শনিবার ১৬ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভালো করার আশা মাশরাফির

স্পোর্টস রিপোর্টার : আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এবার ভালো করবে বাংলাদেশ। এমনটাই মনে করেন অধিনায়ক মাশরাফি মতুর্জা। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অংশ নিতে আজই দেশ ছাড়বে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। রাত সোয়া একটায় এমিরেটস এয়ারলাইন্সে করে ইংল্যান্ডের উদ্দেশ্য রওনা হবে জাতীয় দল। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অংশ নেয়ার আগে আয়াল্যান্ডে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশ নিবে বাংলাদেশ। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভালো করা কঠিন হলেও ১২ মে শুরু হওয়া ত্রিদেশীয় সিরিজ জিততে চান মাশরাফি। ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষে জুনে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। তার আগে অবশ্য ইংল্যান্ডের সাসেক্সে ১০ দিনের ক্যাম্প করবে টাইগাররা। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ষ্ঠএ’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। ১ জুন ওভালে প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশ খেলবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। একই মাঠে ৫ জুন অস্ট্রেলিয়া ও কার্ডিফে ৯ জুন নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে টাইগারদের লড়াই। এবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশের তিন প্রতিপক্ষই শক্তিশালী। তার পরও এবার ভালো করতে চায় বাংলাদেশ। গতকাল মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানান তিনি। অধিনায়ক মাশরাফি বলেন, ষ্ঠখুব কঠিন সফর হতে যাচ্ছে। তিন প্রতিপক্ষের দিকে তাকালেই তা বোঝা যাবে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফি এত সহজ হবে না। তবে ওই কন্ডিশনে আমরা ইংল্যান্ডকে ২০১০ সালে হারিয়েছি, অস্ট্রেলিয়াকে ২০০৫ সালে হারিয়েছি। যদিও সে সব ইতিহাস, তবে আমার কাছে মনে হয় এবার সাফল্য পাওয়া সম্ভব। তবে আমরা কিভাবে মানসিক প্রস্তুতি নেব, সেটার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। আমরা মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে না পারলে ২০-২৫ দিনের প্রস্তুতি ক্যাম্প কিংবা ত্রিদেশীয় সিরিজ কোনও কাজেই আসবে না।’ এবার প্রস্তুতি ক্যাম্পকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে মাশরাফি বলেন, ষ্ঠক্যাম্পটা হবে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির প্রস্তুতি মঞ্চ। আয়ারল্যান্ডে খেলব আমরা পূর্ণাঙ্গ সিরিজ, তাই টুর্নামেন্টও বলতে পারেন। সেখান থেকে (চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির) উইকেট কতটা আলাদা, সেটা বলা যাচ্ছে না। আয়ারল্যান্ডে এখনও শীত। আর ইংল্যান্ডে মাত্র গ্রীষ্ম শুরু হয়েছে। তাই আমার মনে হয়, দুই রকম আবহাওয়ায় উইকেটের আচরণও দুই রকম হতে পারে। এর আগে ১০-১২ দিনের ক্যাম্পটা আমাদের খুব কাজে লাগবে। কয়েকটা প্রস্তুতি ম্যাচ আছে, সেগুলো আমাদের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিতে সহায়তা করবে। আশা করি ভালো কিছুই হবে।’ এবার চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ও ত্রিদেশীয় সিরিজের আগে ক্যাম্পের মাধ্যমে ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করবে বাংলাদেশ। মাশরাফি বলেন, ষ্ঠক্যাম্প সব সময় সাহায্য করে। উইকেট সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়, কন্ডিশন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। ইংল্যান্ডে এখন যেহেতু গ্রীষ্মের একদম শুরু, এ সময় আবহাওয়া দ্রুত পরিবর্তন হবে। এটাও মাথায় রাখতে হবে। ২০১৫ সালে আমরা যেমন চেয়েছিলাম, তেমনই হয়েছে। আবার নিউজিল্যান্ড সফরের আগেও ক্যাম্প ছিল, যদিও আমরা ব্যর্থ হয়েছি। এটা বলা তাই বলা কঠিন যে, ক্যাম্প থাকলেই ভালো কিছু হবে।’ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে ত্রিদেশীয় সিরিজটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। মাশরাফি বলেন, ষ্ঠঅবশ্যই জেতার লক্ষ্য থাকবে। কেননা এখানে অনেক হিসাব-নিকাশ রয়েছে। আয়ারল্যান্ডে ভালো করতে পারলে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভালো কিছুর সুযোগ তৈরি হবে। না হলে, চাপ বেড়ে যাবে। সবকিছু মিলিয়ে মানসিক প্রস্তুতিটা ভালো হলে সব সহজ হয়ে যাবে।’ ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশ ফেভারিট কিনা, এমন প্রশ্নে মাশরাফির বলেন, ষ্ঠএখানে তো ফাইনাল নেই, ফেভারিটের প্রশ্ন আসছে না। চারটা ম্যাচ খেলব, ম্যাচ বাই ম্যাচ খেলতে হবে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির প্রস্তুতির জন্য এই সিরিজ খুব গুরুত্বপূর্ণ। র‌্যাংকিংয়ের দিক থেকেও খুব গুরুত্বপূর্ণ।’ গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ খেলেছিল অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে। ৫০ ওভার ক্রিকেটের বিশ্বকাপে পেস আক্রমণে বাংলাদেশ ছিল দুর্দান্ত। আয়ারল্যান্ডের কন্ডিশনের সঙ্গে মিল আছে যার। দল সাজানো হয়েছে তাই পেস বোলারদের নিয়ে। মাশরাফি, মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ সঙ্গে আছেন রুবেল হোসেন ও শফিউল ইসলাম। সবকিছু মিলিয়ে মাশরাফি মনে করছেন তার বোলিং আক্রমণ বেশ সমৃদ্ধ। এ নিয়ে মাশরাফি বলেন, ষ্ঠবোলিং কম্বিনেশন ঠিক কেমন হবে, সেটা ওখানে গিয়ে বলা সহজ হবে। দলে পাঁচ পেসার রয়েছেন। সাকিব আছে, মিরাজ আছে, রিয়াদও এখন দারুণ বোলিং করা শুরু করেছে। সব সময় সৌম্য ভালো বোলিং করছে। দলের মূল বোলার সবাই ভালো করছে। সবমিলিয়ে আমি দারুণ আশাবাদী পেস এবং স্পিন আক্রমণ নিয়ে।’ মোস্তাফিজের কাছ থেকে পারফরম্যান্স বের করে আনতে হলে তাকে নির্ভার রাখতে হবে বলে মনে করেন মাশরাফি। তিনি বলেন, ষ্ঠআমরা যদি ওকে চাপে রাখি তাহলে ওর জন্য কাজগুলো আরও কঠিন হবে। ও এরই মধ্যে প্রমাণ করেছে, ভবিষ্যতের জন্য বাংলাদেশের বড় সম্পদ। ওর প্রতি আমাদের যে প্রত্যাশা, সেটা প্রকাশ না করে যদি ওকে নির্ভার রাখতে পারি। তাহলে আগামী ১০ বছর আমাদের জন্য দারুণ সম্পদ হয়ে উঠবে সে। এ মুহূর্তে তার যা পারফরম্যান্স, সেটা স্বাভাবিক। এর আগে সে যা পেয়েছে, সেটা অস্বাভাবিক ছিল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এসেই আপনি ৪-৫ ম্যাচে ৩০ উইকেট পাবেন- এটা অবিশ্বাস্য একটি ব্যাপার। এখন যা হবে, ওকে কষ্ট করে উইকেট নিতে হবে। ওকে পড়ে ফেলছে ব্যাটসম্যানরা। প্রত্যেকটা দলে সেরা পর্যায়ের কম্পিউটার অ্যানালিস্ট থাকে। ওর সব শক্তির দিক ওরা বের করছে।’ কাঁধের ইনজুরিটা মোস্তাফিজেরে জন্য হুমকি হয়ে এসেছে। ইনজুরিতে পড়েই তার পারফরম্যান্স নিচের দিকে। মাশরাফি বলেন,ষ্ঠমোস্তাফিজের জন্য আরও বড় সমস্যা হয়েছে ওর ইনজুরি। তিন-চার মাস হলো চোট থেকে সেরে উঠেছে। এছাড়া ওর বয়সও মাত্র ২০ বছর। সব কিছু মিলিয়ে ওর দিকে যদি তাকান, ওর জন্য এখন পরিস্থিতি খুব কঠিন।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ