শনিবার ১১ জুলাই ২০২০
Online Edition

কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলীতে স্বাধীনতাকামী যুবক নিহত ॥ আহত ৬০ শিক্ষার্থী

এপ্রিল ১৬, আলজাজিরা/জিও নিউজ উর্দু/পার্স টুডে/আনাদুলো : নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষুব্ধদের মধ্যে সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনায় আবারও অশান্ত হয়ে উঠেছে ভারত অধিকৃত কাশ্মীর। গত শনিবার শ্রীনগরের বাতামালু এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলীতে এক কিশোর নিহত হয়। এই ঘটনার জেরে থমথমে হয়ে পড়েছে শ্রীনগর। বন্ধ রাখা হয়েছে দোকান-পাট। একইদিন পুলওয়ামাতে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হয় আরও অন্তত ৫০ জন কলেজ শিক্ষার্থী। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম খবরটি জানিয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, গত শনিবার বাতামালু এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সাঁজোয়া যান লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়। সেসময় ক্ষুব্ধ হয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা গুলী করলে সাজাদ হুসেইন শেখ নামের ১৭ বছর বয়সী ওই কিশোর মাথায় গুলীবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। তাহির আহমদ নামে এক স্থানীয় বার্তা সংস্থা হানায়, ‘ওই এলাকা দিয়ে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর দুটি গাড়ি যাচ্ছিল। কয়েকজন তরুণ ওই গাড়ি লক্ষ্য করে পাথর ছুড়ে মারে। তখনই একটি বুলেট এসে সাজাদের মাথায় আঘাত করে।’এদিকে ভারতীয় পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, কোন পরিস্থিতিতে সাজাদ হুসেইন শেখ নামের ওই ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়েছে সে ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।’এর আগে একইদিন পুলওয়ামাতেও নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। স্থানীয় একটি কলেজের বাইরে চেকপোস্টের বিরোধিতা করে পাথর ছুড়তে শুরু করেন বিক্ষুব্ধরা। সেসময় শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ প্যালেট ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়লে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়। এদিকে ওই ঘটনার প্রতিবাদে আন্দোলনকারী যৌথ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে গতকাল রোববার বনধের ডাক দেয়া হয়েছে।
হুররিয়াত প্রধান সাইয়্যেদ আলী শাহ গিলানি, মীরওয়াইজ ওমর ফারুক এবং মুহাম্মদ ইয়াসিন মালিকের পক্ষ থেকে ওই হত্যার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘পাশবিক, বর্বর এবং কাশ্মীরীদের আওয়াজ বন্ধ করার প্রচেষ্টা’ বলে মন্তব্য করা হয়েছে।  
পুলিশের আইজি এস জে এম গিলানি অবশ্য ওই যুবক নিহত হওয়ার নেপথ্যে নিরাপত্তারক্ষীদের কোনো হাত নেই বলে দাবি করেছেন।
শ্রীনগরের সিনিয়র পুলিশ সুপার ইমতিয়াজ ইসমাইল বলেছেন, কীভাবে ওই যুবক নিহত হলেন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি এবং এখনো পর্যন্ত কোনো অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তাবাহিনী মোতায়েন ছিল না বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।  ওই ঘটনার প্রতিবাদে এলাকায় তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এমনকি মসজিদ থেকেও স্লোগান দেয়া হয়।
এসএমএসএইচ হাসপাতালের সুপার ডা. নাজির চৌধুরি বলেন, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই ওই যুবকের মৃত্যু হয়। 
অন্যদিকে, শনিবার পুলওয়ামাতে স্থানীয় একটি কলেজের বাইরে চেকপোস্ট স্থাপনকে কেন্দ্র করে ছাত্র-ছাত্রী এবং নিরাপত্তারক্ষীদের মধ্যে সংঘর্ষে প্রায় ৬০ শিক্ষার্থী আহত  হন। ছাত্ররা নিরাপতা বাহিনীকে লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়লে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নিরাপত্তা বাহিনী এ সময় পেলেট গানের ছররা গুলী এবং কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটালে তারা আহত হন। পুলওয়ামার মুখ্য স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তালাত জাবীন জেলা হাসপাতালে ৫৪ জন ছাত্রের চিকিৎসার কথা বলেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ