মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ভূমিরক্ষার অঙ্গীকারে সামিল ফিলিস্তিনীদের উপর ইহুদীদের তাণ্ডব

* প্রতিবাদকারীদের উপর গুলীবর্ষণ
২৪ এপ্রিল, মিডল ইস্ট মনিটর/সিএনএন : ইসরাইল অধিকৃত ফিলিস্তিনী ভূমি পশ্চিমতীরবাসীর ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দিচ্ছে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা। ইসরাইলি বাহিনীর প্রত্যক্ষ মদদে আবারও পশ্চিমতীরের উত্তরাঞ্চলে অবৈধ বসতি স্থাপনের প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে। ভূমি রক্ষার লড়াইয়ে নামা ফিলিস্তিনীদের ওপর গুলি চালিয়ে জোরপূর্বক অবৈধ বসতি স্থাপনকে বৈধতা দিয়ে যাচ্ছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী।
পশ্চিমতীরের উত্তরাঞ্চলীয় শহর নাবলাসের খানিকটা দক্ষিণ দিকের একটি গ্রামে ভূমি রক্ষার লড়াইয়ে সামিল হওয়া ফিলিস্তিনীদের ওপর গুলীবর্ষণ করে ইসরাইলি বাহিনী। মিডল ইস্ট মনিটরের খবরে বলা হয়েছে, সে সময় রাবার বুলেট ছুঁড়ে অন্তত ৪ ফিলিস্তিনীকে আহত করেছে ইসরাইলী বাহিনী।
এর কিছু সময় পরে দুই ফিলিস্তিনীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পশ্চিমতীরের উত্তরাঞ্চলে অবৈধ বসতি সংক্রান্ত কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন ঘাসান ডাগলাস নামের একজন কর্মকর্তা। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া তার বিবৃতিকে উদ্ধৃত করে মিডল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, উরিফ নামের ওই গ্রামে তা-ব চালিয়েছে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা। প্রায় ১০০ জন উগ্র অবৈধ বসতি স্থাপনকারী ওই গ্রামে ঢুকে ফিলিস্তিনী বাড়িঘরে ভাঙচুর চালায়। জোর করে বাড়ি থেকে বের করে দিতে চায় ফিলিস্তিনীদের।
স্থানীয় এক ফেসবুক গ্রুপকে উদ্ধৃত করে মিডল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের তাণ্ডবের এক পর্যায়ে স্থানীয় মসজিদের মসজিদ ব্যবহার করে দখলদারি প্রতিরোধের আহ্বান জানানো হয়। সে সময় পশ্চিমতীরে বাসকারী শত শত ফিলিস্তিনী ভূমিরক্ষার অঙ্গীকারে সামিল হন। বসতি স্থাপনকারীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ শুরু হলে সেখানে প্রবেশ করে ইসরাইলী সেনাবাহিনী।
ইহুদি তা-বকারীদের রক্ষায় এগিয়ে যান ইসরাইলী সেনারা। অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের রক্ষায় বারাট বুলেট ছুঁড়ে প্রতিবাদী ফিলিস্তিনীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে ইসরাইলী বাহিনী। সে সময় অন্তত চারজন আহত হন।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ফিলিস্তিনে অভিবাসন এবং বসতি স্থাপন অবৈধ। ২০ বছরের বিরতি শেষে সম্প্রতি অধিকৃত পশ্চিমতীরে নতুন বসতি নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে ইসরাইলের নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রিপরিষদ। পশ্চিমতীরে ইসরাইলী বসতি কমিয়ে আনতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যখন আলোচনা চলাকালেই বসতি সম্প্রসারণের এ বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেয় ইসরায়েল। অধিকৃত ফিলিস্তিনী ভূখণ্ডে নতুন অবৈধ বসতি অনুমোদনের নিন্দা জানিয়ে আবারও ইসরাইলকে শান্তির পথে বাধা হিসেবে শনাক্ত করেছে জাতিসংঘ। বসতি স্থাপনের পদক্ষেপকে মধ্যপ্রাচ্যে ‘শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাধা’ হিসেবে শনাক্ত করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
১৯৯০ এর দশকের শুরু থেকে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে বেশ কয়েক দফায় শান্তি আলোচনা হয়েছে। ফিলিস্তিনীরা চায় পশ্চিম তীরে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে এবং পূর্ব জেরুজালেমকে এর রাজধানী বানাতে। ১৯৬৭ সালের আরব যুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেম দখল করে রেখেছে। পূর্ব জেরুজালেমকে নিজেদের অবিভাজ্য রাজধানী বলে দাবি করে থাকে ইসরায়েল। অবশ্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পূর্ব জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি।
১৯৬৭ সালের পর পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ১শরও বেশি বসতি স্থাপন করেছে ইসরায়েল। পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমে স্থাপিত প্রায় ১৪০টি বসতিতে ৬ লাখেরও ইসরাইলী বসবাস করে। আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় এ বসতি স্থাপনকে অবৈধ বলে বিবেচনা করা হলেও তা মানতে নারাজ ইসরায়েল।
তবে গত বছর ডিসেম্বরে ইসরাইলী বসতি স্থাপনের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা পরিষদে এক প্রস্তাব পাস হয়। ওবামা প্রশাসনের প্রত্যক্ষ ভূমিকায় পাস হওয়া ওই প্রস্তাবে বলা হয়, ‘১৯৬৭ সাল থেকে ফিলিস্তিনী ভূখণ্ডে ইসরায়েল যে বসতি স্থাপন করে যাচ্ছে, তার কোনও আইনি ভিত্তি নেই।
এদিকে ফিলিস্তিনী নাগরিকদের উপর তীব্র বিদ্বেষ পোষণ করার কারণে প্রায় মাসব্যাপী তদন্তের পর ছয় জনকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেছে ইসরাইলী কর্তৃপক্ষ। এছাড়া রোববার বিকেল চারটায় নিজেদের ভূখণ্ডে হামলা চালানোয় অপর এক ফিলিস্তিনী নাগরিককে আটক করেছে তারা।গত ডিসেম্বরে ফিলিস্তিনী নাগরিকদের টার্গেট করে বিদ্বেষমূলক কয়েকটি হামলা চালানোর দায়ে এ ছয়জনকে দেশটির বীর শেভা শহর থেকে আটক করে পুলিশ। এদের মধ্যে একজন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যসহ দুই সামরিক কর্মকর্তাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসরাইলি পুলিশের মুখপাত্র মিকি রোসেনফেল্ড।
তদন্তকালে বীর শেভাতে ইহুদী ও আরবীয়দের স্বার্থ রক্ষায় তাদের মধ্যে ‘জাতীয়তাবাদী-বর্ণবাদী অভিপ্রায়’ লক্ষ্য করা গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ওই সময় তারা ফিলিস্তিনীদের উপর আক্রমণ চালাতে ছুরি, কাঁচি ও রডসহ অন্যান্য ধাতব অস্ত্র নিয়ে চলাফেরা করতো বলে জানা গেছে। আর একারণে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।
এছাড়া ইসরাইলি পুলিশের এক বিবৃতিতে আরো জানানো হয়েছে, রবিবার বিকেলে দেশটিতে একটি বিচ্ছিন্ন হামলা চালানোর দায়ে অপর এক ফিলিস্তিনী নাগরিককে আটক করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ