সোমবার ৩০ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

পাহাড়ের ‘ভাবনাকেন্দ্রে’ দেশবিরোধী ভাবনা!

পার্বত্য এলাকা নিয়ে একটি প্রতিবেদন মুদ্রিত হয়েছে দৈনিক জনকণ্ঠে। ২৪ এপ্রিল মুদ্রিত প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, সবুজে ঘেরা পার্বত্য এলাকায় নতুন দাবানলের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এখানে মিয়ানমারের উগ্রপন্থী একটি গ্রুপ তাদের কর্মকা- পরিচালনা করছে। সরকারের খাস জমি দখল করে বিশাল এলাকা নিয়ে গড়ে তুলেছে ‘ভাবনাকেন্দ্র’ বা কিয়াং। ভাবনাকেন্দ্রে বসেই মিয়ানমারের উগ্র জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠী ‘৯৬৯’ নানা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে উপজাতিদের। মিয়ানমারের ৩৫ জনের বেশি নাগরিক এ কাজে জড়িত রয়েছে বলে গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে। তারা ধর্মযাজক বা ভান্তে সেজে পাহাড়ীদের মধ্যে বিষবাষ্প ছড়িয়ে দিচ্ছে। গত কয়েক মাসে তারা পার্বত্য এলাকায় ২৫ হাজারের বেশি অনুসারী তৈরি করেছে। মিয়ানমারের এই ভান্তেরা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত  বান্দরবানের স্বর্ণমন্দির ও রাঙ্গামাটির বনবিহারে ও রাজবন বিহারে কাউকে ঢুকতে না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। তাদের পরামর্শে এই তিনটি প্যাগোডা এখন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিহারগুলোতে গত কয়েক মাস ধরে সর্বসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেখানে এখন জুডো-ক্যারাতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা বনে ঢুকে পড়ছে। বনে গিয়ে তারা উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। পরে তারা জুম্মুল্যান্ড গড়ার আন্দোলন-সংগ্রাম ও সশস্ত্র বিপ্লবের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
প্রতিবেদনটিতে আরো উল্লেখ করা হয়, সরেজমিনে পার্বত্য এলাকার রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান জেলায় ঘুরে লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্প্রতি মিয়ানমারের এক নাগরিক ভান্তে সেজে এমন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিল। যৌথ বাহিনী গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে মিয়ানমারের মুদ্রাসহ (এক লাখ ৫৫ হাজার কিয়াত) গ্রেফতার করে। উল্লেখ্য যে, মিয়ানমারের মুদ্রার নাম হলো ‘কিয়াত’। গ্রেফতারের পর যৌথবাহিনী তার কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে। সে বলেছে, পাহাড়ে তার মতো প্রায় শতাধিক ভান্তে রয়েছে। পাহাড়ের উপজাতিরা যাতে বাঙালিদের ওপর  বিষিয়ে ওঠে সেজন্য তারা কাজ করছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, এরকম কয়েকশ’ ভান্তে পার্বত্য এলাকায় কাজ করে যাচ্ছে। যাদের চেনার তেমন উপায় নেই। কারণ পার্বত্য এলাকার উপজাতি গোষ্ঠীর মানুষের মতোই তাদের চেহারা বা রেস।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইউপিডিএফ, জেএসএস ও জেএসএস সংস্কারপন্থী অস্ত্রধারীদের প্রশিক্ষণও দিচ্ছে ভান্তেরা। তাদের নতুন করে স্বপ্ন দেখানো হচ্ছে জুম্মুল্যান্ড গঠনের। স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে জুম্মুল্যান্ড গঠন করার জন্য রূপরেখাও তৈরি করা হয়েছে। কি ধরনের সরকার হবে পাহাড়ে তারও একটি ছক সাজানো হয়েছে। পাহাড়কে এমন একটি অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে যে, বাংলাদেশ সরকার থেকে পাহাড়কে বিচ্ছিন্ন করে নিজেরাই সরকার গঠন করে স্বাধীন জুম্মুল্যান্ড গঠন করবে তারা। এ ধরনের তৎপরতাকে সরকার প্রশ্রয় না দেওয়ায় পার্বত্য জেলাগুলোতে সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো প্রতিনিয়ত কোনো না কোনো কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, ‘৯৬৯’-এর সদস্যরা শুধু মিয়ানমার নয়, বাংলাদেশসহ সকল বৌদ্ধ অধ্যুষিত অঞ্চলে বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে, যাদের মূল টার্গেট হলো মুসলমান। মিয়ানমারের মুসলমানদের ওপর হামলায় উস্কে দেয় ভান্তেরা। তারা নিধনযজ্ঞে অংশগ্রহণও করে। জনকণ্ঠের প্রতিবেদনে যে চিত্র লক্ষ্য করা গেল তা শুধু ভয়াবহ নয়, দেশের সার্বভৌমত্বের জন্যও হুমকিস্বরূপ। শুধু সরকার নয়, সবারই এ ক্ষেত্রে উপযুক্ত ভূমিকা পালন আবশ্যক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ