বৃহস্পতিবার ০২ জুলাই ২০২০
Online Edition

প্রিমিয়ার ক্রিকেটে আবাহনী প্রাইম দোলেশ্বর ও রূপগঞ্জের জয়

স্পোর্টস রিপোর্টার : প্রিমিয়ার ক্রিকেট  লিগে জয় পেয়েছে আবাহনী, প্রাইম দোলেশ্বর ও লিজেন্ড অব রুপগঞ্জ। আবাহনী ৭ উইকেটে হারায় পারটেক্স স্পোটিং ক্লাবকে। প্রাইম দোলেশ্বর ৪ উইকেটে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে আর রুপগঞ্জ ৬৮ রানে শেখ জামালকে হারিয়ে জয় পেয়েছে। তিনটি দলেরই এটা টানা দ্বিতীয় জয়। গতকাল রুপগঞ্জের পক্ষে সেঞ্চুরি করেছেন মুশফিকুর রহিম আর নাঈম ইসলাম। আর আবাহনীর পক্ষে সেঞ্চুরি করেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে জয় পেয়েছে আবাহনী। আবাহনী ৭ উইকেটে হারিয়েছে পারটেক্স স্পোটিং ক্লাবকে। এটি আবাহনীর টানা দ্বিতীয় জয়। দলের জয়ের নায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। পারটেক্স স্পোর্টিং ক্লাবের ছুড়ে দেওয়া ২৩৫ রানের লক্ষ্যে সহজেই পৌঁছে গেছে আবাহনী। নাজমুল করেছেন সেঞ্চুরি, আর টানা হাফসেঞ্চুরিতে ফর্মের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন আবাহনীর অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। মাত্র ৩৮.৩ ওভারে ৩ উইকেটে ২৩৭ রান করে বিজয়ী আবাহনী। আগে ব্যাট করে পারটেক্স ৫০ ওভারে করেছিল ৭ উইকেটে ২৩৪ রান। টস জিতে ব্যাট করতে নামে পারটেক্স। তাদের পক্ষে সবচেয়ে বড় অবদান জুবাইর আহমেদের। ৬৯ বল  খেলে ৫০ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। এছাড়া ওপেনার সাজ্জাদ হোসেন ৪৪ ও যশপাল সিং ৩৩ রান করেন। আবাহনীর মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও শুভাগত হোম দুটি করে উইকেট নেন। তবে আবাহনীর ৪৩ রানের মধ্যে ২ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে উত্তেজনা ফেরায় পারটেক্স। এর পর নাজমুল হোসেন ও মাহমুদউল্লাহর ১৫০ রানের জুটি। রাজিবুল ইসলামের বলে সাজ্জাদের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন আবাহনীর অধিনায়ক। ৫টি করে চার ও ছয়ে ৫২ বলে ৭৭ রান করেন মাহমুদউল্লাহ। এর আগে ম্যাচে খেলাঘরের বিপক্ষে ৫৯ রান করেছিলেন মাহমুদউল্লাহ। ম্যাচসেরা নাজমুল ১০৯ বলে ৫ চার ও ৪ ছয়ে ১০১ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয়ের বন্দরে নেন। মোসাদ্দেক অপরাজিত ছিলেন ২৩ রানে। পারটেক্সের শুধুমাত্র অধিনায়ক তারিক আহমেদ ও উইকেটরক্ষক ইরফান শুক্কুর বল করেননি। বাকি ৯ জনকে বোলিংয়ে পাঠিয়েও সুবিধা করতে পারেনি তারা।
ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে জয় পেয়েছে প্রাইম দোলেশ্বর। সানি-ইমতিয়াজের নৈপুণ্যে জিতেছে দোলেশ্বর। এটি দলটির টানা দ্বিতীয় জয়। ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের প্রথম ম্যাচে ৫ উইকেট নেওয়া আরাফাত সানি গতকাল ব্রাদার্স ইউনিয়নের বিপক্ষে নিয়েছেন ৪ উইকেট। তার বোলিং নৈপুণ্যে প্রাইম দোলেশ্বর  স্পোর্টিং ক্লাব টানা দ্বিতীয় ম্যাচ জিতেছে ৪ উইকেটে। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে দারুণ শুরু করেছিল ব্রাদার্স। মিজানুর রহমান ও জুনাইদ সিদ্দিকীর শতাধিক রানের জুটি বড় সংগ্রহের ইঙ্গিত দিচ্ছিল। সানির শেষদিকের স্পিন নৈপুণ্যে সেটা আর হয়নি।   দোলেশ্বরের এ স্পিনার তার শেষ ওভারে তিন উইকেট তুলে নেন। ১০ ওভারে সানি ৪৫ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন। ব্রাদার্স ৯ উইকেটে করে ২৪৬ রান। ব্রার্দাসের মিজানুর ৫৬ ও জুনাইদ ৮৭ রান করেন। মায়শুকুর রহমান ৪৭ রান করেন। ২৪৭ রানের লক্ষ্যটা সহজ করে দেন ওপেনার ইমতিয়াজ হোসেন। যদিও এক রানের আক্ষেপে পুড়তে হয়েছে তাকে। দোলেশ্বরের এ ব্যাটসম্যান যখন ৯৯ রানে আউট হন, তখন দলের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ২৩৫ রান। ইমতিয়াজের ১৪৩ বলের ইনিংসে রয়েছে ৯টি চার ও ২টি ছয়। ম্যাচসেরাও হয়েছেন তিনি। ৪৮.৩ ওভারে ৬ উইকেটে দোলেশ্বরকে ২৪৭ রান এনে দিতে আরও অবদান আছে আবদুল মাজিদ (৪৫) ও মার্শাল আইয়ুবের (৩৩)। মোহাম্মদ সাদ্দাম তিন উইকেট নেন।
বিকেএসপির চার নম্বর মাঠে জয় পেয়েছে লিজেন্ড অব রুপগঞ্জ। রুপগঞ্জ ৬৮ রানে হারিয়েছে শেখ জামাল ক্লাবকে। দলের পক্ষে মুশফিকুর রহিম আর নাঈম ইসলাম সেঞ্চুরি করেই দলকে জয়ী করেছেন। গতকাল মুখোমুখি হয়েছিল রূপগঞ্জ ও শেখ জামাল। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে বিপদের মুখোমুখি হয় রূপগঞ্জ। শাহাদাত হোসেন নিজের প্রথম দুই ওভারে হাসানুজ্জামান (০) ও আবু সায়েমকে (৫) সাজঘরে পাঠান। ওখানেই রূপগঞ্জের বিপদের  শেষ। মুশফিক ও নাঈমের সেঞ্চুরিতে দলটি করে ৫ উইকেটে ৩০৫ রান। রূপগঞ্জ অধিনায়ক মুশফিক ১৩৪ রান করেছেন সমান বল খেলে। মুশফিকের দুর্দান্ত ইনিংস সাজানো ১৪টি চার ও একটি ছয়ে। নাঈমের সঙ্গে ২২৫ রানের জুটি গড়ার পর আবদুর রাজ্জাকের স্পিনে মাঠ ছাড়েন টেস্ট অধিনায়ক। ম্যাচের সেরা মুশফিকের দলেই  খেলছেন জাতীয় দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি মুর্তজা। রাজ্জাকের দ্বিতীয় শিকার হওয়ার আগে ১১ বলে দুটি ছয়ে ১৭ রান করেন তিনি। মুশফিক ছাড়াও দলের পক্ষে সেঞ্চুরি করেছেন নাঈম ইসলাম। নাঈমের ১০৩ রানের ইনিংস ছিল ১১৮ বলের,  যেখানে ৭টি চার ও একটি ছয়ের মার ছিল। বল হাতেও তিনি নেন ২টি উইকেট। জামালের পক্ষে দুটি করে উইকেট  নেন শাহাদাত ও রাজ্জাক। তিনশ’র উপরে লক্ষ্যে  নেমে জামালের ব্যাটসম্যানদের ছোটখাটো অবদান উপকারে আসেনি। ইনিংস সেরা ৪২ রান করেন জিয়াউর রহমান। ত্রিশের উপর আর আছে দুটি ইনিংস- মাহবুবুল করিম (৩৬) ও ফজলে মাহমুদের (৩৩)। মূলত রূপগঞ্জের বোলাররা মুশফিক-নাঈমের  সেঞ্চুরিকে বৃথা হতে দেননি। নাঈমের সমান ২টি করে উইকেট নেন মোহাম্মদ শরীফ, মোশাররফ হোসেন ও আসিফ হাসান। আগের ম্যাচে ব্রাদার্সকে ৪ উইকেটে হারিয়েছিল রূপগঞ্জ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ