শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

কুমিল্লায় মাদরাসা ছাত্রীকে রাতভর গণধর্ষণ ॥ রাগে ক্ষোভে আত্মহত্যা

কুমিল্লা অফিস : কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা এলাকায় এক মাদরাসাছাত্রীকে রাতভর গণধর্ষণ করা হয়েছে। পরে এই শিক্ষার্থী রাগে-ক্ষোভে আত্মহত্যা করেছেন। আত্মহত্যার আগে তিনি বাবা মাকে উদ্দেশ্য করে একটি চিরকুট লিখে গেছেন। চিরকুটে তিনি লিখেছেন, ‘তিন হায়েনা মিলে আমাকে নির্যাতন করেছে তাই নিজেই আমি আমার জীবন শেষ করে দিলাম।’ এরপর গলায় ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করে মেয়েটি।
গত মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে জেলার মুরাদনগর উপজেলার নব গঠিত বাঙ্গরা বাজার থানাধীন সীমানারপাড় গ্রামে এ রোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে গতকাল বুধবার থানা পুলিশ ওই তরুণীর লাশ উদ্ধার করে দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য কুমেক হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে অভিযুক্ত তিন বখাটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার মুরাদনগর উপজেলার সীমানারপাড় গ্রামের আবুল কাশেমের কন্যা রুমি আক্তার সম্প্রতি দাখিল পরীক্ষা শেষে ফলাফলের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন। তার মা নাজমা আক্তার সাংবাদিকদের জানান, বেশ কিছুদিন যাবত এলাকার বাবু, সাকিব, আক্তার হোসেনসহ একদল বখাটে তার মেয়েকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিল।
পরিবারের ধারণা রাতে রুমি বাসার বাইরে বাথরুমে গেলে সেখানে ওৎপেতে থাকা তিন বখাটে তাকে উঠিয়ে নিয়ে বাড়ির পাশে ধর্ষণ করে। গতকাল বুধবার সকালে বাড়ির পাশের একটি গাছের সাথে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় রুমির ঝুলন্ত লাশ দেখে পুলিশে খবর দেয়া হয়। আত্মহত্যার আগে স্থানীয় ৩ যুবক তাকে পাশবিক নির্যাতন ও তার মৃত্যুর জন্য দায়ি বলে উল্লেখ করে একটি চিরকুট লিখে রেখে গেছেন রুমি।
এতে উল্লেখ করা হয় ‘বাবা আমার মৃত্যুর জন্য যারা দায়ি আপনি তাদের কাউকে ছাড় দেবেন না। মা-বাবা আমি বেঁচে থেকে জীবনে কেরিয়ার গঠন করবো বলে ইচ্ছা ছিল, কিন্তু আমার জীবনে তা আর হলো না, কারণ আক্তার, শাকিব ও বাবু এই ৩ জন মিলে আমাকে নির্যাতন করেছে। তাই আমি আমার নিজের জীবন নিজে শেষ করে দিয়েছি, যারা আমার মৃত্যুর জন্য দায়ি তাদের কাউকে ছাড়বেন না বাবা। ১১ তারিখ মঙ্গলবার রাতে আমি এই ৩ হায়েনার হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছি।’
এদিকে ধর্ষকরা এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয়রা এ বিষয়ে সরাসরি কেউ মিডিয়ায় বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার লোকজন জানান, ‘চিরকুটে লেখা ৩ বখাটে যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই ঘটনার প্রকৃত রহস্য বের করা সম্ভব হবে।’
রুমির মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন রুমির সহপাঠিরা। তারা জানান, মৃত্যুর আগে কেউ কোন দিন কারো বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা লিখে যায় না, চিরকুটে থাকা বখাটেদের আটক করলেই প্রকৃত রহস্য বেরিয়ে আসবে। এ বিষয়ে বিকালে বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি মনোয়ার হোসেন জানান, ‘তরুণীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমেকের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ভিকটিমের লিখে যাওয়া উদ্ধারকৃত চিরকুটে যেসব তথ্য রয়েছে তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।’
এদিকে ঘটনার পর থেকে ওই ৩ যুবক এলাকায় নেই বলেও ওসি দাবি করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ