ঢাকা, বুধবার 30 September 2020, ১৫ আশ্বিন ১৪২৭, ১২ সফর ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

কেমন কাটলো 'প্রেসিডেন্ট' ট্রাম্পের ১০০ দিন

অনলাইন ডেস্ক: আজ ২৯ এপ্রিল, ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম শততম দিন পূরণ করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।  কোটিপতি এই ব্যবসায়ী মার্কিনদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তিনি তাঁদের জন্যই জিতবেন। কিন্তু প্রথম ১০০ দিনে ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডকে কতটা গ্রহণ করেছেন মার্কিনরা? নানা বিশ্লেষণ ও সমালোচনা বলছে, এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ট্রাম্প সবচেয়ে কম জনপ্রিয় নেতা।

এ সময়ে তিনি প্রতিশ্রুতির শতকরা ৮০ ভাগেরও বেশি পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। প্রথম একশত দিনে তিনি যেসব কাজ সম্পন্ন করার কথা বলেছিলেন তার মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে আংশিক। তার দেয়া প্রতিশ্রুতির সংখ্যা ছিল ৩৮টি। তার মধ্যে মাত্র ৭টি প্রতিশ্রুতি পূর্ণাঙ্গভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছেন। অন্যগুলো সম্পন্ন করেছেন আংশিক। 

কিছু আছে যাকে সম্পন্ন হওয়ার যোগ্যতার মধ্যে ধরাই যায় না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শততম দিনে তার কর্মকান্ডের বিশ্লেষণ করতে গিয়ে এসব কথা লিখেছেন সাংবাদিক এমিলি শুগারম্যান। তিনি এতে বলছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কর্মকর্তা নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থবির করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। 

সামরিক কর্মকর্তা কর্মচারী, জাতীয় নিরাপত্তা ও জন নিরাপত্তা বিষয়ক খাত বাদ দিয়ে ২৪শে জানুয়ারি তিনি এ আদেশ জারি করেন। কিনউত তিন মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ১২ই এপ্রিল তা প্রত্যাহার করেন তিনি। 

হোয়াইট হাউজের ব্যবস্থাপনা ও বাজেট বিষয়ক পরিচালক মাইক মুলভানি বলেছেন, ওই আদেশের স্থানে বহাল করা হয়েছে একটি স্মার্ট পরিকল্পনা, অধিক স্মার্ট পরিকল্পনা। কংগ্রেসের সব সদস্যের মেয়াদ সীমাবদ্ধ করতে সংবিধান সংশোধনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু তা পূরণ করা হয় নি। 

ডনাল্ড ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, হোয়াইট হাউজ অথবা কংগ্রেশনাল কোনো কর্মকর্তা সরকারি দায়িত্ব ছাড়ার পর ৫ বছরের মধ্যে লবিস্ট হিসেবে কাজ করতে পারবেন না। এ বিষয়ে তিনি নিষেধাজ্ঞা দেবেন। এ প্রতিশ্রুতিটি কি তিনি পালন করেছেন? উত্তর হলো আংশিক। 

কারণ, তিনি একটি নির্বাহী সব নিয়োগপ্রাপ্তকে ৫ বছরের মধ্যে কোনো সংস্থার লবিস্ট হিসেবে কাজ না করার জন্য একটি নির্দেশ জারি করেন। এ নির্দেশে বাদ রাখা হয় কংগ্রেশনাল কর্মকর্তাদের। ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, হোয়াইট হাউজের কোনো কর্মকর্তা যাতে বিদেশী কোনো সরকারের পক্ষে লবিং করতে না পারে এ জন্য যাবজ্জীবন নিষেধাজ্ঞা জারি করবেন। তিনি এ প্রতিশ্রুতিটি রাখতে পেরেছেন। 

প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের জন্য বিদেশী যেসব লবিস্ট অর্থ সংগ্রহ করে তাদের বিরুদ্ধে পুরোপুরো নিষেধাজ্ঞা দেয়ার। কিন্তু তিনি এ প্রতিশ্রুতিটি পূরণ করেন নি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতায় থাকার ১০০ দিন পূর্ণ হচ্ছে আগামী শনিবার। কোটিপতি এই ব্যবসায়ী মার্কিনদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তিনি তাঁদের জন্যই জিতবেন।

কিন্তু প্রথম ১০০ দিনে ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডকে কতটা গ্রহণ করেছেন মার্কিনরা? নানা বিশ্লেষণ ও সমালোচনা বলছে, এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ট্রাম্প সবচেয়ে কম জনপ্রিয় নেতা।

৭০ বছরের এই নেতার জয় বিশ্বের রাজনৈতিক মহলের কাছে একটি ধাক্কার মতো ছিল। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম কয়েক সপ্তাহে ট্রাম্প হোঁচট খেয়েছেন। তাঁর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত স্থগিত করেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার স্বাস্থ্যসেবা সংস্কার করতে গিয়েও তিনি জটিলতায় পড়েন। ট্রাম্প বলেছেন, কেউ জানতেন না স্বাস্থ্য সংস্কার এত জটিল হতে পারে।

উত্তর কোরিয়া ইস্যু নিয়েও জটিল পরিস্থিতিতে রয়েছেন ট্রাম্প। চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে উত্তর কোরিয়া নিয়ে আলোচনার পর ট্রাম্প বলেন, ‘১০ মিনিট শোনার পর বুঝেছি বিষয়টি সহজ নয়।’

অবশ্য সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ সম্প্রতি বলেছেন, এমন পরিস্থিতিতে অনেক প্রেসিডেন্টকেই পড়তে হতে পারে। চিন্তার থেকে বাস্তব পরিস্থিতি আলাদা হয়ে থাকে।

উত্তর কোরিয়া অভিমুখে মার্কিন রণতরি পাঠানো, সিরিয়ায় বিমান হামলার পর বিতর্কের মুখে পড়েন ট্রাম্প। সমালোচনা ওঠে, এতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক দ্বন্দ্বের দিকে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে নয়/এগারোর মতো বড় সন্ত্রাসী হামলা হলে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট কী করবেন, সে প্রশ্নও ওঠে।

কার্যকলাপ দেখে বলা হচ্ছে, এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো আর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট আসেননি।

দ্য নিউ ইয়র্কার ম্যাগাজিনে লেখক ফিলিপ রথ ট্রাম্পকে নিয়ে লেখেন, শাসনব্যবস্থা, ইতিহাস, বিজ্ঞান, দর্শন, সাহিত্য বিষয়ে তিনি অজ্ঞ একজন প্রেসিডেন্ট। প্রশাসন ও হোয়াইট হাউসের ভেতরেও সুস্থির পরিস্থিতিতে নেই ট্রাম্প। জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের কৌশলবিদ স্টিভ ব্যাননকে অপসারণ করেন। প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসান মেয়ে ইভাঙ্কা ও জামাই জারেড কুশনারকে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ