মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ভোটে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ায় দ্বিতীয় ধাপে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন

২৪ এপ্রিল , রয়টার্স/বিবিসি : ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফা ভোটে মধ্যপন্থি প্রার্থী এমানুয়েল মাক্রোঁ এবং কট্টর-ডানপন্থি প্রার্থী জঁ মারি ল্য পেন সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়ে দ্বিতীয় পর্বের (রানঅফ) প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মনোনীত হয়েছেন।
এই দুই প্রার্থীর মধ্যে একজন হতে যাচ্ছেন ফ্রান্সের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট, কিন্তু এই মুহূর্তে গণমাধ্যমের জরিপে কে এগিয়ে আছেন?
বিবিসি জানিয়েছে, সাবেক ব্যাঙ্কার মাক্রোঁকে রাজনীতির বাইরের লোক হিসেবে বিবেচনা করা হয়, প্রতিষ্ঠিত কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থন ছাড়াই তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন। ফ্রান্সের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া অলন্দের অর্থমন্ত্রী ছিলেন মাক্রোঁ, কিন্তু নিজ দল গঠন করার জন্য মন্ত্রীত্ব ছাড়েন। বর্তমানে ‘এগিয়ে চলো’ নামের এক আন্দোলনের উদার মধ্যপন্থি নেতা তিনি। অপরদিকে উত্তরাধিকার সূত্রে রাজনীতিতে আসা ল্য পেন ২০১১ সালে তার বাবার কাছ থেকে কট্টর-ডানপন্থি দল ন্যাশনাল ফ্রন্টের (এফএন) নেতৃত্বভার গ্রহণ করেন। তার নেতৃত্ব গ্রহণের পর ফ্রান্সের আঞ্চলিক নির্বাচনগুলোতে এফএন বড় ধরনের সাফল্য পায়।
তার নেতৃত্বেই দলটি গত ১৫ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করে। ল্য পেনের দল অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কার ও বৈধ অভিবাসীদের রাশ টেনে ধরতে চায়, আবাধ বাণিজ্যের ওপর যবনিকা টানতে চায় এবং ইউরোপের সঙ্গে ফ্রান্সের বর্তমান সম্পর্ক আমূল পাল্টাতে চায়।
এফএনের কট্টরপন্থি এসব ইস্যুতে ল্য পেন জনপ্রিয়তা পেলেও রোববারের ভোটে উদার ও ইইউপন্থি মাক্রোঁ তাকে টেক্কা দিয়েছেন।
প্রথম পবের ভোটে মাক্রোঁ পেয়েছেন ২৩ দশমিক আট শতাংশ ভোট, অপরদিকে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ল্য পেন পেয়েছেন ২১ দশমিক পাঁচ শতাংশ ভোট। প্রথম পর্বের ভোটে মাক্রোঁই এগিয়ে আছেন।
এ পর্যায়ে ল্য পেনের এফএন দলের ক্ষমতায় যাওয়া ঠেকাতে ফ্রান্সের বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল রানঅফ ভোটে মাক্রোঁকে সমর্থন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট অলন্দের ক্ষমতাসীন সমাজতন্ত্রী দলের প্রার্থী বেনোয়া আমোঁ, প্রথম পর্বে তাকে যারা ভোট দিয়েছেন তাদের রানঅফে মাক্রোঁর পক্ষে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রথম পর্বে ১৯ দশমিক নয় শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থান দখলকারী রক্ষণশীল দলের প্রার্থী ফ্রঁসোয়া ফিয়ঁও নিজের সমর্থকদের প্রতি একই আহ্বান জানিয়েছেন।
ফ্রান্সের নির্বাচনি ইতিহাসে বরাবরই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় পর্বে সব দল তাদের কোন্দল ভুলে ডানপন্থিদের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে কাজ করেছে। এবারও তাই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এসব লক্ষণ বিবেচনায় বিশ্লেষকদের ধারণা আগামী ৭ মে-র রানঅফ ভোটে বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে ৩৯ বছর বয়সী মাক্রোঁ হতে যাচ্ছেন ফ্রান্সের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট।
আর তা হলে মাক্রোঁই হবেন ফ্রান্সের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী প্রেসিডেন্ট এবং আধুনিক ফ্রান্সের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বড় কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী না হয়েও প্রেসিডেন্টের দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।
প্রথম ধাপে জয়ী ম্যাক্রো : গোটা ফ্রান্সের মানুষদের প্রেসিডেন্ট হওয়ার অঙ্গীকার করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের জন্য মনোনীত প্রার্থী ইমানুয়েল ম্যাক্রন। রবিবার প্রথম দফার নির্বাচনের ফলাফলে বিজয়ী ঘোষণার পর উচ্ছ্বসিত সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
গত রবিবার নির্বাচনের প্রথম ধাপে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে জয়ী হন নির্দলীয় মধ্যপন্থী ইমানুয়েল ম্যাক্রন ও উগ্র-ডানপন্থী ন্যাশনাল ফ্রন্ট পার্টির মেরিন লে পেন। ফ্রান্সের নির্বাচনি ব্যবস্থা অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম পর্বে যদি কোনও প্রার্থী ৫০ শতাংশ ভোট অর্জন করতে ব্যর্থ হন, তাহলে দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে অংশ নেন শীর্ষ দুই প্রার্থী। প্রথম ধাপের নির্বাচনে ম্যাক্রন পেয়েছেন ২৩.৭৫ শতাংশ ভোট। লা পেন পেয়েছেন ২১.৫৩ শতাংশ। তারাই এখন দ্বিতীয় ধাপে লড়বেন।
ফলাফল জানার পর রবিবার পোর্ত দে ভেরসাইলে এক বিজয় সমাবেশে স্ত্রী ব্রিজিত্তেকে নিয়ে হাজির হন ইমানুয়েল ম্যাক্রন। দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনেও ম্যাক্রন প্রতিদ্বন্দ্বী লে পেনকে টপকে যাবেন বলে বিভিন্ন জরিপে আভাস দেওয়ার পর অনেকটা আত্মবিশ্বাসের সুরই শোনা গেল ম্যাক্রনের কণ্ঠে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিযান জানায়, ম্যাক্রনের ভাষণ শুনে মনে হচ্ছিল তিনি চূড়ান্ত বিজয় পেয়ে গেছেন। সমর্থকরাও তখন ‘ম্যাক্রন প্রেসিডেন্ট’ বলে স্লোগান দিচ্ছিলেন।
সমর্থকদের উদ্দেশে ম্যাক্রন বলেন, ‘চ্যালেঞ্জটা হলো আমাদের রাজনৈতিক জীবনে নতুন এক অধ্যায় খোলা এবং এমন এক ব্যবস্থা চালু করা, যার মধ্য দিয়ে প্রত্যেকে ফ্রান্স ও ইউরোপে তার জায়গা খুঁজে পাবে।’
ম্যাক্রন আরও বলেন, ‘আমি ফ্রান্সের সব মানুষের, জাতীয়তাবাদের হুমকিতে থাকা দেশপ্রেমিকদের প্রেসিডেন্ট হতে চাই।’
সাবেক ব্যাংকার ইমানুয়েল ম্যাক্রন গত বছর আগস্টে অর্থমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে নিজেই পৃথকভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দেন। ইমানুয়েল ম্যাক্রন ব্যক্তিগতভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পক্ষাবলম্বী। তিনি নিজেকে ‘ডান’ বা ‘বাম’ বলতে নারাজ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ