বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

দ্বীন প্রতিষ্ঠায় নারীর অবদান

খাদিজা আক্তার দুলি : ইসলামী আদর্শের ইনকিলাব প্রতিষ্ঠায় আন্দোলনী আবেশ নতুন কিছু নয়। সেই মক্কার বালুকা রাশির উপর যে পদচিহ্ন এঁকে এই আদর্শের প্রতিষ্ঠার আন্দোলন শুরু হয়েছিল, সেই হুকুমাতে ইলাহিয়াত কায়েমের সংগ্রাম আজও অব্যাহত গতিতে চলছে, চলবেই ইনশাআল্লাহ।
ইসলামী আন্দোলনের এই বীজ বপন এবং তা পূর্ণাঙ্গ কালেমার প্রতিষ্ঠা করতে যেয়ে সংঘাত সংঘর্ষের মুখোমুখি হয়ে বুকের তাজা রক্ত দিয়ে, ফাঁসির কাষ্ঠে প্রাণ দিয়ে, রাজপথ রঞ্জিত করে কালেমা তাইয়েবার প্রতিটি শব্দের মূল্য দিয়ে প্রমাণিত হচ্ছে এক লা শরীক আল্লাহর সার্বভৌমত্ব নিছক কোনো মুখের কথা নয়। চিরন্তন পথ পরিক্রমায় জুলুমবাজরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিটি আঘাতে ক্ষত বিক্ষত করেছে শাহাদতের এই আন্দোলনকে। অবশ্য এর জবাব দিতে একটুও ভুল করেনি এই আন্দোলনের অগ্রসেনানীরা।
সত্য প্রচারের অপরাধে সুষম সমাজের গোড়াপত্তন আর জালিমের দাসত্ব থেকে মুক্ত করে পবিত্রতার পরশ দিয়ে সাজাতে চেয়েছে আল্লাহর এই জমিন। আদর্শহীন সেক্যুলার বাদীরা তাদের সমস্ত উপায় উপকরণ দিয়ে স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছে এই আন্দোলনকে। কিন্তু এই সত্যের সেনানীরা আদর্শের আগুন বুকে নিয়ে প্রতিবারই ময়দানে নিজেদের অবস্থানকে করেছে জোরালো থেকে আরো জোরালো। ওরা জানেনা, মুমিনরা যেখানেই হোঁচট খেয়ে পড়ে যায়, সেখানেই ভর করে আবার দাঁড়িয়ে যায় আল্লাহর উপর পরিপূর্ণ নির্ভরতায়।
শাশ্বত এই আন্দোলনকে প্রতিষ্ঠা করতে নারীর দায়িত্ববোধের জায়গাও কোনো যুগে কোনো অংশেই কম ছিলো না। বস্তুতঃ গোটা সমাজ ব্যবস্থা এখন ভেতর ও বাহির উভয় দিক থেকেই আক্রান্ত। আমরা আমাদের আদর্শকে সংকুচিত করতে করতে ব্যক্তি ও পরিবার পর্যন্ত নিয়ে আসলেও এখন আর তা এই দুইয়ের মাঝেও ধরে রাখা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমতাবস্থায় শুধু পুরুষের একার মাধ্যমে এই দ্বীনকে বিজয়ী করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন সামগ্রিক ঐক্যবদ্ধ শক্তি।
পবিত্র কুরআনে মহান রাব্বুল আলামীন বলেন, “মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারী পরস্পরের বন্ধু ও সাথী। তারা যাবতীয় ভালো কাজের নির্দেশ দেয়, সব অন্যায় ও পাপ কাজ থেকে নিজেদের বিরত রাখে, নামায কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও তার রাসূলের আনুগত্য করে । এরা এমন লোক যাদের উপর আল্লাহর রহমত নাযিল হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজয়ী, সুবিজ্ঞ ও জ্ঞানী। এই মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীর সম্পর্কে আল্লাহর ওয়াদা এই যে, তাদের এমন বাগ বাগিচা দান করবেন যার নিচ দিয়ে ঝর্ণাধারা বহমান এবং তারা সেখানে চিরদিন থাকবে চির সবুজ-শ্যামল বাগিচায়। তাদের জন্য পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন বসবাসের জায়গা থাকবে। আর সবচেয়ে বড় কথা এই যে, তারা আল্লাহর সন্তোষ লাভ করবে। এটাই সবচেয়ে বড় সাফল্য।” (আত-তাওবা:৭১-৭২)
ইতিহাসের ধারায় দ্বীন প্রতিষ্ঠায় নারীর অবদান অনেক বেশি। যে অবস্থায় সমাজের একাংশ কালেমা তৈয়্যেবাকে বুলন্দ করতে যেয়ে আঘাতে আঘাতে রাজপথে লুটিয়ে পড়েছে, সেই অবস্থায় আরেক অংশ কখনোই নীরবে বসে থাকতে পারে না। আর ইসলাম ও তাকে ঘরে বসে শুধু তাসবীহ তাহলিলের অনুমতি দেয় না। বরং সমাজকে আদর্শের দিকে পরিচালিত করে সুসভ্য করতে তাকে আদেশ প্রদানও করে:
“তোমরাই উত্তম জাতি। মানব জাতির কল্যাণের জন্যই তোমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে। তোমরা সৎ কাজের আদেশ দেবে এবং অসৎ কাজ হতে বিরত রাখবে।” (আল-ইমরান:১১০)
এখানে মহান রাব্বুল আলামীন নারীকে উত্তম জাতির অর্ধেক হিসেবে ঘোষণা করে তাকে এক চিরন্তন সামাজিক দায়িত্ব পালনকারী হিসেবে ঘোষণা করেছে। পৃথিবীতে মহিলারা নিজেদের ধর্ম ও সভ্যতা সংস্কৃতির সবচাইতে বড় রক্ষক হয়ে থাকে। এই মায়েদের দ্বারাই সন্তানরা কালেমা শিখতো, কুরআন শিখতো, শিখতো ইসলামের রীতিনীতি। এর প্রভাব এতটা কার্যকর ছিলো যে, ইউরোপ আমেরিকার চরম বস্তুবাদী পরিবেশে থেকেও তাদের সেই চেতনা মুছে যেত না, যা তাদের মা প্রথমদিন থেকেই তাদের মন মগজে অঙ্কিত করে দিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা এখন পাশ্চাত্যের বস্তুবাদী সভ্যতায় নিজেদের সমর্পণ করে দিয়েছে।
এই অবস্থা থেকে নারী সমাজের নৈতিক পুনর্গঠনের জন্য যাবতীয় চেষ্টা সাধনা নারীদের মধ্য থেকে হওয়াই বাঞ্ছনীয়। এটা পুরুষের মাধ্যমে করা কঠিন। কেন না সাম্য থেকে একটি বিকৃতি দূর করার জন্য আরেক বিকৃতির পথে অগ্রসর হওয়ার অনুমতি ইসলাম প্রদান করে না। আর সবচেয়ে বড় সুবিধাজনক বিষয় হচ্ছে নারী সমাজের বিকৃতি হয় অজ্ঞতা, মূর্খতা, শিক্ষার কমতি এবং অন্যান্য কারণে। একটু মনোযোগ দিলে এই জায়গার পরিবর্তন আনা খুব বেশি কঠিন হবে না নিশ্চয়ই। তাছাড়া আমাদের তো গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস আর বর্তমান অভিজ্ঞতা আছেই।
মুসলিম মহিলারা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের এই দায়িত্ব উপলদ্ধি করে ত্যাগ ও কুরবানীর অনেক নজির স্থাপন করে গেছেন। আল্লাহর দ্বীনকে প্রতিষ্ঠা করতে যেয়ে হযরত খাদিজা (রা) তার সম্পদের সবটুকুই দিয়ে দিলেন। আল্লাহর রাসূল (সা) যে সমাজে প্রথম দাওয়াতের কাজ শুরু করেন সেই সমাজে দাওয়াত গ্রহণ করার অর্থ কি ছিলো তা সবাই জানত। অবর্ণনীয় বিপদ মুসিবতের এই সময়ে প্রথম সাক্ষ্যদানকারী হিসেবে সাড়া দেন খাদিজা (রা)। সাথে সাথে আল্লাহর রাসূলকে দেন অদৃশ্য সাহায্য লাভের আশ্বাস।
সুমাইয়া (রা) এর উপর নির্যাতনের পাহাড় ভেঙ্গে পড়লেও তিনি ছিলেন আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থাশীল। হযরত খানসা (রা) যুদ্ধের ময়দানে পুত্রদের ঠেলে দিয়েছিলেন শহীদ হওয়ার জন্য।
হযরত আসমা বিনতে আবু বকর এর কাহিনী আরো বিস্ময়কর। তিনি পুত্রকে বলেন, “তুমি জয়ী হয়ে ফিরে আসলে আনন্দিত হবো। কিন্তু তুমি আমার কোলে ফিরে না আসলেও আল্লাহর শোকর আদায় করবো।”
এভাবে শুধু নিজের জীবন দিয়ে নয়, প্রাণ প্রিয় কলিজার সন্তানকে গরম তেলের ডেকচিতে ভেজে ঈমানের সত্যতার প্রমাণ দিয়ে বাতিলের সামনে খাড়া মস্তিষ্কে বিবি আসিয়া (রা)।
হযরত সাফিয়া (রা) যুদ্ধের ময়দানে প্রাণাধিক প্রিয় ভাইয়ের লাশ দেখে মরিয়া হওয়ার পরিবর্তে মন্তব্য করেছিলেন: “আল্লাহর রাস্তায় এটা কোন বড় কোরবানী নয়।”
এই জয় মুসলিম নারীর ইতিহাস। যারা প্রকৃত ঈমানের স্বাদ পেয়েছেন তারা কখনোই একটা মুহূর্তের জন্য বাতিলের কাছে নিজেকে সপেঁ দিতে জানে না। তারা জানে বাতিলের মসনদকে ভেঙ্গে ফেলার জন্য দৃঢ় ঈমানী শক্তি নিয়ে ত্যাগ ও কুরবানীর নজরানা দিয়ে এগিয়ে গিয়ে প্রভুর সন্তুষ্টি কিভাবে অর্জন করতে হয়। আর এই সম্প্রদায় যতদিন পর্যন্ত না হযরত আসমা (রা) এর পদাঙ্ক অনুসরণ না করবে, ততদিন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের (রা) এর মত বীর সেনানী কিভাবে জন্ম নেবে?
ইসলামের জন্য শূলে আরোহণ রত ছেলেকে দেখেও যে মা বিন্দুমাত্র বিচলিত হয় না, বরং ছেলেকে অবিচল থাকতে বলেন।
ইসলামের সোনালী যুগের যুদ্ধ বিগ্রহে পুরুষেরা যেখানে তীর বর্শা নিক্ষেপ করে, তরবারি চালিয়ে যুদ্ধ করেছে, হতাহত হয়েছে, সেখানে নারীরা আহতদের পানি খাইয়েছে, ব্যান্ডেজ করেছে, এমনকি নিজের অর্থসম্পদ ও গহনাপাতি পর্যন্ত দিয়ে দ্বীনের সাহায্য করেছেন। যতই প্রিয় জিনিস হোক না কেন, এই পথে বাধা হয়ে দাঁড়ালে তারা সেই বাধা কে ছুঁড়ে ফেলে দিতো। প্রিয়তম স্বামীও বেদ্বীন হলে সে আমলের মুসলিম নারীদের চোখ বিকৃত হতো। যদি স্বামী ইসলামের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করতো, তৎক্ষণাৎ সে স্বামীর সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করতো।
আল্লাহর ভালোবাসা তাদের কাছে এতটাই প্রবল ছিল যে, তা পাহাড়সম শক্তি দিয়েও তাদের এই নরম হৃদয়ে এতটুকু আঁচও ফেলতে পারেনি।
যুদ্ধের ময়দানেও মহিলা মহাবীরদের ভূমিকা ছিল অনেক অবর্ণনীয়। উম্মে আম্মার (রা) এর শরীরে ওহুদ যুদ্ধের সময় কমপক্ষে ১২টি আঘাতের চিহ্ন ছিল। আল্লাহর মনোনীত জীবন বিধান দুনিয়ায় প্রতিষ্ঠিত করার জন্য হাসিমুখে সহ্য করেছিলেন শত্রুর তীর ও বর্শার আঘাত। ওহুদের ময়দানে মুসলিম  সৈন্যরা ওলট পালট হয়ে গেলেও তিনি ছিলেন দৃঢ়পদ। আল্লাহর রাসূল (সাঃ) তাকে দেখে বলেছিলেন, “হে বাইয়াত গ্রহণকারী! আল্লাহ তোমাকে বরকত দান করুন।”
এভাবে অসংখ্য মহিলা সাহাবীর অসীম আত্মত্যাগ ও দৃঢ়তা দিয়ে এই দ্বীন প্রতিষ্ঠিত রূপ পরিগ্রহ করেছে। মাওলানা মওদুদী (রা) বলেন, “যে খোদার দাসত্বের প্রতি ইসলামের আহ্বান জানায়, তিনি যেমন পুরুষের খোদা, তেমনি নারীরও খোদা।” এখানে পার্থক্য শুধু কর্মক্ষেত্র তাই এই দুই ধারাকেই এক হয়ে জীবন সংগ্রামে বিজয়ী হতে হবে।
মূলত ব্যক্তি ও সমাজ গঠনের দায়িত্ব রাষ্ট্রের হলেও নানা ক্ষেত্রে রাষ্ট্র যখন নিজেই নিজের স্বার্থ চর্চায় মৌলিক দায়িত্ব থেকে হাত গুটায় তখন ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার মত একটি অত্যাবশ্যকীয় বিষয়ে সমাজের অর্ধাঙ্গী হিসেবে গুরুত্ব সহকারে ভূমিকা রাখা কি অনস্বীকার্য নয়? যদি এমনও হয় যে দ্বীন প্রতিষ্ঠার দিকটা তুলনামূলক অনেক বেশি মনে হয়। তাহলে যে অধিকার আদায়ের জন্য এত ক্যানভাসে ভেসে যাচ্ছে এই নারী জাতি, সেই অধিকার কি অনৈসলামীক সমাজ প্রতিষ্ঠিত থাকলে লাভ করা সম্ভব? সেখানে তাকে সমস্ত ভোগ্য পণ্যের মাধ্যম করা হয়। অনেকেই মনে করেন এত মহামারী যেখানে চলছে সেখানে আসলে কি করে ইসলাম প্রতিষ্ঠা সম্ভব হতে পারে? হ্যাঁ এটা ঠিক যে সমাজে জীবনের প্রতিটি ছিদ্র পথই অনৈসলামিক ব্যবস্থায় পরিপূর্ণ, কিন্তু ভাববার বিষয় হচ্ছে কোন আক্রান্ত অংশে যদি ওষুধ সরবরাহ না করা হয়, তাহলে এটা খুব দ্রুত সংক্রামিত হওয়া কি স্বাভাবিক নয়?
আবার বাস্তবতাকেও উপেক্ষা করছি না যে, সমাজের এই অংশের চিকিৎসায় নেমে স্বাভাবিক পন্থায় সংস্কার হয়ে যাবে। বরং প্রকৃত ব্যাপার হচ্ছে এর বাস্তব নমুনা আমাদের কাছে আছে।
রাসূল (সা.) এর সময় শুধু অশ্লীলতা নয় বরং পশুবৃত্তিক  পৈশাচিক অধঃপতিত সেই সমাজ থেকেও সর্বোচ্চ তাকওয়াবান মানুষ  তৈরী হলো।  তৈরি হলো পৃথিবীর উন্নত শ্রেষ্ঠ পরিচয়সম্পন্ন মানুষ যাদের সততা, পবিত্রতা, বিশ্বস্ততার সমস্ত পৃথিবী তাদের কাছে মাথা নত করলো।
এখানে যদি কার্যকারণ কর্মতৎপরতার দিকে তাকাই তাহলে যে বিষয়টি একবাক্যে বলতে হয়, সেটি হলো উন্নত দক্ষ ও যোগ্য এক দল সংস্কারবাদীদের অকুতোভয়ী সম্মিলিত প্রয়াস।  এ রকম উভয়বাদী (নারী-পুরুষ) সংস্কারক না থাকলে সমাজ ব্যবস্থা পরিবর্তন করা কখনোই সম্ভব হতো না। তৈরি হতো না আসিয়া, সুমাইয়া আর বর্তমান জয়নাব আল গাজ্জালীর মত বিপ্লবী নারী।
সূরা নিসার ৭৭ নং আয়াতে এসেছে, “তোমরা কি তাদেরকেও দেখেছো যাদেরকে বলা হয়েছিলো তোমাদের হাত গুটিয়ে রাখো এবং নামায কায়েম করো যাকাত দাও। এখন তাদেরকে যুদ্ধের (জিহাদের) হুকুম দেয়ায় তাদের একটি দলের অবস্থা এই দাঁড়িয়েছে যে, তারা মানুষকে এমন ভয় করেছে যেমন আল্লাহকে ভয় করা উচিত অথবা তার চেয়েও বেশি।”
এ আয়াতের মাধ্যমেই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন খাঁটি ঈমানদার ও মুনাফিক শ্রেণীকে বাছাই করে নিলেন। তাই ঠান্ডা প্রকৃতির ইসলামী আন্দোলন নয় বরং উন্নত সংস্কারবাদী হিসেবে সমাজ পরিবর্তনের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে আল্লাহর উলুহিয়াত প্রতিষ্ঠার জন্য এগিয়ে যেতে হবে। অতীতেও ঠিক এভাবেই ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আর আজও এভাবেই এই দ্বীন বিজয়ী হবে ইনশাআল্লাহ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ