শুক্রবার ০৭ আগস্ট ২০২০
Online Edition

শিক্ষার্থীদের টিফিনের জন্য প্রতিষ্ঠানে সরকারি বরাদ্দের দাবি শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের

গতকাল বুধবার নিজস্ব মিলনায়তনে শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোট আয়োজিত বৈশাখী ভাতা এমপিওভুক্ত ও শিক্ষক কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের টিফিনের ব্যবস্থা করতে সরকারি বরাদ্দ দাবি করেছে শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোট। মানসম্মত শিক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের ক্লাশমুখী রাখার জন্য সরকার থেকে টিফিনের ব্যবস্থা করার সুপারিশ করেছে সংগঠনটি। সংগঠনটি বলেছে, শিক্ষার্থীরা দিনের দীর্ঘ সময় বিদ্যালয়ে অবস্থান করায় ক্লান্ত হয়ে পড়ে। ২/৩ ক্লাস পরে তাদের ক্লাসে মনযোগ থাকে না। এ জন্য শিক্ষার্থীদের বিরতির সময় টিফিনের ব্যবস্থা করা জরুরী। বিরতির সময় পাশ্ববর্তী দেশ ভারতসহ বিশ্বের অনেক দেশেই সরকার থেকে শিক্ষার্থীদের টিফিনের জন্য প্রতিষ্ঠানে বরাদ্দ দেয়া হয়। শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের নেতারা বলেন, দেশের শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে সরকার থেকে শিক্ষার্থীদের টিফিনের জন্য প্রতিষ্ঠানে বরাদ্দ দেয়ার সময় এসেছে। এ ধরনের বরাদ্দ দেয়ার সক্ষমতা এখন বাংলাদেশের অর্থনীতির রয়েছে।
শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোট চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মোঃ সেলিম ভূঁইয়া গতকাল বুধবার বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বৈশাখী ভাতাসহ বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার পাশাপাশি এ দাবিও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমরা শুধু শিক্ষকদের কথাই বলছি না। আমাদের সন্তানতূল্য শিক্ষার্থীদের কথাও বিবেচনা করা সময় এসেছে। গতকাল দুপুরে শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের নয়া পল্টনস্থ অস্থায়ী কার্যালয়ে আহুত সংবাদ সম্মেলনে উপরোক্ত এ সব কথা বলেন ও দাবি জানান।
অধ্যক্ষ মোঃ সেলিম ভূঁইয়া, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য বৈশাখী ভাতা এবং তাদের চাকরি জাতীয়করনসহ নতুন পে-স্কেলের আলোকে ৫% বর্ধিত ভাতা, পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতার দাবি সমুঞের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলেন, সরকারি বেসরকারি স্কুল কলেজ ও মাদরাসায় শিক্ষক কর্মচারীরা সম-যোগ্যতা ও সম অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও উভয়ের মধ্যে বেতন স্কেলে পার্থক্য রয়েছে। অথচ সরকারি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের একই সিলেবাসে পাঠদান করা হয়। দেশের মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা ব্যবস্থার ৯০ শতাংশের বেশী পরিচালিত হয় বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো মাত্র ৮ ভাগের কিছু বেশী পরিচালনা করে থাকে। তা ছাড়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান ও ফলাফল সরকারি প্রতিষ্ঠানের চাইতে ভাল ও উন্নত। কিন্তু বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বৈষম্য ও অবহেলার শিকার।
সাংবাদিক সম্মেলনে অধ্যক্ষ মোঃ সেলিম ভূঁইয়া বলেন, বিশ্বমানের শিক্ষা ও মান সম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে বৈষম্য অবসান এবং ও শিক্ষার্থীদের দিকে নজর দিতে হবে। এ ব্যাপারে সরকারকে এখনই পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে এবং বাস্তবায়নে উদ্যোগী ও অগ্রণী ভূমিকা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। সেলিম ভূঁইয়া আরো বলেন, শিক্ষায় এ বিনিয়োগকে ভবিষ্যৎ-র বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে বাজেট বরাদ্দ আরো বাড়াতে হবে।
শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোট চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া বলেন, উপরোক্ত বিষয়গুলোকে বিবেচনায় নিয়ে সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় না হলে আগামী ৬ মে’র শিক্ষক প্রতিনিধি সমাবেশ থেকে দাবি আদায়ে কঠোর কর্মসূচী ঘোষনা ছাড়া শিক্ষকদের সামনে অন্য কোন বিকল্প থাকবে না।
সাংবাদিক সম্মেলনে জোটের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মোঃ জাকির হোসেন, মাওলানা দেলোয়ার হোসেন অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন, অধ্যাপক তোফাজ্জল হোসেন, অধ্যক্ষ সেলিম মিয়াসহ প্রমুখ শিক্ষক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ