ঢাকা, শুক্রবার 18 September 2020, ৩ আশ্বিন ১৪২৭, ২৯ মহররম ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

পাঁচশ' কেজি মহিলার 'ওজন কমে নি': বোনের দাবি

হাসপাতালে এমান আবদ এল আতি

অনলাইন ডেস্ক: পাঁচশ কেজি ওজনের এক মিশরীয় মহিলাকে ভারতে এনে চিকিৎসা করানোর ফলে তার ওজন 'অর্ধেক কমে গেছে' বলে ডাক্তাররা যে দাবি করছেন - তা 'মিথ্যে' বলে বর্ণনা করেছেন ওই নারীর বোন।

সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী ওই মিশরীয় নারী এমান আবদ এল আতি-কে 'বিশ্বের সবচেয়ে ভারী মহিলা' বলা হতো।

এ বছর তাকে ভারতের মুম্বাইয়ে সাইফি হাসপাতালে এনে অস্ত্রোপচার করানো হয়। এর পর গত সপ্তাহে ডাক্তাররা দাবি করেন মিজ আবদ এল আতির ওজন ২৫০ কেজি কমে গেছে।

কিন্তু তার বোন শায়মা সেলিম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করেন - ডাক্তারদের এ দাবি মোটেও সত্য নয়।

ওই ভিডিওতে শায়মা সেলিম বলেছেন, ডাক্তাররা যত দাবি করছেন তার ওজন তত কমেনি, এবং তার বোন এখনো নড়াচড়া করতে বা কথা বলতে পারেন না।

গত সপ্তাহে মুম্বাইয়ের ডাক্তাররা ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেন যাতে দেখা যায় যে এমান বিছানার ওপর উঠে বসেছেন, এবং ফেব্রুয়ারি মাসে ওই হাসপাতালে আসার পর থেকে তার ২৫০ কেজি ওজন কমেছে ।

কিন্তু শায়মা বলছেন, মুফাজ্জল লাড়কাওয়ালা নামের যে ডাক্তার তার বোনের অপরেশন করেছেন - তিনি তার আগে ও পরে এমানের ওজন নেন নি। তিনি বলেন, "তার কাছে ওজন কমার কোন প্রমাণ থাকলে তিনি তা হাজির করুন।"

তিনি বলেন, তার বোনের দেহে অক্সিজেনের পরিমাণ স্বাভাবিক নয়। তিনি মুখে খাবার খেতে পারছেন না, টিউবে করে তাকে খাবার দেয়া হচ্ছে।

ড. লাড়কাওয়ালা অবশ্য শায়মার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি এক টুইটে লেখেন, "শায়মা সেলিম আপনি মানবতাকে হত্যা করেছেন। আমি এমানের চিকিৎসা চালিয়ে যাবো।"

হাসপাতালের এক মুখপাত্র বলেছেন, সোমবার মিজ আবদ এল আতির ওজন নেয়া হয়েছে এবং তার ওজন এখন ১৭২ কেজি।

ডাক্তাররা বিশেষ ব্যান্ড লাগিয়ে ছোট করে দেন এমানের পাকস্থলী

এমান আবদ এল আতি ১১ বছর বয়েসে স্ট্রোক হবার পর থেকে ২৫ বছর বাড়ির বাইরে বেরুতে পারেন নি। জানুয়ারি মাসে বিশেষ বিমানে করে তাকে মুম্বাই আনা হয়। সেখানে তাকে বেরিয়াট্রিক নামে বিশেষ এক অপারেশন করে পাকস্থলীর আকার ছোট করে দেয়া হয়।

হাসপাতাল বলছে, এখন এমান হুইলচেয়ারে বসতে পারেন।

রিপোর্টে বলা হচ্ছে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মনে করছে যে এমানের চিকিৎসা প্রায় শেষ এবং তাকে এখন মিশরের আলেকজান্দ্রিয়ায় ফেরত পাঠানো যেতে পারে। কিন্তু এতে শায়মা সেলিম অসন্তুষ্ট হয়েছেন।-বিবিসি বাংলা

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ