বৃহস্পতিবার ০২ জুলাই ২০২০
Online Edition

চুয়াডাঙ্গায় ৬৮ হেক্টর জমিতে ব্লাস্ট রোগ ॥ কৃষকরা বিপাকে

চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা: চুয়াডাঙ্গা জেলায় চলতি বোরো মওসুমে ধানের আবাদ হয়েছে সাড়ে ৩৩ হাজার হেক্টর। ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিলো ১ লাখ ২৬ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ৬৮ হেক্টর জমিতে ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়েছে বলে জেলা  কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানালেও এর প্রকৃত পরিমান অনেক বেশি হবে বলে ধঅরনা করা হচ্ছে। পূর্ব প্রস্তুতি না থাকায় হঠাৎ করে শীষ ধানে ব্লাস্ট রোগ লাগায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা। বিভিন্ন ওষুধ ব্যবহার করেও কোন ফল হচ্ছে না বলে অনেক চাষি জানিয়েছে। আবার এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু কীটনাশক ওষুধ কো¤পানি তাদের স্বার্থ উদ্ধারের চেষ্টা করছে। চলতি বছর গমেও ব্লাস্ট রোগ দেখা দিয়েছিল। সতেজ সবল গমের গাছ হলেও শীষ শুকিয়ে যায়। গম চাষ করে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিবারের সদস্যদের জন্য বছরের খাবার মজুত করার জন্য বোরো ধান চাষে ঝুঁকে পড়ে। চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, চলতি বছর জেলাতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৩ হাজার ৩৯৫ হেক্টর জমি। আর ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিলো হেক্টর প্রতি ৩.৮ মেট্রিক টন। সে হিসাবে ১ লাখ ২৬ হাজার ৯০৩ মেট্রিক টন। কিন্তু চাষ হয়েছে ৩৩ হাজার ৫৪৮ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রার চাইতে ১৫৩ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ বেশি হয়েছে। গত বছর জেলাতে ধান চাষ হয়েছিলো ২৬ হাজার ৪৬৫ হেক্টর জমি। গত বছরের তুলনায় এ বছর বোরো ধানের চাষ বেশি হয়েছে ৭ হাজার ৮৩ হেক্টর জমি। গমের আবাদ মার খাওয়ায় বোরোধানের চাষ লক্ষ্যমাত্রার চাইতে অনেক বেশি হয়েছে। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ৫ হাজার ৩৯০ হেক্টর, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ১২ হাজার ৪২৫ হেক্টর, দামুড়–হুদা উপজেলায় ৮ হাজার ৫৩৩ হেক্টর, জীবননগর উপজেলায় ৭ হাজার ২শ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। হঠাৎ করে আবহাওয়াজনিত কারণে নেক ব্লাস্ট রোগ ৬৮ হেক্টর জমিতে আক্রান্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর জানিয়েছে। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ৪০ হেক্টর আলমডাঙ্গা উপজেলায় ১৪ হেক্টর, দামুড়হুদা উপজেলায় ১০ হেক্টর, জীবননগর উপজেলায় ৪ হেক্টর বোর ধানের জমিতে ব্লাস্ট আক্রান্ত হয়েছে। ব্লাস্ট আক্রান্ত জমির পরিমাণ ৬৮ হেক্টর জমি নিরূপন করা হলেও এর পরিমান অনেক বেশি হবে বলে চাষি মহল মনে করছে। ফলে লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেক দূরে থাকতে হবে হিসাব-নিকাশকারীদের।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ