সোমবার ১০ আগস্ট ২০২০
Online Edition

প্রিমিয়ার ক্রিকেটে আবাহনী রুপগঞ্জ ও প্রাইম দোলেশ্বরের জয়

স্পোর্টস রিপোর্টার : প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের প্রথম ম্যাচেই জয় পেয়েছে আবাহনী লিমিটেড, লিজেন্ডস অব রুপগঞ্জ, ও প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাব। মোসাদ্দেকের সেঞ্চুরিতে খেলাঘর সমাজ কল্যাণকে ৫ উইকেটে হারিয়ে জয় পেয়েছে আবাহনী। ব্রাদার্স ইউনিয়নকে ছয় উইকেটে হারিয়ে জয় পেয়েছে লিজেন্ডস অব রুপগঞ্জ আর পারটেক্স স্পোর্টিং ক্লাবকে ৭৮ রানে হারিয়েছে প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাব। আর লিগের প্রথম ম্যাচেই সেঞ্চূরি করেছেন মোসাদ্দেক হোসেন।
ফতুল্লায় অসাধারণ সেঞ্চুরি করে আবাহনীকে জেতালেন মোসাদ্দেক হোসেন। ৯২ থেকে টানা দুটি ছক্কায় সেঞ্চুরি করেন মোসাদ্দেক। এবারের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের প্রথম দিনে সেঞ্চুরি করেছেন  মোসাদ্দেক। তার সেঞ্চুরিতে খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সংস্থাকে ৫ উইকেট হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু করেছে আবাহনী লিমিটেড। গত ঢাকা লিগে আবাহনীর শিরোপা জয়ে বড় অবদান ছিল  মোসাদ্দেকের। এমনকি শেষ ম্যাচেও করেছিলেন ৭৪ বলে ৭৮। এবার শুরু করলেন যেন ঠিক সেখান থেকেই। উপহার দিলেন এবারের টুর্নামেন্টের প্রথম সেঞ্চুরি। ২৯৩ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়েছিল এবার প্রিমিয়ারে উঠে আসা খেলাঘর। শুরুতে হোঁচট খেলেও আবাহনীর রান তাড়া তীব্র গতিতে ছুটেছে মোসাদ্দেকের ব্যাটে। ৮৫ বলে করেছেন ১১০। ঘরোয়া ক্রিকেটে গত কবছরের নিয়মিত পারফরমার তিনি। এবার যোগ হয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও ভালো করে আসার আত্মবিশ্বাস। ব্যাট হাতে এদিন ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। ম্যাচ জয়ী জুটিতে মোসাদ্দেককে সঙ্গ দিয়েছেন আবাহনীর নতুন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। রান তাড়ায় প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় আবাহনী। ডলার মাহমুদ দ্বিতীয় বলেই বোল্ড করেন সাইফ হাসানকে। দ্বিতীয় উইকেটে ৮২ রানের জুটি গড়েন সাদমান হোসেন ও নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে থিতু হয়েও পরপর দুই ওভারে আউট হন দুই তরুণ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ৪৩ বলে ২৪ করে স্টাম্পড সাদমান। শান্ত করেছেন ৬২ বলে ৪৫। আবাহনীর রান তখন ৩ উইকেটে ৮৫। খেলাঘর তখন অঘটনের আশায়। কিন্তু আবাহনীর শঙ্কা দূর হয় মাহমুদউল্লাহ ও  মোসাদ্দেকের ব্যাটে। পঞ্চম উইকেটে ১২৪ বলে ১২৭ রানের জুটি গড়েন দুজন। ৫৯ রানে মাহমুদউল্লাহ ফেরার পর মোহাম্মদ মিঠুনকে নিয়ে বাকি কাজ সারেন মোসাদ্দেক। ৫১ বলে পঞ্চাশ ছুঁয়েছিলেন  মোসাদ্দেক। পরের পঞ্চাশ ২৮ বলেই। নাজমুস সাদাতকে টানা দুটি ছক্কায় ৭৯ বলে করেছেন সেঞ্চুরি, লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে যেটি তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। দু দলের রান যখন সমান, উড়িয়ে মেরে দলকে জেতাতে গিয়ে আউট হয়েছেন মোসাদ্দেক। পরের বলেই মিঠুনের বাউন্ডারিতে জয়। ২৭ বলে ৪২ রানে অপরাজিত ছিলেন মিুঠন। দুজনের জুটির রান ৪৯ বলে ৮১! সকালে খেলাঘরের হয়ে দুর্দান্ত খেলেন অধিনায়ক নাফিস ইকবাল। নিজের শততম লিস্ট ‘এ’ ম্যাচে অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান চার ছক্কায় ৭৮ করেছেন ৬৮ বলে! ওপেনার রবিউল ইসলাম রবি করেন ৭৯ বলে ৭৪। দ্বিতীয় উইকেটে দুজনের জুটি ১৩৩ বলে ১৪৯ রানের। আরেক অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান নাজিম উদ্দিন করেন ৩৭। শেষ দিকে মাসুম খান ২৮ বলে ৩১। প্রিমিয়ারে নিজেদের প্রথম দিনে খেলাঘর গড়ে তিনশ ছুঁইছুঁই স্কোর। দিন শেষে সব অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানরা ম্লান তরুণ মোসাদ্দেকের সেঞ্চুরিতে।
বিকেএসপি’র চার নাম্বার মাঠে মুশফিকুর রহিমের অধিনায়কোচিত ব্যাটিংয়ে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে ছয় উইকেটে হারিয়ে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেটের ২০১৬-১৭ মৌসুমের প্রথম ম্যাচে জয় পেয়েছে লিজেন্ডস অব রুপগঞ্জ। মুশফিকের অপরাজিত ৭৫ রানে ব্রাদার্সের দেয়া ২০৭ রানের লক্ষ্য রুপগঞ্জ  টপকেছে  চার উইকেটের বিনিময়ে ৪৬ ওভার এক বলে । দলের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩১ রানের ইনিংস খেলেছেন ওপেনার হাসানুজ্জামান। ব্রাদার্সের হয়ে বল হাতে নিহাদুজ্জামান, অভিষেক নায়ার দুইটি করে, আর ইফতেখার সাজ্জাদ রনি নিয়েছেন একটি উইকেট। গতকাল রুপগঞ্জের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে ব্রাদার্স ইউনিয়ন। তবে ব্যাটিংয়ে নামাটা তাদের মোটেও সুখকর হয়নি। মাশরাফি-শরীফদের বোলিং তোপে টপঅর্ডারের কোন ব্যাটসম্যানই দাঁড়াতে পারেনি। তবে অধিনায়ক মাইশিকুর রহমানের ৬৫ রানের দায়িত্বশীল এক ইনিংস ও ধীমান ঘোষের অপরাজিত ৩০ রানে নয় উইকেটে ২০৬ রানের স্বল্প সংগ্রহে গুটিয়ে যায় ব্রাদার্সের ইনিংস। বল হাতে রুপগঞ্জের হয়ে শুরুটা করেন মোহাম্মদ শরীফ ও দেওয়ান সাব্বির। পাঁচ ওভার বল করে সাব্বির সফল না হলেও সফল হয়েছেন শরীফ। নয় ওভার বল করে ২৫ রানের বিনিময়ে তুলে নিয়েছেন তিনটি উইকেট। মাশরাফি এসেছিলেন বদলি বোলার হিসেবে। নিজের প্রথম স্পেলে টানা আট ওভার বল করে এক মেডেন ও ২৮ রানের বিনিময়ে তুলে নিয়েছেন দুই উইকেট। দলের বাকি তিন উইকেটের মধ্যে দুইটি পেয়েছেন আসিফ হাসান ও একটি তুলে নিয়েছেন মোশাররফ হোসেন রুবেল।
বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে সানির দুর্দান্ত বোলিংয়ে পারটেক্স স্পোর্টিং ক্লাবকে ৭৮ রানে হারিয়েছে প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাব।  দোলেশ্বরের ২৮৭ রানের জবাবে পুরো ওভার খেলেও পারটেক্স করতে পরে ২০৯। তথ্যপ্রযুক্তি আইনে জেল খেটে আপাতত জামিনে আছেন সানি। মাঝে  খেলতে পারেননি বিসিএলে। জাতীয় লিগে খেলেছেন কেবল এক ম্যাচ। জামিনের মেয়াদ শেষ হবে এই লিগের মাঝেই। এত কিছুর মাঝে লিগে দল পাওয়টাও বড় ব্যাপার। বাঁহাতি স্পিনার সেই আস্থার প্রতিদান দিলেন ৩৩ রানে ৫ উইকেট নিয়ে। সকালে দোলেশ্বরকে দারুণ শুরু এনে দেন ইমতিয়াজ হোসেন ও আব্দুল মজিদ। উদ্বোধনী জুটিতে দুজন তোলেন ৮৪ রান। ৩৮ রানে ইমতিয়াজের বিদায়ের পর শাহরিয়ার নাফীস ফেরেন শূন্য রানেই। পুনিত সিংকে নিয়ে দোলেশ্বরকে এগিয়ে নেন মজিদ। ৬ চার ও ২ ছক্কায় ৮৩ বলে ৭৭ রান করেন মজিদ। ৬ চারে ২৯ করে ফেরেন পুনিত। মিডল অর্ডারের হাল ধরেন মার্শাল আইয়ুব। অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান ৬৩ করেন ৬৫ বলে। শেষ দিকে দুই ছক্কায় অপরাজিত ১৬ করেন অধিনায়ক ফরহাদ রেজা। ৯ বলে অপরাজিত ১৯ হাবিবুর রহমান। বড় রান তাড়ায় কখনোই জয়ের সম্ভাবনা জাগতে পারেনি পারটেক্স। ৩২ রানে হারায় তারা ৩ উইকেট। তৃতীয় উইকেটে জুটি গড়েন যশপাল সিং ও সাজ্জাদুল হক। তবে রান রেটের দাবি মেটাতে পারেনি এই জুটি। ৯১ রানের জুটি গড়তে লাগে ১৫৭ বল! ভারতীয় যশপাল পঞ্চাশ করতে খেলেন ৮৬ বল। এরপর গতি বাড়ালেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ৯৬ বলে করেছেন ৭৪। সাজ্জাদুল ৪৩ করেছেন ৮২ বলে। এই দুজনকেই ফেরান সানি। বাঁহাতি স্পিনার পরেও দাঁড়াতে দেননি পারটেক্সের আর কাউকে। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার সানি পেলেন ৫ উইকেট। ম্যাচসেরাও তিনিই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ