শনিবার ১১ জুলাই ২০২০
Online Edition

অভিভাবকহীন বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের কাজ বন্ধ!

রাবি রিপোর্টার : দায়িত্ব শেষ হয়েছে ১৯ মার্চ, বিদায় নিয়েছেন সাবেক ভিসি ও প্রো-ভিসি। ৩৮ দিন অতিবাহিত হলেও আজও নিয়োগ হয়নি। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। অভিভাবক শূন্য থাকায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। এদিকে রাষ্ট্রপতি শারীরিক চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে থাকায় আগামী মাসের মাঝামাঝি সময়ের আগে এই দুই পদে নিয়োগ হওয়ার সম্ভবনা ক্ষীণ বলে মনে করেন বিভিন্ন সূত্র। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয় আরও কিছুদিন অভিভাবক শূন্য থাকবে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দায়িত্বে থাকা কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর সায়েন উদ্দিন আহমেদ হতাশা প্রকাশ করে দৈনিক সংগ্রামকে বলেন, ‘আমরা খুব সমস্যা ও কষ্টের মধ্যে আছি। কারণ আমাদের সিস্টেমটা হচ্ছে যে কোন বিষয়ে ভিসির অনুমোদন ছাড়া কোন কিছুই হতে পারে না। এমনকি রুটিন কাজগুলোও হচ্ছে না।  রেজাল্ট বা শিক্ষকদের দেশের বাহিরে যাওয়াও আটকে আছে। কার্যত বিশ্ববিদ্যালয় সব কাজ বন্ধ হয়ে আছে। গোটা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার একটা কষ্টের মধ্যে দিন চালাচ্ছে।’
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মার্চ বর্তমান প্রশাসনের দায়িত্ব শেষ হয়েছে। দায়িত্ব শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই ভিসি-প্রোভিসি নিয়োগ দেয়ার কথা রয়েছে। ১৯৭৩ সালের বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশের ১১ (১) ধারা অনুযায়ী, ভিসি নিয়োগের জন্য বিদায়ী ভিসির সভাপতিত্বে সিনেট অধিবেশনে তিন সদস্যের প্যানেল থেকে একজনকে উপাচার্য নিয়োগ দেবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য। তবে ১৬ বছর ধরে এই প্রক্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়টিতে কোনো উপাচার্যকে নিয়োগ দেয়া হয়নি। অধ্যাদেশের ১১ (২) ধারা অনুযায়ী, অসুস্থতা, পদত্যাগ বা অন্য কোনো কারণে উপাচার্য পদ খালি থাকলে তা পূরণে রাষ্ট্রপতি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান দুু’টি পদ শূন্য থাকায় পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পরীক্ষা কমিটি গঠন, মূল সনদপত্র উত্তোলন, ভর্তি কার্যক্রম, ফিন্যান্স কমিটি, একাডেমিক কমিটির সভা, অন্যান্য আর্থিক খাত, বিভিন্ন সভা-সেমিনারের কাজে স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী শিক্ষক গ্রুপের (সাদা দল) ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মোহা. এনামুল হক দৈনিক সংগ্রামকে বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য নিতান্ত দুর্ভাগ্যের বিষয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে বিভিন্ন ফাইল স্বাক্ষর করতে হয় অথচ এক মাসের বেশি সময় পার হয়ে যাচ্ছে কিন্তু নিয়োগ হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয় যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছিল ভিসি নিয়োগ না হওয়াতে এখন সমস্ত কিছুতে স্থবির হয়ে পড়েছে। যেখানে স্বাক্ষর না হলে একটা ফাইল নড়ে না সেখানে এই দীর্ঘসূত্রিতা বা এটার গুরুত্ব না দেয়া আমাদের কাছে আসলেই দুর্ভাগ্য এবং লজ্জাজনক।’ আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমরা আশাবাদী যে মাননীয় আচার্য দেশে আসার পরেই ভিসি ও প্রো-ভিসি নিয়োগ দিবেন।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ