মঙ্গলবার ০২ জুন ২০২০
Online Edition

উখিয়া-টেকনাফের ৮০ কিলোমিটার উপকূলে চলছে পোনা নিধন

উখিয়ার উপকূলে চোয়াংখালী এলাকায় রোহিঙ্গা ছেলেমেয়েরা পোনা মাছ ধরছে

উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদদাতা: কক্সবাজারের কলাতলী থেকে টেকনাফ পর্যন্ত প্রায় ৮০ কিলোমিটার উপকূলীয় এলাকায় চিংড়ি পোনা আহরণের নামে বিভিন্ন প্রজাতির পোনা নিধন করা হচ্ছে। ফলে প্রতিনিয়ত মারা পড়ছে অসংখ্য বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা। জেলেদের অভিযোগ, পোনা মারা পড়ার কারণে সাগরে মাছের বংশবিস্তারে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। যে কারণে মাছের আকাল দেখা দিয়েছে। আমিষ জাতীয় পণ্যের প্রভাব পড়ছে হাটবাজার গুলোতে।
জানা গেছে, কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ৮০ কিঃমিঃ উপকূলীয় এলাকার প্রায় ৫০ হাজারেরও অধিক রোহিঙ্গা নাগরিক ঝাউ বাগানের আনাচে, কানাচে ঝুপড়ি বেঁধে অবৈধ বসবাস করছে।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, এসব রোহিঙ্গারা ঝাউ গাছ কেটে বিক্রি করছে এবং তাদের ছেলেমেয়েরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপকূলে কারেন্ট জাল দিয়ে পোনা ধরে বিক্রি করছে। গত সোমবার সকালে উপকূলের চোয়াংখালী, ছেপটখালী, মোঃ শফির বিল, ইনানী, মাদারবনিয়া ও মনখালী ঘুরে দেখা যায়, সাগর তীরে অসংখ্য বাঁশ ও গাছের খুঁটি পুঁতে রাখা হয়েছে।
জানতে চাওয়া হলে স্থানীয় ফিশিং বোটের শ্রমিক আশরাফ আলী (রোহিঙ্গা নাগরিক) জানান, এসব খুঁটির সাথে কারেন্ট জাল বেধে রাখা হয়। জোয়ার ভাটা হলে এসব জালে আটকা পড়ে যায় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা। সেখান থেকে চিংড়ি পোনাগুলো পৃথক করে বাদ বাকী মাছের পোনাগুলো ফেলে দেওয়া হয়।
এ সময় উপকূলীয় এলাকায় কারেন্ট জাল নিয়ে ঘুরাঘুরি করছে এমন কয়েকজন ছেলেমেয়ে জানায়, তারা পোনা ধরে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। তাদের মত আরো অসংখ্য ছেলেমেয়ে সাগরের উপকূলীয় এলাকায় নিয়মিত পোনা ধরার কথা স্বীকার করে ৭ বছর বয়সী আছিয়া খাতুন জানান, তারা ভাইবোন ৩ জনেই দৈনিক ৪/৫ শত টাকা পোনা বিক্রি করে পায়। তা দিয়ে তাদের সংসার চলে।
জেলা প্রশাসক মোঃ আলী হোসেনের নির্দেশে টেকনাফ উপকূলীয় এলাকার ঝাউবাগানে অবৈধ বসবাসরত বেশ কিছু স্থাপনা উচ্ছেদ করলেও উখিয়ার মনখালী থেকে সোনারপাড়া পর্যন্ত উপকূলের ঝাউবাগানে বসবাসরত পরিবারদের উচ্ছেদ করা হয়নি। সম্প্রতি উচ্ছেদ কার্যক্রমের যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলেও এসব অবৈধ বসবাসকারীদের মানববন্ধন ও পথসভার কারণে উচ্ছেদ কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। যার ফলে সাগর উপকূলে পোনা আহরণ ও সাগরে জাটকা নিধন বন্ধ করা যাচ্ছে না।
স্থানীয় ইনানীর আ’লীগ নেতা লিয়াকত আলী বাবুল জানান, পোনা ব্যবসায়ীরা সাগরের উপকূলে আড়ৎ বেঁধে চিংড়ি পোনা ক্রয় করছে। তাদের এজেন্ট বা তাদের নিয়োগকৃত লোকজন সাগরে উপকূলে অপেক্ষমান থাকে কখন পোনা নিধনকারী ছেলে মেয়েরা চিংড়ি পোনা নিয়ে আসবে। এসময় ঝাউ গাছের নিচে অপেক্ষমান পাতিল নিয়ে বসা দুইজন পোনা ব্যবসায়ী রুস্তম আলী ও ইয়াকুব আলীর সাথে কথা হলে তারা জানায়, তারা একেকটি চিংড়ি পোনা এক টাকা দরে ক্রয় করে তা আড়তে বিক্রি করেন।
সোনারপাড়ার পোনার আড়তদার মমতাজ উদ্দিন জানায়, সাগরের পোনা হ্যাচারীর উৎপাদিত চিংড়ি পোনা থেকে অধিকতর গুনগত মান সম্পন্ন হওয়ার কারণে সাগর উপকূল থেকে আহরিত চিংড়ি পোনার কদর বেশী।
এসব পোনা সাতক্ষীরা সহ বিভিন্ন স্থানে চালান হয়ে থাকে। কারেন্ট জাল ব্যবহার করে মাছের পোনা ধরার ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে মৎস্য অফিসার কে.এম. শাহরিয়ার নজরুল জানান, কোস্ট গার্ডের সহায়তায় উপজেলা মৎস্য বিভাগ বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে প্রায় কয়েক লক্ষ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করে আগুনে পুড়িয়ে ফেলেছে। তিনি বলেন, লোকবল সংকটের কারণে নিয়মিত অভিযান চালাতে না পারলেও উখিয়ার উপকুলে কারেন্ট জাল ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়ার মনমানসিকতা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ