মঙ্গলবার ০২ জুন ২০২০
Online Edition

ভবদহ’র স্লুইস গেটের কপাট খুলে দেয়ায় পাউবো’র বেড়িবাঁধে ফাটল

যশোর-খুলনা জেলার ২৭ বিলের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র প্রবাহ পথ ভবদহ স্লুইচ গেটের কপাট খুলে দেয়ায় জোয়ারের পানির চাপে বিলকেদেরিয়া সংলগ্ন বেড়ি বাঁধে ফাটল ধরেছে

মণিরামপুর (যশোর) সংবাদদাতাঃ যশোর জেলার মণিরামপুর, কেশবপুর ও অভয়নগর উপজেলা এবং খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার লাখো মানুষের মরণফাঁদ ভবদহ এলাকার ২৭ বিলের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ ভবদহ স্লুইচ গেটের কপাট খুলে দেয়ায় জোয়ারের পানিতে টেকা-মুক্তেশ্বরী নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে ওই নদী ও বিল কেদারিয়া সংলগ্ন পাউবো’র (পানি উন্নয়ন বোর্ড) নির্মিত বেড়িবাঁধে ফাটল দেখা দেয়ায় তা চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। অব্যাহতভাবে পানির চাপ বৃদ্ধি পেতে থাকলে যে কোন সময় মণিরামপুর, কেশবপুর ও অভয়নগর উপজেলার প্রায় অর্ধশত গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশংকা করছে এলাকাবাসি। দ্রুত বেড়িবাঁধ সংস্কার করা না হলে কপাট বন্ধের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পাউবো’র দাবি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ভবদহ সংলগ্ন নদী ও খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে কপাট খুলে দেয়া হয়েছে।
জানাযায়, টেকা-মুক্তেশ্বরী নদী সংলগ্ন ভবদহ স্লুইচ গেট হতে মণিরামপুর উপজেলার ঢাকুরিয়া পর্যন্ত পাউবো’র নির্মিত ২৮.২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এরমধ্যে মণিরামপুর উপজেলার টেকেরহাট ব্রীজ হতে ২৪.৭ কিলোমিটারের অনেক জায়গায় সংস্কারের অভাবে বেড়িবাঁধ সরু হয়ে ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
সরেজমিন গেলে দেখা যায়, জোয়ারের পানিতে টেকা-মুক্তেশ্বরী নদীর পানি ওই  নদী ও বিল কেদেরিয়া সংলগ্ন পাউবো নির্মিত বেড়িবাঁধ উপচে পড়ার উপক্রম হয়েছে। বাঁধ সংলগ্ন নদীর পানি ও বিলের প্রায় ৬ থেকে ৭ ফুট উঁচু-নিচু রয়েছে।
ইতোমধ্যে পানির চাপে বাঁধের কয়েক জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। ফাঁঁটল রোধে স্বেচ্ছাশ্রমে মাটি ও পলিথিন দিয়ে কোনরকম সামাল দেয়ার চেষ্টা করছে এলাকাবাসি। এসময় উপস্থিত স্থানীয় লাভলু সরদার, ইসলাম, দীনেশসহ অনেকেই বলেন, ভবদহ স্লুইচ গেটের কপাট খুলে দেয়ায় জোয়ারের পানির চাপে এমনটি হয়েছে।
এভাবে পানির চাপ বৃদ্ধি পেলে বাঁধ ধ্বসে মণিরামপুরের বালিধা, পাঁচাকড়ি, নেহালপুর. কুলটিয়া, মশিয়াহাটি, মহিষদিয়া, হাটগাছা, সুজাতপুর, পোড়াডাঙ্গা, পদ্মনাথপুর, বাজেকুলটিয়া, আলীপুর ও অভয়নগর উপজেলার দিঘলিয়া, কোটা, বারান্দি, আড়পাড়া, আন্ধা, ডুমুরতলা ও কেশবপুর উপজেলার কয়েকটি গ্রামসহ প্রায় অর্ধশত গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশংকা করছে এলাকাবাসি। যে কারণে চরম মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। তাদের দাবি দ্রুত বাঁধ সংস্কার করতে হবে- তা না হলে ভবদহ স্লুইচ গেটের কপাট বন্ধ করতে হবে।
নেহালপুর ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুস সা’দত বলেন, স্লুইচ গেটের বেড়িবাঁধ সংস্কার করা না হলে বাঁধ ধসে বিল কেদেরিয়া সংলগ্ন গ্রামগুলি প্লাবিত হয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়বে এলাকাবাসি। স্থানীয় সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য্য বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির আহবায়ক রণজিৎ বাওয়ালি বলেন, ভবদহ স্লুইচ গেট সংলগ্ন নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে একটু কষ্ট মেনে নিতেই হবে। এ প্রসঙ্গে পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী বেড়ি বাঁধের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ভবদহ স্লুইচ গেটের ৩০ কপাটের মধ্যে ১৮ টি খুলে দেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, গত ১৬ মার্চ যশোরের ভবদহ সমস্যা নিয়ে এক সেমিনারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ