শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

বৈষম্য ও বিদ্বেষের সভ্যতা

ইতিহাসের এতগুলো বছর পাড়ি দিয়ে মানব-সভ্যতা এখন কোথায় এসে দাঁড়ালো? বিজ্ঞান-প্রযুক্তির ঝলমলে এই সভ্যতায় আমরা কথাও বলি চমৎকার। কথা বলার সময় মনে হয়Ñ মানুষ নয়, সবাই যেন ফেরেশতা! যে দেশ যত বড় তার কথাও তত বড়। যে মানুষ যত বড় নেতা, তার বাক্য বিন্যাস তত চমৎকার। তবে বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, কথামালার এসব সৌরভ কিন্তু সভ্যতার শাসকদের আচরণে লক্ষ্য করা যায় না। তাহলে সবই কি অভিনয়? আসলে কথামালার রাজনীতির সাথে বর্তমান সময়ে আচরণের যে পার্থক্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে তাতে মনে হয় বিশ্ব রাজনীতি যেন এক রঙ্গমঞ্চ, আর রাজনীতিবিদরা শুধুই অভিনেতা-অভিনেত্রী। প্রহসনের এমন রাজনীতি কিংবা সভ্যতা মানব জাতি এর আগে কখনও লক্ষ্য করেনি।
বর্তমান সভ্যতার এক অবাক উদাহরণ লক্ষ্য করা গেল ইতালিতে। ইতালির রোমে বিমানবন্দরে লন্ডনের ফ্লাইট ধরতে এসে নিরাপত্তা কর্মীদের জবরদস্তিতে হিজাব খুলতে বাধ্য হলেন এক মুসলিম নারী। বিমান বন্দরে বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হওয়া ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক আজনিয়া আজকিয়া। তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, মুসলমান হওয়ার কারণেই তার সাথে এমন বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে। কারণ একই ফ্লাইটে খ্রীস্টান নানদের মাথার কাপড়ের ব্যাপারে কোন প্রশ্ন উত্থাপন করেনি নিরাপত্তা বাহিনী। উল্লেখ্য যে, ঘটনার সময় তিনি একটি ভিডিও ধারণে সক্ষম হয়েছিলেন। সেখানে দেখা যায়, রাষ্ট্রীয় আইনে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় হিজাব খোলার বাধ্যবাধকতা কোথায় আছে তা কড়া ভাষায় নিরাপত্তা কর্মীদের কাছে জিজ্ঞাসা করছেন আজনিয়া আজকিয়া। তখন সেখানে উপস্থিত সকল নারী নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে বলেন, ‘তুমি নিরাপদ নও, তোমার চুলের ভেতর কিছু লুকিয়ে রাখতে পার। যদি তুমি এটা না খুলে রাখ আমরা বুঝতে পারব না এটার ভেতর কিছু লুকিয়ে রেখেছ কিনা।’ আজনিয়া তখন আলাদা কোন রুমে গিয়ে হিজাব খুলে তল্লাশির প্রস্তাব দেয় নিরাপত্তা কর্মীদের। ‘মুসলিম’ উল্লেখ করে তার এই প্রস্তাবে আপত্তি তোলা হয়, তাকে মূলত অন্যায়ভাবে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়।
এক্সপ্রেস ট্রিবিউনে প্রকাশিত এই খবরটি বিশ্লেষণ করলে বর্তমান সভ্যতার একটি চিত্র বেশ ভালভাবেই উপলব্ধি করা যায়। মুখে মুখে উদারতা, অসাম্প্রদায়িকতা, ন্যায় ও মানবতার কথা যতো উচ্চ কণ্ঠেই উচ্চারণ করা হোক না কেন পাশ্চাত্যের মানসিকতায় আসলে বড় ধরনের সংকট বিরাজ করছে। সেই সংকটের কারণেই তারা মুসলমানদের সাথে ভুল আচরণ করছে। নানা ক্ষেত্রে তাদের ভ্রষ্ট আচরণের কারণেই বর্তমান বিশ্বে সংকটের মাত্রা বাড়ছে। বর্তমান সময়ে বিশ্বে সন্ত্রাসবাদের যে নাটক মঞ্চস্থ হচ্ছে তার নাট্যকার এবং পরিচালকও তারা। এই সত্য তো এখন বেশ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অভিনয়ের বদলে এখন তো তারা ‘ন্যায়ের সভ্যতা’ ধারণ করতে পারেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ