শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

দুর্নীতির মামলায় খন্দকার মোশাররফ ও ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোপত্র অনুমোদন দুদকের

স্টাফ রিপোর্টার : মন্ত্রী থাকার সময় নীতিমালা ভঙ্গ করে ছেলের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেয়ার একটি মামলায় বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও তার ছেলেসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। খন্দকার মোশাররফ ছাড়া বাকি দুজন হচ্ছেন তার ছেলে খন্দকার মাহবুব হোসেন এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তৎকালীন লাইন ডিরেক্টর ডা. মো. মাহবুবুর রহমান। ২০০৮ সালে দুদকের এই মামলাটির অভিযোগপত্র গত সোমবার অনুমোদন দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন সংস্থার উপ-পরিচালক প্রণব কুমার ভট্টাচার্য।
মামলার তদন্ত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে কমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, ২০০৫ সালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী থাকাকালে খন্দকার মোশাররফ তার ব্যক্তিগত সহকারীর মাধ্যমে ছেলে খন্দকার মাহবুব হোসেনের মালিকানাধীন স্বজন ট্রাভেলন্স ইন্টারন্যাশনালকে ৩৬৪টি রিটার্ন বিমানের টিকেট সরবরাহের কাজ দিতে প্রভাব খাটিয়েছিলেন। তিনি বলেন, নীতিমালা ভঙ্গ করে খন্দকার মোশাররফ হোসেন তৎকালীন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইন ডিরেক্টর ডা. মো. মাহবুবুর রহমানকে দরপত্র আহ্বানে বাধ্য করেন এবং ছেলেকে ওই দরপত্রে অংশ নিতে বলেন। তার নির্দেশে ছেলের প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে মেসার্ম কম্বাইন্ড ট্রাভেলস ইন্টারন্যাশনাল ও গ্লোবাল ভিশন অ্যান্ড ট্রাভেলন্স লিমিটেড নামের দুইটি প্রতিষ্ঠানের নামে জাল কাগজপত্র  তৈরি করে দরপত্রে কার্যাদেশ চাওয়া হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে একটি কর্মসূচির আওতায় ২০০৫-০৬ অর্থবছরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণের জন্য বিদেশ ভ্রমণের অনুমোদন দেয়া হয়। বিশ্ব ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, কর্মকর্তা-কর্মচারী টিকেট কিনে চেকের মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে অর্থ গ্রহণ করার কথা ছিল। কিন্তু লাইন ডিরেক্টর মো. মাহবুবুর রহমান ওই নির্দেশনা ও পিপিআর ভঙ্গ করে রিটার্ন টিকেট কিনতে দরপত্র আহ্বান করেন। পরবর্তীতে সাজানো প্রক্রিয়ায় ১৪টি রুটের মধ্যে মেসার্স কম্বাইন্ড ট্রাভেলন্স ইন্টারন্যাশনালকে ১ থেকে ৭ নম্বর রুট ও খন্দকার মাহবুব হোসেনের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানকে ৮ থেকে ১৪ নম্বর রুটের টিকেটের কার্যাদেশ দেয়া হয়। এরপর খন্দকার মাহবুব হোসেন মেসার্স কম্বাইন্ড ট্রাভেলসের মালিক সোহরাব উদ্দিনকে দিয়ে জনতা ব্যাংকের তোপখানা শাখায় একটি হিসাব খোলেন, যার আবেদনপত্রে খন্দকার মাহবুব হোসেন স্বাক্ষর করেন বলে তদন্তে বেরিয়ে আসে।
তদন্তের সময় ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০০৬ সালের ২৩ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে টিকেটের জন্য কম্বাইন্ড ট্রাভেলসের ব্যাংক হিসাবে ৩১ লাখ ২৬ হাজার ৪০০ টাকা জমা দেয়া হয়। কিন্তু পরদিন সেই অর্থ খন্দকার মাহবুব হোসেনের স্বজন ট্রাভেলসের হিসাবে সরিয়ে নেয়া হয়। পরে ১৪ রুটে ৩৬৪টি টিকেট সরবরাহের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে দেয়া মোট এক কোটি ৭৬ লাখ ৪২১ হাজার ৫০৭ টাকার পুরোটাই খন্দকার মাহবুব হোসেন গ্রহণ করেন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। কিন্তু বিভিন্ন এয়ারলাইন্স থেকে সংগ্রহ করা তথ্য অনুযায়ী, সে সময় টিকেটের মূল্য হওয়ার কথা এক কোটি ২৭ লাখ ৩৩ হাজার ৬৯৯ টাকা। অবৈধভাবে কার্যাদেশ দেয়ার মাধ্যমে এতে সরকারের ৪৯ লাখ ৭ হাজার ৮০৮ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে তদন্তে পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় ২০০৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশান থানায় খন্দকার মোশাররফ হোসেন, তার ছেলে খন্দকার মাহবুব হোসেন ও মো. মাহবুবুর রহমানকে আসামী করে মামলা করেন দুদকের তৎকালীন উপ-সহকারী পরিচালক মো. লুৎফর রহমান। এরপর মামলার  বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আসামীরা হাই কোর্টে রিট করলে শুনানি শেষে রুল ও মামলার কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ দেয় আদালত। দীর্ঘদিন পর ২০১৬ সালের ১৮ জুলাই উচ্চ আদালত থেকে রুল খারিজ করে আদেশ দিলে মামলার কার্যক্রম ফের শুরু করে দুদক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ