলের ৯৩ ও পঞ্চম উইকেটে রসুল-নাদিফ চৌধুরীর ৮০ রানের বড় দুটি জুটি গাজীকে এনে দেয় বড় সংগ্রহ। ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৮২ রান তোলে তারা। দল জয়ের হাসি হাসলেও এনামুল-রসুল দুজনই আক্ষেপ সঙ্গী করেছেন। মাত্র ৩ রানের জন্য লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে অষ্টম সেঞ্চুরিটা মিস করেছেন এনামুল। ১০৯ বলে ৭ চার ও ৩ ছক্কায় তিনি করেন ৯৭। ৮৭ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ৯১ করেন রসুল। এ ছাড়া দুই অঙ্ক ছুঁয়েছেন কেবল আর দুজন- নাদিফ ৪১, মুমিনুল ২৩। অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন ভারতীয় অফ স্পিন অলরাউন্ডার রসুল।
বিকেএসপির ৪ নম্বর মাঠে জয় পেয়েছে প্রাইম ব্যাংক। লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জকে ৬৬ রানে হারিয়েছে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। প্রাইম ব্যাংকের ২৮৪ রান তাড়ায় রূপগঞ্জ গুটিয়ে যায় ২১৮ রানে। এই নিয়ে পাঁচ ম্যাচের সবকটি জিতল প্রাইম ব্যাংক। সমান ম্যাচে রূপগঞ্জের হার দুটি। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা প্রাইম ব্যাংক ২৬ রানের মধ্যে হারায় দুই ওপেনারকে। দুটিই নেন অভিজ্ঞ পেসার মোহাম্মদ শরীফ। তিনে নামা রাফাতুল্লাহর শুরুটা ছিল সাবধানী। তবে দশম ওভারে সৈয়দ রাসেলকে টানা দুই বলে চার ও ছক্কায় হাত খোলেন। এরপর আর তাকে আটকানো যায়নি। তৃতীয় ও চতুর্থ উইকেটে ৫৩ রানের দুটি জুটিতে রাফাতুল্লাহকে সঙ্গ দিয়েছেন জাকির হাসান ও আল আমিন। তবে প্রাইম ব্যাংকের ইনিংস সত্যিকার গতি পায় পঞ্চম জুটিতে। আসিফ আহমেদকে নিয়ে রাফাতুল্লাহ গড়েন ৬৭ বলে ৯২ রানের জুটি। জুটিতে একাই ৬৭ রান করেছেন রাফাতুল্লাহ! প্রথম অর্ধশতকে ৭৪ বল লেগেছিল রাফাতুল্লাহর। পরের পঞ্চাশ ৩৮ বলে। সেঞ্চুরির পর ১৩ বলে ২৮। ১০ চার ও আধ ডজন ছক্কায় ১২৫ করে আউট হয়েছেন শরীফের বলে। শেষ দিকে রান বাড়ানোর কাজ করেছেন আসিফ ও সালমান হোসেন। শেষ ওভারে আউট হওয়া আসিফ করেছেন ৪৮ বলে ৪৭। ২৮ বলে ৩৩ রানে অপরাজিত সালমান। রান তাড়ায় প্রথম তিন ওভারেই ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে রূপগঞ্জ। নতুন বলে প্রাইম ব্যাংকের পেস ও অফ স্পিনের যুগলবন্দীতে তারা হয়ে পড়ে দিশেহারা। প্রথম ওভারেই এজাজ আহমেকে ফেরান আল আমিন হোসেন। দ্বিতীয় ওভারে অফ স্পিনার নাহিদুল ফেরান হাসানুজ্জামান ও মাহমুদুল হাসানকে। পরের ওভারে আবার আল আমিন, এবার শিকার ভারতীয় অলরাউন্ডার জলজ সাক্সেনা। রূপগঞ্জের রান তখন ৪ উইকেটে ১৩! ম্যাচ কার্যত তখনই শেষ। এরপর কেবলই ব্যবধান কমানোর লড়াই। যেটির চেষ্টা করেছেন নাঈম ইসলাম, এই ধরনের পরিস্থিতিতে যিনি বিশেষজ্ঞ। নাঈম নিজের মতোই লড়াই করেছেন। মুশফিক-মাশরাফিরা চলে যাওয়ায় নেতৃত্ব পাওয়া মোশাররফ হোসেন করেছেন ৬৩ বলে ৪২। শেষ দিকে শরীফ ৩২ বলে ৩৪। তাতে একটু ভদ্রস্থ হয়েছে ব্যবধান। নাঈম যদিও একটি ব্যক্তিগত অপ্রাপ্তির আক্ষেপে পুড়েছেন। আউট হয়েছেন ৯৫ রানে। আর ৫টি রান করলে লিগে চার ম্যাচে হয়ে যেত দুটি সেঞ্চুরি। এর আগে বিসিএলে করেছিলেন চারটি সেঞ্চুরি। প্রথম স্পেলের দুই উইকেটের পর আরও তিন উইকেট নিয়েছেন আল আমিন। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ৫ উইকেট পেলেন তৃতীয়বার। এই ম্যাচেই স্পর্শ করেছেন উইকেটের সেঞ্চুরি। তবে মূল নায়ক ব্যাট হাতে সেঞ্চুরিয়ানই। ১২৫ রানের পর একটি উইকেটও নিয়ে ম্যাচ সেরা রাফাতুল্লাহ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ