ঢাকা, মঙ্গলবার 22 September 2020, ৭ আশ্বিন ১৪২৭, ৪ সফর ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

আজ তুরস্কে ঐতিহাসিক গণভোট

অনলাইন ডেস্ক: আজ রোববার তুরস্কে প্রেসিডেন্ট পদ্ধতির শাসনব্যবস্থা প্রবর্তনের লক্ষে ঐতিহাসিক গণভোট।রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা হুমকি মোকাবেলা করে দেশটির শান্তি, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামরিক শাসনের ঝুঁকি স্থায়ীভাবে মোকাবেলা সহ তুরস্ককে আবার বিশ্বের নেতৃত্বের আসনে নিয়ে যাওয়ার লক্ষে প্রস্তাবিত সংবিধান অনুমোদনের জন্য জনগণের মতামত যাচাই করতে এই গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।গণভোটের রায়ে সংবিধান অনুমোদনের প্রস্তাব পাস হলে দেশটিতে চালু হবে পূর্ণ প্রেসিডেন্টশাসিত সরকার ব্যবস্থা। এতে নির্বাহী ক্ষমতার একচ্ছত্র মালিক হবেন প্রেসিডেন্ট। থাকবে না প্রধানমন্ত্রীর কোনো পদ। তবে ভাইস প্রেসিডেন্টের পদ তৈরি করা হবে। ফলে ‘হ্যাঁ’ ভোট জিতলে ১৯২৩ সালে প্রজাতন্ত্র ঘোষণার পর এই প্রথম তুরস্কের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আসবে।

তুরস্কের অধিকাংশ জনগণ এই সংশোধনির পক্ষে। কেননা সাম্প্রতিক সামরিক অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা ঠেকাতে প্রেসিডেন্ট এরদোগানের ডাকে জনগণ ব্যাপকভাবে রাস্তায় নেমে এসেছিলেন এবং অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা সফলভাবে রুখে দিয়েছিলেন। ক্ষমতাসীন জাস্টিস এন্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একেপি)  সহ কয়েকটি বিরোধী দলও প্রস্তাবিত সংবিধান সংশোধনির পক্ষে।এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো তুর্কি কট্টর ডানপন্থী দল ন্যাশনালিস্ট অ্যাকশন পার্টি (এমএইচপি)।

মতামত জরিপে দেখা গেছে, অল্প ভোটে ব্যবধানে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হবে।

দেশজুড়ে এক লাখ ৬৭ হাজার ১৪০টি ভোট কেন্দ্রে পাঁচ কোটি ৫০ লাখ ভোটার নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।

দেশটির পূর্বাঞ্চলে স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়, দেশের বাদবাকী অংশে স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। উভয় জায়গায় বিকাল ৫টায় ভোট গ্রহণ শেষ হবে।

দেশটির প্রবাসী নাগরিকদের ভোট ইতোমধ্যেই গ্রহণ করা হয়েছে। 

‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণাকারীদের মতে, তুরস্ককে আরও স্থিতিশীল এবং নিরাপদ করতেই সংবিধানের প্রস্তাবিত পরিবর্তন দরকার। তবে বিরোধীরা মনে করছেন, সংবিধানের প্রস্তাবিত সংশোধনী তুরস্ককে একনায়কতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নিয়ে যাবে। এতে দেশটির গণতান্ত্রিক ভাবধারা ক্ষুণ্ন হবে। সংবিধান সংশোধন হলে ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে পারবেন এরদোগান। তুরস্কের সংবিধান সংশোধনের পক্ষে রয়েছে ক্ষমতাসীন দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একেপি) এবং তুর্কি কট্টর ডানপন্থী দল ন্যাশনালিস্ট অ্যাকশন পার্টি (এমএইচপি)। এর আগে ইস্তাম্বুলে এক সমাবেশে এরদোগান বলেন, ‘এ গণভোট প্রয়োজন, কারণ শুধু ১৫ শতাংশ ভোট পেয়ে যাতে আর কেউ তুরস্কের রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসতে না পারে।’ 

তবে পশ্চিমা শক্তি এবং দেশের কয়েকটি বামপন্থি দল প্রবলভাবে চেষ্টা করেছেন এটা ঠেকানোর জন্য।পার্লামন্টে এ নিয়ে বিতর্কের সময় এমপিদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়েছে। একজন সরকারপন্থী এমপি অভিযোগ করেছেন, এক বিরোধী এমপি তার পায়ে কামড় দিয়েছেন। ফুলের টব ছুঁড়ে মারা হয়েছে। মাইক্রোফোন চুরি করে তা 'অস্ত্র হিসেবে' ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে।

আর সংবিধান সংশোধনের পক্ষে এরদোগান প্রশাসনকে প্রচারণা চালাতে দেয়নি নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, অস্ট্রিয়া ও সুইজারল্যান্ড সরকার। এতে ইউরোপের ওপর চটেছেন এরদোগান। নেদারল্যান্ডস ও জার্মানিকে ‘নাৎসিদের অবশিষ্টাংশ এবং ফ্যাসিবাদী’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

ডি.স/আ.হু

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ